লাভ ইন ওমান – 33

আমার কাছা কাছি এসে ও থেমে গেল। ওর দু’চোখ ভরা জল নেমে যাচ্ছে। ও সোজা আমার চোখের দিকে তাকাল। আমি ওর চোখের ভাষা খুব ভালো করে বুঝতে পারি। ওর সেই করুণ চোখের দৃষ্টি কিছু না বলেও আমাকে অনেক কিছু বলে গেল। সেই চোখের দৃষ্টিতে লিখা ছিল,” প্লিজ আমাকে বাঁচাও। আমি ওই অপরিচিত লোকের সাথে যেতে চাই না।“ আমি স্পষ্ট পড়তে পারছিলাম সেই চোখের ভাষা। যে চোখ আমি গত ৭ দিন এক নাগাড়ে পড়েছি আমার মনের চোখ দিয়ে।

আমিও ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম অপলক দৃষ্টিতে । ঠিক তখনি খেয়াল করলাম যে ওর চোখের সেই করুণ দৃষ্টি বদলে গিয়েছে । চোখের জল চিকচিক করছে। ও আমার দিকে এমনভাবে তাকাল যে সে চাহনি আমার অন্তর ভেদ করে গেল। আহ্ কি সে চোখের দৃষ্টি । ওর এই রুপ আমি দেখিনি। আমি ঠিক বুঝতে পারলাম যে ও আমাকে বলছে,” আই হেইট ইউ। আই হেইট ইউ।“ এক সেকেন্ড দাঁড়াল না আমার সামনে। ওর বর বুঝতে পারছিলনা যে কি হোয়েছে। আমার দিকে তাকাল। সে পুরোপুরি কনফিউজড । একবার আমার দিকে তাকিয়ে সেও ওর পেছনে দৌড়ে যেতে লাগল।

আমি পেছন থেকে ওর চলে যাওয়া দেখছিলাম। ওর বর ওকে নিয়ে গাড়ী পারকিং-এর দিকে এগুচ্ছিল। ও পিছন ফিরে তাকাল আর দেখতে পেল যে আমি দাঁড়িয়ে আছি, পরাজিত, বিদ্ধস্থ, নির্বাক, নিশ্চল। সময় যেন থেমে গেল।
আমি ওর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলাম। ও চলে গেল। তখনি আমার মনে হোল যে ও সত্যি চলে গিয়েছে। ততক্ষন পর্যন্ত কেন যেন মনে হোচ্ছিল যে ও ছুটে এসে আমার বুকে ঝাঁপিয়ে পরে বলবে যে আমার ভালোবাসা ছাড়া ওর আর কিছুরই দরকার নেই । কোথাও সে যাবেনা ।

আর কোনদিন ওকে দেখতে পাবনা। আমি ওকে ওর স্বামীর কাছ থেকে ইচ্ছে করলেই কেড়ে নিতে পারতাম আমি জানি। ও এক সেকেন্ডও দ্বিধা না করে চলে আসত সেটাও আমি জানি। ওর করুণ আর্তি আমার হৃদয়ে কেন পৌঁছুল না।? আমি কি যাবো ওর পেছনে ? আমি জানি আমি যদি শুধু ওর নাম ধরে ডাকি ও সবকিছু ফেলে দৌড়ে চলে আসবে ওর সোনার কাছে। এ আমি কি করলাম ? কোথায় হারালাম ওকে ? কার সাথে যেতে দিলাম যে কিনা ওর কাছে সম্পূর্ণ এক অপরিচিত ছাড়া আর কেউ না। নিজেকে ধিক্কার দিলাম যে কেন আমি ওকে ওর বরের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিলাম না। আমিতো ইচ্ছে করলেই পারতাম।

কিন্তু আমি কোন কিছুই করলাম না। শুধু আমারই সামনে দিয়ে আমারই সোনাকে ছেড়ে দিলাম এক অজানার দিকে। আমি মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইলাম।। আমার লাগেজ নিয়ে এক সময় ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের দিকে এগিয়ে গেলাম।

আমি আমার ছোট্ট এ্যাপার্টমেনটে ফিরে এলাম। আমি শুধু আমার জুতা খুলে রাখলাম । বিছানায় শুয়ে পরলাম। আমি যে এক জর-পদার্থে পরিণিত হোলাম। কি করি কই যাই ? কার কাছে যাই ? আমি একা । চিৎকার করে কাঁদলাম। কেন ?কেন ?কেন ? বিধাতার কাছে বললাম,” কেন আমাকে হৃদয় দিয়েছিলে, আর দিয়েছিলেই যদি তবে কেন আমাকে এই বিচ্ছেদ সইবার মতো শক্তি দিলে না।? কখন যে ঘুমিয়ে পরলাম জানিনা।

ঘুম থেক উঠে চোখ খুললাম, বিছানা থেকে ওঠার শক্তি নেই আমার। হঠাৎ মনে পরল যে আমাকে বাংলাদেশে কল করতে হবে। ফোন করে জানালাম যে আমি ঠিক মতো পৌঁছে গেছি।
আমার বিছানা থেকে ওঠার মতো শক্তি ছিলনা। আমি শুধু ওর চিন্তাই করছিলাম। শুধু জানতে যদি পারতাম যে ও কেমন আছে তাতেই আমার মনটা হয়তো একটু শান্ত হোত। আমি জানি না যে আমার সামনে ওভাবে দাঁড়িয়ে থাকা নিয়ে ওর বর ওকে কিছু বলছে কিনা।

কেন আমি ওকে আমার ঠিকানা আর টেলিফোন নাম্বার দিলাম না। কেন অত শত চিন্তা করলাম ? কিভাবে ও সব ম্যানেজ করবে ? যদি ও ওর বরের সাথে মানিয়ে নিতে না পারে তবে কি হবে, কোথায় যাবে ওসব চিন্তা আমাকে পাগল করে তুলল। কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে কাটালাম আমি।। নেশার মতো লাগছিল। আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। কোথা দিয়ে ক’দিন পার হোয়ে গেল আমার মনে নেই।

সেই দৃষ্টি, সেই দৃষ্টি আমার সর্বস্ব কেড়ে নিল। আমি কোনমতেই পারলাম না ওর সেই করুণ মুখের আঁকুতি, বাঁচাও আমায়, সোনা বাঁচাও আমায়। আমি যেতে চাইনা ওই অপরিচিত লোকের সাথে। ওইসব কথাগুলো আমার চোখের সামনে ক্রমাগত ভাসতে লাগল । সোনা কিভাবে তুমি পারলে ? কিভাবে ? বল, আই হেইট ইউ, আই হেইট ইউ …।
অন্ধকারে আমার ঘুম ভেঙে গেল। ক্ষুধায় পেটের ভেতরতা জ্বলছিল। ঘরে নেই কোন খাবার। ফ্রিজের ভেতর পুরো এম্পটি। মাঝ রাতে একলা ঘরে আমি । আমি যেন এক বিশাল শুন্যের মধ্যে দিয়ে চলছি। চারিদিকে শুধু নিকশ কালো অন্ধকার। আমাদের সৌরজগত মিল্কিওয়ের ব্ল্যাক হোলের ভেতর দিয়ে ক্রমাগত ছুটে চলেছি, তার নেই কোন তল…আমি শুধু ডুবছি আর ডুবছি…

কার কাছে যাবো আমি, কোথায় খুঁজব আমি। আমার কি করা উচিত। গাড়ী নিয়ে মাঝ রাতে বের হোয়ে গেলাম…। উদ্দেস্যহীনভাবে ড্রাইভ করছিলাম। আবার ফিরে এলাম। মনে হোচ্ছিল হয়তো আমি এক্সিডেন্ট করে ফেলব। ওর সেই চাহনি আমাকে পাগল করে দিল। আমি ওকে আমার আশে পাশে অনুভব করতে পারলাম ।

আমি চিৎকার করে বললাম,” আমি স্যরি। আই আম স্যরি…আমাকে মাফ করে দাও । চলে এসো ।আমি আর কোনদিন তোমাকে চলে যেতে দেবনা। কিন্তু ও এলনা। ওই করুণ চোখ দু’টো আমার সামনে আমাকে ব্যাঙ্গ করতে লাগল । পাগল করে তুলল । মনে হোল আমি ক্রমাগত শুনে চললাম ,” কিভাবে পারলে সোনা ? হাও কুড ইউ ? “

ক’দিন পেরুল। আমি সারাদিন চুপ করে পড়ে রইলাম আমার ঘরে। । মনে হোচ্ছিল আমি বোধ হয় নেশা করেছিলাম। আমি জানিনা, আজ মনে করতে পারছিনা যে কিভাবে আমার দিন কেটেছিল আর রাত কেটে ছিল। চোখ বন্ধ করলেই ও আমার সামনে এসে আমাকে সেই করুণ চোখ দিয়ে দেখত আর বলত…হাও কুড ইউ ? আমার ঘুম হোত না। আমি স্লিপিং পিল নিতে শুরু করে দিলাম। আমি পাগল হোয়ে যাচ্ছিলাম। ওর স্মৃতি, ওর ছোঁয়া, ওর করুণ মুখ, ওর কথাগুলো, ওর আদরগুলো সবকিছু আমাকে অথর্ব করে দিল।

সপ্তাহ খানেক পর হটাৎ করে এক কল এল। ফোন ধরতেই ওপার থেকে বলল আরিযা যে সে নিউইয়র্ক এসেছে কিছুক্ষণ আগে। এসেই আমাকে কল দিয়েছে । কাল বিকেলে চলে যাবে । আমার সাথে দেখা করতে চায়। কেমন আছ জানতে চাইল আমি কেঁদে ফেললাম। আরিযা আমার কান্না শুনে বোকা হোয়ে গেল। তার কণ্ঠে উৎকণ্ঠা। আমাকে ওর কাছে যেতে বলল।
আমি কোন রকমে গোসল করেই চলে গেলাম ম্যনহাটনের পেন্সসিল্ভানিয়া হোটেলে যেখানে সাধারনত এয়ার হোসটেসরা এলে থাকে। আমি ফ্রন্টডেস্ক থেকে আরিযার রুমে কল দিলাম।

আরিযা আমার জন্যে ওয়েট করছিল। আমাকে দেখে আরিযা আমার সাথে ওর দেখা আমিকে মেলাতে পারছিলনা।। দৌড়ে ছুটে এল। আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরল। আমি কান্নায় ভেঙে পরলাম।।“ কি হোয়েছে ফ্রেন্ড ? তোমার একি অবস্থা ? তুমি কতদিন ধরে শেভ করনা। কি বেপার ?” আমি বললাম,” তোমাকে কতক্ষণের মধ্যে ফিরে আসতে হবে রুমে ?” আরিযা ঘড়ি দেখে বলল যে ৬/৭ ঘণ্টা সে বাইরে থাকতে পারবে। আমি আরিযাকে আমার ছোট্ট বাসাটায় নিয়ে এলাম।

আমি ওকে সব খুলে বললাম সেই ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে করাচী, যুদ্ধ, ওমান, হোটেলে থাকা, গালফ এয়ারের ফার্স্ট ক্লাসে থাকা, জে এফ কে পৌঁছে ওকে হারানো কোনকিছু বাদ দিলাম না… আরিযা নির্বাক হোয়ে আমার কথা শুনল। ক’ফোঁটা জল ওর চোখ থেকে পড়ল। আমাকে সান্তনা দিতে গিয়ে নিজেই কেঁদে বুক ভাসাল। “ এত ভালোবাসা তোমার মনে ?” কিভাবে পার তুমি এত ভালোবাসতে ? তোমার ও হোল দুনিয়ার সবচেয়ে লাকি গার্ল। তোমার ভালোবাসা নিয়ে ও বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে পারবে।

কিন্তু আমার মনে হোচ্ছে যে তুমি পারবেনা। চিন্তা করনা, ও যেখানেই থাকুক ভালো থাকবে। তোমার সাথে আবার দেখা করার সমস্ত পথ যখন বন্ধ তখন ওর ভালো থাকা ছাড়া উপায় নেই ।মন দিয়ে সংসার করবে। জান তুমি যখন ওকে আদর করছিলে তোমাকে আমি পর্দার পেছন থেকে খেয়াল করছিলাম। চুপ করে দেখছিলাম তোমাদের ভালোবাসা। উত্তরে আমি শুধু মৃদু হেসে দিলাম।

আরিযা বলল, আমি প্রতি সপ্তাহে একবার করে নিউইয়র্ক আসব। তুমি চাইলে প্রতি সপ্তাহেই আমাদের দেখা হ’তে পারে। হয়তো তোমার মন কিছুটা হোলেও ভালো হোয়ে যাবে। আমি তোমাকে প্রমিস করতে পারছিনা যে আমি তোমাকে ওর স্মৃতি ভোলাতে পারব কিন্তু আমি আপ্রান চেষ্টা করব যাতে তোমাকে ওর অভাব ভুলিয়ে দিতে পারি। বের হোয়ে যাবার আগে আমাকে জড়িয়ে ধরল আর আমার কানে কানে বলল,” সি ইয়উ ইন নেক্সট উইক।“ আমিও মন্ত্রমুগ্ধের মতো বললাম,” ওকে, নেক্সট উইক।“ এর পর থেকে আরিযা্ প্রতি সপ্তাহেই নিউইয়র্ক এসে আমার বাসাতেই উঠত আর থাকতো।

কোন কষ্টই আর ততোটা কষ্ট দেয়না সময়ের ব্যবধানে । কঠিন থেকে কঠিনতর ঘা একসময় শুকিয়ে যায়। যাকে ছাড়া জীবন চলবে না মনে হয় দেখা যায় তাকে ছাড়া জীবন ঠিকই কেটে যায়। আমি জানি আমি ঠিক ডিসিশনটাই নিয়েছিলাম। দু’জনেরই সংসার টিকে গেল। মনের মধ্যে একটা হাহাকার ঠিকই রয়ে গেল কিন্তু তবু মানুষ বেঁচে থাকে । বেঁচে থাকতে হয়।
আস্তে আস্তে আমি আমার নরমাল জীবনে ফিরে এলাম। কিন্তু আমি ওকে আমার মন থেকে সরাতে পারিনি। দিনে দিনে ওর প্রতি আমার ভালোবাসা বাড়তেই লাগল কিন্তু আমি জানতাম যে ওকে পাবনা। প্রতিটা দিন, প্রতিটা রাস্তায়, কোন শপিং মল অথবা কোন রেস্টুরেন্ট সব জায়গায় আমি ওকে ভেতরের এক কোণায়। ছোট্ট একটা ঘর বানিয়েছিলাম বড় যতনে ।

ফাস্ট ফরোয়ার্ড ১৭ বছর পরের কথা। জুন ২০০৯, আমি কুইন্স মলে গিয়েছিলাম । মেসিতে আমার নিজের জন্যে শার্ট, প্যান্ট, জুতা কিনে গেলাম আমার ছেলের জন্যে কিছু কিনতে । হঠাৎ করে আমার নাম ধরে কেউ যেন ডাকল। আমার নাম ধরে ডাকা আওয়াজটা চেনা চেনা মনে হোল। কে আমাকে ডাকছে আমি ঘুরে তাকাতেই আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হোয়ে এল। হার্ট বীট দ্রুত থেকে দ্রুততর হতে লাগলো । মুহূর্তেই আমি ফিরে গেলাম ১৭ বছর আগে। সেই ৭ দিনে যে ৭ দিন দিয়েছিল আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দরতম ক’টা দিন।

নীল জিন্স, শর্ট টপস, ঘার পর্যন্ত যত্নে সাজানো সুন্দর চুল, পায়ে হাই হীল আর গলায় আমার দেয়া সেই লকেটটা যার ভেতরে আমি ওর নাম লিখে দিয়েছিলাম । কখন যে আমার চোখ বেয়ে অস্রু ঝরা শুরু হোয়ে ছিল আমি বুঝতেও পারিনি। ওই মুখ, ওই চোখ, ওই চুল যে আমার কতো চেনা। মনে হোল দৌড়ে গিয়ে আমি ওকে জড়িয়ে ধরি, আদরে আদরে ভরিয়ে দেই আমার সোনাকে । কতো দিন ? কতো দিন দেখিনি ওই মুখ, কতো ছুঁইনি ওই চুল । কতোদিন পাইনি ওর ছোঁয়া । কতোদিন, কতোরাত আমি কাটিয়েছি শুধু ওর কথা ভেবে ।

ও একটা ৭/৮ বছরের বাচ্চা ছেলের দিকে দৌড়ুচ্ছে আর আমার নাম ধরে ডাকছে। আমি বুঝে নিলাম যে ও ওর কথা রেখেছে। ওর স্বামীকেও দেখতে পেলাম যে ওর পেছনে ছিল। সাথে একটা ১৪/১৫ বছরের মেয়ে। বুঝলাম যে ওর এক ছেলে আর এক মেয়ে। মেয়ে বড় ।

আমি তারাতারি করে মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে একটু দূরে দাঁড়িয়ে ওকে প্রান ভরে দেখতে লাগলাম। কতোটা দিন পর ওকে দেখলাম। ওই একটা মুখ দেখার জন্যে কতো বার আমি নিউইয়র্ক শহরের কতো মল ঘুরে বেরিয়েছি । কতো রাস্তা ঘাট আমি চষে বেড়িয়েছি । ওই একটা মাত্র মুখ শুধু একবার দেখব বলে কতোবার ভুল করে অন্য কারো দিকে তাকিয়েছি।
একটা কাপড়ের লম্বা স্ট্যান্ডের পেছন থেকে দেখছিলাম। ওকে আগের মতোই গরজিয়াস লাগছিল। তেমন কোন ওজন বাড়েনি। এখনো ওকে দেখলে মনে হবে যে ওর বয়স ২৫/২৬ এর বেশি না।

আবারো আমার চোখ দিয়ে জল চলে এল। আমি তারাতারি চোখ মুছে ফেললাম। ও আমাকে দেখেনি কিন্তু আমাকে দেয়া ওর কথা রেখেছে। ওর ছেলের নাম আমার নামে রেখেছে। ইচ্ছে করছিল যে আমি ওকে ঠিক আগের মতোই জড়িয়ে ধরি। আদর করি, বুকের ভেতরে নিয়ে লুকিয়ে রেখে দেই যাতে কেউ কোনদিন ওকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিতে না পারে। ওকে যেয়ে জিজ্ঞেস করি যে এতগুলো বছর ও কিভাবে কাটিয়েছে। কিভাবে সেই দিন ও ম্যানেজ করেছিল। ওকি সুখী হোয়েছে ? ইচ্ছে করল সামনে যেয়ে দাঁড়াই।। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে দেখা সুখী পরিবারের মাঝে আমি কোন ঝামেলা করতে চাইনি।

জানিনা কিভাবে ও গত ১৭টা বছর কাটিয়েছে। আমিতো চেয়েইছিলাম যাতে ও সুখী হয়। কি দরকার আবার ওকে সেই একি জায়গায় দাঁড়া করাতে যেখানে আমি ১৭ বছর আগে ওকে ঠেলে দিয়েছিলাম। মনে আছে ওকে একবার বলেছিলাম,” যদি আমাকে নিঃশ্বাস নেয়া আর তোমাকে ভালোবাসা এই দু’টোর মধ্যে যে কোন একটা বেছে নিতে হয় আমি তোমাকেই বেছে নেব। কারণ আমার জান আটকে আছে তোমার মাঝে। আমি আমার সবটুকু শক্তি দিয়ে বলব,” আই লাভ ইউ।“

মনে আছে ও আমাকে প্রমিজ করিয়েছিল যে যদি কোনদিন ওকে দেখতে পাই আমি যেন ওর সামনে না যাই। কারণ একবার সে আমাকে ছেড়ে চলে যেতে পেরেছিল কিন্তু দ্বিতীয়বার ও পারবে না বলেছিল। আমার যা যা ভালো লাগে তা তা সে করবে বলেছিল। সেই জিন্স প্যান্ট পরা, ছোট চুল রাখা, সুন্দর করে সেজে থাকা, আমার দেয়া লকেট ১৭ বছর এক নাগাড়ে পড়ে থাকা, সব চেয়ে বড় কথা হোল আমারি নামে ওর ছেলের নাম রাখা। আমার প্রতি তার সবটুকু ভালোবাসার আর কতো প্রমান আমাকে দেবে ও।
ও ওর কথা রেখেছে ওর সামনে না যেয়ে আমি আমার কথা রাখলাম।

আমি মেসি থেকে বের হোয়ে এলাম। আস্তে আস্তে রাস্তায় পার্ক করা গাড়ী কাছে এলাম। হাতের ব্যাগগুলো ভেতরে রেখে বাইরে এলাম। গাড়ীর ভেতরে আমার দম বন্ধ হোয়ে আসছিল। বৃষ্টি হোচ্ছিল মুসলধারে। আমার মনে আছে আমি বলেছিলাম যে আমাকে তুমি খুঁজে পাবে বৃষ্টির ফোঁটাতে । বৃষ্টি আমার কান্নাকে ধুয়ে নিতে লাগল আর বৃষ্টির জল আর আমার কান্না দু’টো মিলে মিশে একাকর হোয়ে গেল……বৃষ্টির জল আর চোখের জল দেখতে এক হলেও একমাত্র সেই জানে যে কোন জল কান্নার । শুধু মাত্র যে কাঁদছে সেই জানে কোন জল কান্নার আর কোন জল বৃষ্টির।
আমি বৃষ্টির মাঝে দাঁড়িয়ে ভিজেই চললাম……।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *