লাভ ইন ওমান – 3০

ফাতিমাহ এসে আবার আমাদের জন্যে দু’টো স্লিপিং রোব, আমার জন্যে শেভিং সেট উইথ কোলন, আফটার শেভ বাম, নেইল কাটার সহ অনেক কিছু ভরা গিফট প্যাক নিয়ে আর ওর জন্যে বিভিন্ন রকমের কসমেটিক্স ভরা গিফট ব্যাগ সাথে পারফিউমসহ রাজ্যের জিনিস । আমাদের সুটকেসে জায়গাই ছিল না । সেজন্যে ফাতিমাহ দু’টো ব্যাগও আমাদের দিল ওগুলো ক্যারি করার জন্যে ।
প্লেন ওড়ার ৪০ মিনিট পর আমাদের জন্যে লাঞ্চ সারভ করা হয়। মেনুতে দেখলাম যে আবার আমাদের ক্যাভিয়ার দেবে এ্যপিটাইজার হিসাবে। আমি আগে থেকেই বলে দিলাম যে ক্যাভিয়ার না ।ফ্রুট দিলেই চলবে। কতো রকমের যে খাবার এনে আমদের সামনে রাখল তার হিসাব নেই।

Bluehills

কিন্তু ও কিছুই খেল না। আমি জোর করে মুখে তুলে দিলাম । একটা পাখির বাচ্চাকে যেভাবে তাদের মা মুখের ভেতর থেকে খাবার এনে খাওয়ায় তেমনি আমিও ওকে চামচে করে খাবার মুখে তুলে দিচ্ছিলাম। ও আমার হাত ধরে কাঁদতে লাগল,” কে আমাকে এমন করে খাইয়ে দেবে বল। দেখা যাবে যে আমার জামাইর খেয়ালি হবে না যে আমি খেয়েছি না খাইনি।“
আমি ইচ্ছে করেই পরিবেশটা হাল্কা করার জন্যে বললাম,” তোমাকে না খাইয়ে দিলে ওই মাথার ব্যাটার মাথার উপরে একটা হাতুরি দিয়ে আঘাত করে দেবে দেখো তার পর আর ভুল হবে না ।“ আগের মতো ও আর আমাকে খামচি দিল না না হিট করলনা। শুধু অসহায়ের মতো আমার দিকে চেয়ে রইল ।

আমার বুকের ভেতরে চিন চিন করে ব্যাথা করতে লাগল। হায়রে আর মাত্র ক’টা ঘণ্টা তারপরেই এসবকিছু শুধু এক কষ্ট জাগানিয়া স্মৃতি হোয়ে থাকবে।
আমি সিটটাকে বেড বানিয়ে দিলাম। ও আমার পাশে শুয়ে পরল। আমি ব্লাংকেট আমাদের উপর দিয়ে দিলাম। আমার বুকের সাথে ও লেগে রইল। এমন সময় ফাতিমাহ এল। আমাদের একি সাথে জরাজরি করে শুতে দেখে মুচকি হেসে বলল,” ওঠার দরকার নেই। আমি শুধু উইন্ডো ক্লোজ করতে আর লাইট ডিম করতে এসেছিলাম।“ আমি থ্যাংকস জানালে ফাতিমাহ চলে গেল আমরা পুরো এরিয়াটা নিজের করে পাব বলে।

কথাও কোন শব্দ নেই। মনে হয় একটা পিন পরলেও হয়ত শুনতে পাব। শুধু একটা বাযিং শব্দে বোঝা যাচ্ছিল যে ইঞ্জিন চলছে। ও আমার কানে কানে বলল,” সোনা, একবার শেষ বারের মতো আমাকে আদর কর। আমি তোমার ভালোবাসা পেয়ে মরে যেতে চাই। “ উই মেড লাভ ফর দ্য লাস্ট সময় । ও খুবই এঞ্জয় করল।

ও ওর চোখ বন্ধ করে ছিল। আমি বললাম “প্লিজ চোখ খোল, আমি তোমার চোখের ভেতর দিয়ে তোমার ভেতরের আত্মাকে দেখতে চাই। যে আত্মা কিনা শুধু আমার জন্যেই ধুঁকে ধুকে মরছে। “ কিন্তু ও চোখ খুলল না,” না সোনা। আমার কাছে সবকিছু স্বপ্নের মতো লাগছে। এক মিষ্টি স্বপ্নের মতো । আমি জানি চোখ খুললেই সেই স্বপ্ন হারিয়ে যাবে।“

আমি ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম। ওর চেহারা, ওর নাক ওর চোখ, ওর নিশ্বাস যে আমার কতো চেনা। মনে হয় বিধাতা ওকে আমার জন্যে ই বানিয়েছিলেন। মনে মনে ভাবছিলাম,’ আচ্ছা যদি সব কিছুই আগে থেকেই ঠিক করা থাকে তবে ওকে আমার জন্যে কবে থেকে ঠিক করা হোল ? আর কি হিসাবে ঠিক করা হোল।? একে কি পরকিয়া প্রেম বলে ? নাকি এ শুধুই ভালোবাসা? একবার মনে হোল যে এটাতো শুধু শরীরের ভালোবাসা নয়? কিন্তু তাই বা কেমন করে হবে?

শুধু শরীর হলেতো ওর জন্যে আমার এতোটা কষ্ট লাগার কথা না। ওর আমাকে ছেড়ে যাবার চিন্তা করতেই আমার হার্ট বিট বন্ধ হবার কথা না। ওকে আর দেখতে পাবোনা এ কথা ভাবতেই আমার দু’চোখ জলে ভরে যেতো না। আমার জন্যে ওর চোখে যে ভালোবাসা তাকেতো আমি কোনমতেই শুধু শরীরের খেলা বলে মেনে নিতে পারছিনা। আসলে ভালোবাসা, প্রেম এগুলো কি ? কোন সে টান, কি এমন অশরীরী বাঁধন যা কিনা কোন সুতো দিয়ে বাধা নেই ? বিনি সুতোর মালা কি তা হোলে এটাকেই বলে ?

কেন এই টান আর এই টানে কেন আমার এমন কষ্ট হোচ্ছে ? কোন সে টান যা ক্রমাগত আমাকে ওর দিকে আর ওকে আমার দিকে সুনামির মত সব কিছু ধ্বংস করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ? আমি কে যার জন্যে ও এমন করে কাঁদছে ? কেন ওর জন্যে আমারই বা এতো কষ্ট হোচ্ছে ? ও তো আমারো কিছু হয়না।

আমি ওর দিকে তাকিয়েই ছিলাম। আমি জানি সময় তাড়াতাড়ি শেষ হোয়ে আসছে। মাত্র ৪ তা ঘণ্টা বাকি আছে জে এফ কে তে পৌছতে। এখন ওর স্কিন এখন বেশি ফ্যাকাশে মনে হচ্ছে। ওর মুখের সেই গ্লোটা মনে হয় হারিয়ে গেছে। ওর সিল্ক্য স্মুথ স্কিন তাকে কেমন যেন রক্তহিন সাদাটে দেখা যাচ্ছে। এয়ারপ্লেনের ভেতরের খুব ড্রাই বাতাসে অনেক সময় স্কিন শুকিয়ে যায় আর তার জন্যে ই হয়তো এরকম লাগছে।

আমি ওর গিফট বক্স থেকে একটা ট্রাভেল সাইজ বডি লোশন নিয়ে ওর হাতে মেখে দিলাম। ও ওর হাত উঁচু করে আমাকে রাব করতে দিল। ও ওর একটা পা একটু উঠিয়ে দিল। আমি ওর পায়েও লোশন লাগিয়ে দিলাম। ও কান্নায় ভেঙে পরল । আমি ও নিজেকে আটকিয়ে রাখতে পারলাম না। আমি একটা সাহসী ভাব নিয়ে ঠিকই রইলাম কিন্তু বেশিক্ষণ পারলাম না। আমি ও ওকে ধরে কেঁদে ফেললাম।

আমাকে ধরে বলল,” প্লিজ তোমার ওয়াইফের কাছে চলে যাও। আমার জন্যে চিন্তা করবেনা। আমি বেঁচে থাকব কোন না কোনভাবে। যতোটুকু ভালোবাসা তুমি আমাকে গত ৬দিন দিয়েছ ওটুকু নিয়েই বাকি জীবন কাটাতে পারব। আমার জন্যে অতোটুকুই যথেষ্ট । আমি জানি কি প্রানপণে ও সাহসি হবার চেষ্টা করছে। আমি ওর চোখ মুছে দিলাম। ও দিল আমার ।

আমি বললাম,” শোন, তুমি এখন তোমার বরের সাথে সংসার করনি সেজন্যে বুঝবে না যে কি ভাবে তার সাথে ব্যাবহার করবে। কোনদিন , কোন সিচুয়েশনেই তুমি স্বীকার করবেনা যে তোমার কোন সম্পর্ক ছিল। হয়তো তোমার কোন দুর্বল মুহূর্তে তুমি হয়তো আবেগের বশে তুমি আমাদের সম্পর্কে কিছু বলে দেবে আর সে ওই মুহূর্তের সুযোগ নিয়ে তোমার জীবনটা নরক বানিয়ে তুলবে । কোনদিন কিছুই বলবে না। সে তুমি তাকে যতোই ভালোবাসনা কেন।“

ও আমার মুখে হাত চাপা দিয়ে ধরে বলল,” তুমি আমার সম্পর্কে জাননা দেখে বলছ। আমি আর কাউকে ভালোবাসতে পারবনা। আমি তার সাথে থাকব। তার বাচ্চার মাও হয়তো হব কিন্তু ভালোবাসতে পারবনা। আমি তোমার জায়গায় তাকে বসাতে পারবোনা কোনদিন। ভালোবাসা কি আমাকে তুমিই বুঝিয়েছ আর এখন বলছ তাকে ভালোবাসতে ? “ মোটেই না। আর কাউকে ভালোবাসার আগে আমি নিজেকে নিঃশেষ করে দেব। আমি যা বলি তাই করি। এমনিতে আমাকে দেখে তা হয়তো মনে হয়না কিন্তু আমি যা বলি তাই করি।“

আমি বললাম,” ভালোবাসা ছাড়া এই জীবন খুব লম্বা মনে হবে সোনা। মনে রেখ তোমাকে বাঁচতে হবে। কোনদিন তোমার বরকে কোন সুযোগ দিও না যাতে সে তোমাকে কিছু বলতে পারে। কাউকে বলবেনা কোনদিন। তোমার আমার এই সিক্রেট তুমি আমি দু’জনেই আমাদের কবরে নিয়ে যাব।“

জীবন হোল বহতা নদীর মতো, জীবন চলেই যায়, কোথাও থেমে থাকেনা। এই জীবনে চলার পথে অনেকরই সাথে পরিচয় হয়। সবার সাথেই যে একটা সম্পর্ক হয় তাও না। কাউকে ভালো লাগে আবার কারো দিকে ফিরে তাকাতেও ইচ্ছে করে না। তোমার সাথে জীবনের এমন এক মোড়ে পরিচিত হোলাম যে সেই মোড় থেকে দুজনের রাস্তা চলে গেল একেবারে উল্টো । তুমি চলে যাবে ঠিক আমার বিপরীত রাস্তা দিয়ে। আমার শত ইচ্ছে থাকলেও তোমাকে নিয়ে কোথাও চলে যেতে পারবনা।

এই যে সামান্য সময়ের পরিচ্ইয়, সেটা শুধু স্মৃতি হোয়েই থাকবে। কেউ কেউ সারা জীবন একজনের সাথে কাটিয়ে দেয়, কিন্তু সেখানে থাকেনা কোন ভালোবাসা, আবার দেখ কার সাথে দুই মুহূর্ত কাটালে সেই সময়টুকুর স্মৃতি নিয়েই সারাটা জীবন পার করে দেয়া যায়। মনে করো এই কটা দিনের স্মৃতি তোমার আর আমার কাছে রয়ে যাবে এক অসামান্য কষ্ট হোয়ে। যে কষ্টকে আমরা দু’জনেই লালন করবো আমারদের সবচেয়ে প্রিয় হিসাবে।

আমি তোমাকে কোনদিনই ভু্লবোনা সোনা আমার। জানি তুমিও ভুলবেনা আমায়। বাস্তবতা আমাদের দুজনকেই আমাদের ভুলিয়ে দেবে, এভাবেই রয়ে যাবে আমাদের স্মৃতি। ভুলেও যেন কোনদিন তুমি কাউকে বলে দাও। আমাদের এই ক’দিনের জীবন শুধু স্মৃতি ছাড়া আর কিছুইনা সোনা। দুজনেই চলে যাব দুজনের জীবন থেকে। মানুষের জীবনে স্মৃতি খুবই মূল্যবান। সেজন্য আমাদের এই অসামান্য মূল্যবান স্মৃতিকে ধরে রেখ।

ও চুপ করে শুনছিল । অস্রু তীব্র বেগে ছুটে আসছিল ওর চোখ বেয়ে। আমি ওর চিবুক উঁচু করে বললাম” আমার দিকে তাকাও। আমার কথা শোন। আমি তোমার সাথে সবসময়ি থাকব। যদি কোন এক মধ্য রাতে তোমার ঘুম না আসে, কষ্টে তোমার বুক ভেঙে যায়, আমার কথা মনে কোর । যদি কোন এক অলস দুপুরে বাইরে হয়ত বৃষ্টি হচ্ছে বা স্নো পড়ছে, যদি তুমি নিজেকে একা ফীল কর তবে ভেব আমার কথা, যদি কষ্টে তোমার দম বন্ধ হোয়ে যায়, যদি ব্যাথায় তোমার হৃদয়টা কুঁকড়ে যায়, যদি আর পথ চলতে না পার তবে মনে কোর আমি আছি তোমার সাথে ।

যদি প্রচণ্ড রোদের মাঝে ভর দুপুরে একলা হেঁটে যাও পেছন ফিরে দেখো আমি ঠিকই আছি তোমার ছায়া হোয়ে।

দিনের শেষে বা কোন এক নির্জনতায় জানালার ধারে বসে থেকে কোন এক বৃষ্টি ভেজা বিকেলে যখন তুমি সময় পাবে একা থাকার, নিজেকে নিয়ে ভাবার (বর বা বাচ্চারা ছাড়াও একটা মেয়ের নিজস্ব কিছু থাকে যা কিনা একান্তই তার নিজের… কারো কোন অধিকার নেই সেই চিন্তাগুলো বা স্মৃতিগুলোর উপরে… স্মৃতি মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে, স্মৃতি মানুষের জীবনকে করে সমৃদ্ধ। স্মৃতির এই জাবরকাটা মানুষকে দিতে পারে বেঁচে থাকার আশ্চর্য এক নতুন প্রেরণা।)।

সেই একটু সময় তোমার একান্তই নিজের, তুমি হারিয়ে যাও, বিলীন হোয়ে যাও নিজেরই ভেতরে। আতি-পাতি করে খুঁজে নিয়ে আসো স্মৃতি নামের ক’টা মুক্তো ঝিনুক। প্রতিদিনের জীবনের বাঁধাধরা নিয়মের মাঝে যে ঝিনুক মুক্তো হারিয়ে যায় তোমারই অজান্তে।

যদি মাঝরাতে কোন এক দুঃস্বপ্ন দেখে তোমার ঘুম ভেঙ্গে যায়, যদি দম বন্ধ হয়ে যায় তবে ভয় পেওনা। জেনে রেখো আমি তোমার মাথার পাশে বসে তোমাকে শক্ত করে ধরে আছি যেমন করে তুমি আমাকে ধরে রাখতে। তোমার চোখের পাতায় চুমু দিয়ে তোমাকে ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছি।

বলতো দেবদাসকে কে বেশি ভালোবেসেছিল? পার্বতী না চন্দ্রমুখী? আমার মনে হয় সেটা কোনদিনই জানা যাবেনা। আসলে কারো ভালোবাসাই অন্য কারো ভালোবাসার মতো না। প্রতিটা ভালোবাসাই ইউনিক।

মানুষ মূলত একা। অনেকেই আছে যে কোন স্টেডিয়ামের হাজারো মানুষের মাঝে থেকেও একেলা বোধ করে। জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত নিয়ে ভাবতে থাকে অনেকের মাঝে থেকেও। আসলে ভালোবাসা ছাড়া আর আছেই বা কি? এই ভালোবাসাই দুনিয়াকে বেঁধে রেখেছে একে অন্যের সাথে। নইলে দু’জন সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষ (বিশেষ করে বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে) কিভাবে একই সাথে, একই বিছানায় দুটো দেহ মিলে এক হোয়ে যায়। কিভাবে একে অপরের ভাষা বুঝতে পারে শুধু চোখের দিকে তাকিয়েই। এগুলো সবই এসেছে ভালোবাসা থেকে।

জীবনে ভালোবাসার খুবই দরকার আছে। এটা এমনই একটা অনুভূতি যে যে যতো পায় সে ততো বেশী পেতে চায়। সেদিক দিয়ে আমি বোধহয় খুবই ভাগ্যবান। ভালোবাসা যে এল কতো দেশের কতো ভাষার কতো মেয়েদের থেকে তা কি করে বলি বলো ? আমি আসলে ভালোবাসতে ভালোবাসি। আমার কাছে ভালোবাসার ধারনাটাই খুব জরুরি। প্রতিটা লোকের প্রতিটা কাজের পেছনে কোন না কোন যুক্তি আছে। আমারো এই ভালোবাসা নিয়ে কিছু নিজস্ব যুক্তি আছে যে এত ভালোবাসা পেয়েও কেন আমি আরো বেশি ভালোবাসা পেতে চাই।

তুমি হয়তো বলবে যে এটা কি করে সম্ভব যে একজন লোক এতো ভালোবাসার কথা বলে ? আসলে মানুষ জন্মগতভাবে বহুগামি। বিশেষ করে পুরুষ মানুষ। একজন পুরুষ একই সাথে একজনের চেয়ে বেশী মানুষকে ভালোবাসতে পারে। তাছাড়া ভালোবাসা মানেই যে সেই মেয়েটাকে আমার নিজের করে পেতে হবে এমনটা নয়। এটা হোতে পারে প্ল্যাটনিক ভালোবাসা। আবার এটা হোতে পারে শুধুই শারিরিক ভালোবাসা।

শুধু শারিরিক ভালবাসাও যে ভালোবাসা নয় সেটাই বা তুমি কি করে বলবে? কেউ জানেনা যে কার মনের ভেতরে কি চলছে? আমার মনটা যদি কোনভাবে স্ক্যান করা যেত তবে হয়তো দেখা যেতো যে আমার মনের ভেতরটা হাজারো রঙ দিয়ে বানানো। সেখানে আছে জীবনের ভালোবাসার মুহূর্তগুলো বিনি সুতোয় গাঁথা মালার মতো একটার পর একটা সাজানো।

প্রতিটা লোকের একটা নিজস্ব জগৎ আছে। আর সেটা থাকা উচিতও। যেখানে সেই হোল একচ্ছত্র অধিপতি। সেই মনের ভেতরে আর কারো ঢোকার অনুমতি নেই। নিজের কাছেই মানুষ সবচেয়ে বেশি সৎ হোতে পারে। মানুষকে বুঝতে হবে যে তার হৃদয় কি চায় । জানো আমি বোধহয় প্রফেসনাল হৃদয় রক্তাক্তকারী। আমি যেমন আমার নিজের হৃদয়কে রক্তাক্ত করতে ভালোবাসি তেমনি অন্যের হৃদয়কেও রক্তাক্ত করতে বা দেখতে ভালোবাসি। আমার কথা হোল শুধু আমার হৃদয়েই কেন রক্তক্ষরণ হবে? যার সাথে ভালোবাসাবাসি হোচ্ছে সেওতো আমারই মতো একজন মানুষ। পার্থক্য হোল যে সে মেয়েমানুষ আর আমি পুরুষমানুষ। তাহোলে শুধুই আমার কষ্ট কেন হবে?

একবার অশ্রু ভেজা চোখ হৃদয়কে অভিযোগ করে বলল,”কান্নার বোঝা শুধু আমি একাই বয়ে বেড়াবো কেন?” হৃদয় মুচকি হেসে উত্তর দিল,”কে স্বপ্ন দেখেছিল শুনি?”

চোখ স্বপ্ন দেখায় বলেইতো হৃদয়ে উঠে এতো ঢেউ, স্বপ্ন ভেঙ্গে যায় কাঁচের মতো। একেবারে নির্বোধের মতো বেঁচে থাকাতে নেই কোন আনন্দ। বেঁচে আছি এটাইতো সবচে’ বড় আনন্দ আর সেখানে যদি যোগ হয় কারো ভালোবাসা তাহোলে এর চেয়ে সুন্দর আর কিছু হোতে পারেনা। ভেবে দেখো যদি আজ পৃথিবীতে সবাই শুধু ভালোবাসতো তাহোলে দুনিয়া জুড়ে এতো হানাহানি, এতো যুদ্ধ হোতনা। সেজন্যেইতো ভালোবাসা আর সেক্স এর মিল হওয়া এতো জরুরী। যে ভালোবাসা আর সেক্স নিয়ে থাকে সে কখনো কোন রক্তারক্তি বা কোন বীভৎস অন্যায় এ যোগ দিতে পারেনা।

জানো আমার এক ফ্রেন্ড ছিল। সে সবসময় বলতো যে সে আমাকে আপন করেই ছাড়বে। ভাগ্যের কি পরিহাস দেখো যে সে তার কথা ঠিকই সত্যি করেছে । সে আমাকে আপন বানিয়েই আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে। আর সত্যি কথা কি জানো, এইসব অভিজ্ঞতা আমাকে ভালোবাসা দিয়ে আরো বড় করে তুলেছে। এক জীবনে অনেকেরই সুযোগ হয়না এক ভালোবাসা পাবার। আর আমি এতো ভাগ্যবান যে আমার ভালোবাসার ক্ষুধা শেষ হয়না আর সেই ক্ষুধা মেটাতে আমি পেয়ে যাই ভালোবাসার জন্যে একজন,দুইজন,তিনজন…।

যে মনটা তোমার প্রতিদিনের জীবনে ব্যস্ততার মাঝে লুকিয়েছিল …তুমি নিজেও জানতে না যে তুমি আসলে যতটুকুই হোক না কেন … যে ভাবেই হোক না কেন ভালোবাসার কাঙ্গাল। তোমার প্রাত্যহিক জীবনে হয়তো তুমি সুখেই ছিলে। কিন্তু এর বাইরেও তোমার একটা সত্ত্বা আছে। আছে ভালোবাসা দেয়ার মতো একটা মন। আমি খুশি যে এতদিন পর হোলেও আমি তোমার সত্ত্বাকে একটু হোলেও নাড়া দিতে পেরেছি। সব ভালোবাসাই প্রেমের পরিণতি লাভ করেনা। আমার মনে হয় এটা হওয়াও ঠিক না। কিন্তু তোমার মনের এই নাড়া খাওয়া মুহূর্তগুলো তুমি চিরদিন লালন করবে। ধারন করবে। এর মূল্যই বা কম কিসের? টাকা দিয়ে কিনতে পারবেনা এমন অনুভূতিগুলো। এটা অমূল্য।

আমি নিশ্চিত যে তুমি নিজেই অবাক হোচ্ছ যে তুমি কতোটা ভালোবাসতে পারো। এই যে ফীলিংস, এই যে আহুতি এটাকে মরে যেতে দিওনা। বাঁচিয়ে রাখো। বয়স কোন ব্যাপারই না। আমি যেমন এখনো ২১ বছরেই পড়ে আছি। আমিও সিওর যে তুমিও তেমনি ফীল করবে। মনটা হোল অনেকটা পানির মতো । যে পাত্রে রাখবে সে পাত্রেরই আকার ধারণ করবে। মানুষের মন চিরদিনই আশা করে ভালোবাসা পেতে, আর ভালোবাসা দিতে। সেজন্যেই ভালোবাসা দিতে কার্পণ্য করবে না। আর সুযোগ পেলে নেবে দু’হাত ভরে, আঁচল ভরে।

মনে প্রেম রেখো । কে জানে কোন মোড়ে লুকিয়ে আছে তোমার ভালোবাসার মানুষ। তুমি জানবেও না যে কখন কোন দিক দিয়ে ভালোবাসা এসে গ্রাস করেছে। সেটা তোমার বরের কাছ থেকেও আসতে পারে। কিন্তু তোমাকে রেডি থাকতে হবে। যাই আসুক না কেন … আঁকড়ে ধরবে। যদিও জান যে হয়তো কষ্ট পাবে। তবুও ভালোবাসার প্রতি বিশ্বাস হারাবেনা।

একটা সুন্দর কবিতা শোন যাতে আমার কথা শেষ হোলেও তোমার ঠোঁটের কোণে মিষ্টি একটা হাসির রেখা ফুটে থাকে…।। কোলকাতার কে যেন লিখেছিল মনে নেই…

“যদি মরে যাই, ফুল হোয়ে যেন ঝরে যাই
যে ফুলের নেই কোন ফল, যে ফুলের গন্ধই সম্বল
যে গন্ধের আয়ু একদিন, উতরোল রাত্রিতে বিলীন
যে রাত্রি তোমার দখলে, আমার সর্বস্ব নিয়ে জ্বলে
যদি মরে যাই, ফুল হয়ে যেন ঝরে যাই”

এটুকুই শুধু আমার ইচ্ছে। একদিন ফুলের হোয়ে ঝরে যাব এই পৃথিবী থেকে। আমি শুধু রবি ঠাকুরের মত কোরে বলব,”মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই ভালোবাসার লোক।’

একনাগাড়ে কথাগুলো বললাম। ও শুধু নির্বাক হোয়ে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে রইল। আমি ওকে একটু ধাক্কা দিতেই ও মনে হয় বাস্তবে ফিরে এল। কাঁদতে কাঁদতে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল,”কি ভীষণ পাওারফুল তোমার কথাগুলো সোনা। জানিনা কিভাবে পার তুমি? তোমার মতো আর কেউ নেই।”

আমি আবার বললাম,”যদি তোমার আগে আমি মরে যাই তবে আকাশ, বাতাস, স্বর্গ, মর্ত ভেদ করে তুমি ঠিকই জেনে যাবে, তোমার মন ঠিকই বলেবে যে আমি আর নেই।। আমাকে খুঁজে দেখো মধ্য রাতের ওই দূর আকাশে মিটিমিটি করে জ্বলা এক নক্ষত্রের মাঝে।”

ও জোরে বলে উঠলো, “না তুমি মিটিমিটি করে জ্বলা কোন নাম না জানা তারা নও, তুমি সবচেয়ে উজ্জ্বল তারা, তুমি আমার ধ্রুব তারা যে কিনা লক্ষ কোটি তারার মাঝে সবচেয়ে বেশী আলো ছড়ানো সেই ধ্রুব তারা।“

বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো চোখ থেকে কান্না ঝরতে লাগল। বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরে বললাম,” কোন এক নির্জনে যদি আমার কথা মনে করে তোমার চোখে আসে বাঁধভাঙা জল। ওই জল তুমি মাটিতে পড়তে দিও না। মনে রেখ আমি লুকিয়ে থাকব সেই চোখের জলে। মনে রেখ আমিও সেই বৃষ্টির ফোঁটা হোয়ে তোমারই সাথে কেঁদে যাব।

আমাকে জোরে জড়িয়ে ধরে বলল,” আমি জানি, আমি জানি সব কিছু কিন্তু আমাকে বল যে আমি এই জীবন কিভাবে পার করব।? খুব সহজে বলা যায় কিন্তু আমি কি করে একজন লোকের সাথে সারাটা জীবন কাটিয়ে দেব যেখানে আমি জানি যে আমি তাকে কোনদিন ভালোবাসবোনা। কেন তুমি আমার জীবনে এলে ? আমিতো আমার ছোট্ট জীবনে ভালোই ছিলাম। আমি আমার বরকে চিন্তাম না কিন্তু ভেবেছিলাম যে একসাথে থাকলে আস্তে আস্তে তাকে আমি ভালোবাসতে পারব। মাত্র ক’টা দিনে তুমি আমাকে একেবারে শেষ করে দিলে। কখনো কি চিন্তা করেছ যে আমি কি নিয়ে থাকব। ?”

আমি সব সময় চেয়েছি যে আমি কাউকে ভালোবেসে বিয়ে করব। বিয়ে হোল কিন্তু ভালোবাসা এলনা আর এই সময়ে তুমি এলে আমার পুরো অস্তিত্ব তুমি উপড়ে ফেলে দিলে। গত ৬ দিনে আমার তোমাতে অভ্যেশ হোয়ে গিয়েছিল। আমি তোমার উপরে নিজেকে সম্পূর্ণ ছেড়ে দিয়েছিলাম যে তুমিই সব করবে। আর এখন তুমি বলছ যে আমরা একসাথে হোতে পারবনা। ? কখনোকি ভেবেছ যে এই ছোট্ট মেয়েটা কি নিয়ে বাঁচবে ?

আমি ওর চোখের জল আমার জিব্বা দিয়ে মুছে দিলাম। এত কান্নার মাঝেও ও বলে উঠল,” ইয়াক।। আর সাথে সাথে একটা স্টুপিড মেয়ের মতো হেসে দিল। ও আমার উপরে ঝাঁপিয়ে পরল। আমি ওকে ধরে ফেললাম আর বুকের সাথে লেপটে রাখলাম।

আমি খেয়াল করছিলাম যে আমাদের প্লেন যত নিউইয়র্কের কাছে আসছিল ও ততোই অশান্ত হোয়ে উঠছিল। আমার চোখে চোখ রাখল। মনে হোল ও আমার হৃদয়ের ভেতরে স্ক্যান করে দেখছে যে আমার হৃদয়ে ওর জন্যে কতোটুকু ভালোবাসা জমা হোয়ে আছে । বলল,” আমি কি তোমাকে কোনদিন আর দেখেতে পাবনা ?” আমি জানিনা যে কি উত্তর দেব। আমার কাছে ওর কথার কোন উত্তর ছিলনা।

শেষে বললাম,” তোমার কি মনে হয় যে দেখা হওয়াটা ভালো হবে আমাদের দু’জনেরই জন্যে ? আমি জানি একবার আমি তোমাকে ছাড়ছি কিন্তু দ্বিতীয়বার আমি তোমাকে ছাড়তে পারবনা । সেজন্যে দেখা না হওয়াই ভালো হবে। তাছাড়া তুমিও কিন্তু একই কথা বলেছ যে আমি যেন কোনদিন তোমার সামনে না আসি। “

“ আমি কি তখন বুঝতে পেরেছিলাম যে আমার কতো কষ্ট হবে তোমাকে ছাড়া?” তোমার সাথে যোগাযোগের কোন উপায়ই এ তুমি রাখবে না “।? ওর কণ্ঠে ছিল কি এক বিষণ্ণতা। মনে হোচ্ছিলও যেন ও আঁচল তুলে ভিক্ষা চাচ্ছে আমার কাছে। আমাকে যে শক্ত হতেই হবে। নইলে দু’টো ফ্যামিলি একেবারে শেষ হোয়ে যাবে। আমি বললাম,” যদি আমি তোমাকে আমার ঠিকানা বা টেলিফোন নাম্বার দেই তবে তুমি কি করবে জান ? যখন মানুষকে কোন অপশন দেয়া হয় তখন সাধারনত মানুষ সেই অপশনটাই বেছে নেয় ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *