লাভ ইন ওমান – ২৯

আমি আরিযাকে অনেক অনেক থ্যাংকস জানালাম। ও আমাকে বলল,” এমনকি আমি তোমাদের দুইজনকেই ভালো বেসে ফেলেছি।“ আমাকে বলল,” জানিনা যে তোমার মাঝে কি আছে, যে কোন মেয়েই তোমার প্রেমে পড়বে। তুমি আমাকে ফ্রেন্ড না বানালে অথবা তোমার সাথে তোমার স্ত্রী না থাকলে আমিও তোমার প্রেমে পড়ে যেতাম।“ আমি হা হা হা করে হেসে ফেললাম। আমাদের হাপি ম্যারিড লাইফের উইশ করে আর কিছু গিফট দিয়ে চলে গেল।
“ কি আমার কথাই ঠিক কিনা বল। আমি বলেছিনা যে তোমার মধ্যে কি যেন একটা আছে যা তোমাকে অন্য সবার চেয়ে আলাদা করেছে। আর তোমাকে জানার পরতো আমার কোন সন্দেহই নেই যে তোমার মত এতো কেয়ারিং কাউকে সহজে খুঁজে পাওয়া যাবেনা। দেখেছ যে আরিযা কি বলল ? সেও তোমার প্রেমে পড়ে গিয়েছে ।“

love2

“কেন হিংসে হোচ্ছে ? “ আমি গিফটগুলোকে ওর সুটকেসে ভরে দিতে দিতে জানতে চাইলাম।
ও বলল,” না গর্ব হচ্ছে যে আমি এমন একজনকে ভালোবাসি যাকে আরো অনেকেই ভালোবাসে কিন্তু পেয়েছি তাকে শুধু আমি আর সেই ভালোবাসার মানুষটা আর কাউকে না শুধু আমাকে ভালোবাসে।“ বলে আমাকে জড়িয়ে ধরল।
পাইলট অ্যানাউন্স করল যে আমরা আর আধা ঘণ্টার মধ্যে ই লন্ডনের হিথ্রোতে নামব । আমি জানালা খুলে দিলাম। আস্তে আস্তে লন্ডন সিটি আমাদের নিচে দেখতে পেলাম। দি টাওয়ার ব্রিজসহ সবকিছু নজরে এল। ও খুব খুশি হোল।

হঠাৎ করে ও বলল,” আচ্ছা আমরা যদি এখানে প্লেন থেকে নেমে যাই কাউকে কিছু না বলে তাহলে কেমন হয়? যদি আমরা পালিয়ে যাই? তুমিতো আমেরিকান সিটিজেন, আমি জানি যে তুমি এখানে ভালো একটা জব জোগার করে নিতে পারবে। আর আমরা দু’জনে একসাথে বাকি জীবন কাটিয়ে দেব ।“
আমি জিজ্ঞেস করলাম,” তুমি কি জান যে আমরা সুখী হব? একসাথে না থাকলে বোঝা যাবেনা যে আসলেই কি সুখী হব কিনা।। আমাদের দু’জনেরই জীবনে আরো কেউ আছে যাদের জন্যে আমরা দায়বদ্ধ। আমার স্ত্রী, ছোট্ট মেয়ে আর তোমার বর । তোমার বরকে যদি আমি নাও ধরি যেহেতু তুমি এখনো ওর সাথে সংসার করনি তার পরেও আমিতো আমার স্ত্রী আর বাচচাকে ফেলতে পারিনা। যদি আমি ম্যারিড না হোতাম তবে বিশ্বাস কর আমি এক সেকেন্ডও চিন্তা না করে তোমাকে নিয়ে যে কোন জায়গায় ঘর বাঁধতে পারতাম। আমার স্ত্রী আর বাচচা তো কোন অপরাধ করেনি। আমি সেটা কিভাবে ভুলে যাই বল।।?

ও শুধু মুখ ফুটে বলল,” আই আন্ডারস্ট্যান্ড”। আমাদের প্লেন দু’টো চক্কর দিয়েই নেমে গেল নীচের দিকে। আমরা লন্ডনের হিথ্রো এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করলাম। প্লেন থামার পরও আমরা বসে রইলাম। আমি চিন্তা করছিলাম যে এখান থেকে উঠে যদি নীচে যাই আর তখন যদি আমাদের আর ফার্স্ট ক্লাসে ঢুকতে না দেয়। একথা ভাবতেই আরিযাকে দেখলাম সিঁড়ি দিয়ে আসছে।

আরিযা শেষ বারের মতো আমাদের কাছে এল। ওর কাছে পা ভেঙে বসে বলল আমাকে,” তোমাদের নেক্সট ফ্লাইটের জন্যে সব কিছু রেডি করে ফেলেছি। সো কোন চিন্তা করবেনা। চল নীচে আমি নিউ পাইলট আর হোসটেসের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই। আমরা পাজামা ছেড়ে রেগুলার পোশাক পড়ে মেইন কেবিনে এলাম। নতুন পাইলটকে আমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলল যে আমরা দু’জনই শুধু ফার্স্ট ক্লাসের যাত্রী । আমাদের যেন খুব টেক কেয়ার করে। নতুন পাইলট আমাদের সাথে হ্যান্ড শেক করে বলল যে নো প্রবলেম ।

এমন সময় আরিযা আবার এল। দেখলাম যে ও বের হোয়ে যাচ্ছে প্লেন থেকে। হাতে টানা কেবিন ক্রু লিখা ছোট সুটকেসটা নিয়ে বের হোয়ে গেল। আমরাও প্লেন থেকে নেমে ওর সাথে এগিয়ে গেলাম। আমাদের দিকে তাকিয়ে আরিযা বলল,”প্লিজ ওর খেয়াল রেখ ফ্রেন্ড । ও খুব প্রেসাস।“ ওর গালে চুমু খেল আর ওকে জড়িয়ে ধরল। আমাকেউ একটা হাগ দিয়ে বলল,” আমি নিউইয়র্ক গেলেই তোমাকে কল দেব।“ আমি বললাম,” প্লিজ ডু। আমি তোমার কলের জন্যে অপেক্ষা করব।“

হাতে সময় নেই কারণ আধা ঘণ্টার মধ্যে প্লেন ছেড়ে দেবে। আমি খেয়াল করে দেখলাম যে তেমন কোন যাত্রি উঠলনা। হাতে গোনা মনে হয় ২০ জনও হবে না যারা কিনা গালফের প্লেনে উঠল। আমাদের দেখে একজন হোসটেস এসে বলল,” গুড মর্নিং। আমার নাম ফাতিমাহ খুলউদ। আপনার আমাকে ফাতিমাহ বলে ডাকতে পারেন।
প্লিজ ফলো মি। আমরা তাকে ফলো করে আবারও আমাদের সেই সিটে নিয়ে গেল। এসে দেখি ততক্ষনে আমাদের বেডটা ঠিক করে আগের মতো সিটে পরিনত করেছে। আমাদের টুক টাক জিনিস পত্রগুলো সামনেই টেবিলের উপরে সুন্দর করে গুছানো।

ফাতিমাহ বলল,” কনগ্রাচুলেশনস অন ইয়োর ম্যারেজ। আমাকে আরিযা বলে গিয়েছে আপনাদের সম্পর্কে।“ আমি থ্যাংকস জানিয়ে বললাম< “ ইয়েস, আরিযা খুবি ভালো মানুষ। আমাদের অনেক হেল্প করেছে।“ ফাতিমাহ বলল,” আমি জানিনা আমি আপনাদের আরিযার মতো সেবা করতে পারব কিনা কিন্তু কথা দিচ্ছি যে আমি চেষ্টার কোন ত্রুটি করবনা।“ আমি বললাম,” আই নো।“

আমি তখন ওকে বললাম,” খেয়াল করেছ যে আগে যখন প্লেনে জার্নি করে করাচী পর্যন্ত এলে তখন কিন্তু এয়ার হোসটেস বেসিকালি আমাদের সিট দেখিয়ে দিয়েছে আর আমাদের জন্যে খাবার এনে দিয়েছে।।আর কিন্তু কিছুই করে নি। আর এখানে ফার্স্ট ক্লাসে মনে হয় যে আমরা কোন ৫ স্টার হোটেলে আছি। আমাদের ইচ্ছাই যেন ওদের অর্ডার। ও বলল” জানিনা জীবনে আর কোনদিন এভাবে জার্নি করতে পারব কিনা।‘ আমি বললাম ,’ সেজন্যে ই তো যত পার এঞ্জয় করে নাও।“

তখনি ফাতিমাহ এল জুস আর কিছু কেক,পেস্ত্রি নিয়ে । এসেই খিপ্র হাতে টেবিল গুছিয়ে দিল। দু’জনের দুই সিটে। আমি বললাম,” তুমি যদি কিছু মনে না কর তবে কি আমরা একি সিটে দুইজন বসতে পারি ?” ফাতিমাহ হেসে দিয়ে বলল,” অফ কোর্স । আমাদের সিটগুলো এত ওয়াইড যে দু’জনে বসা যাবে তবে প্লেন উড়ার পর। এখন প্লিজ একটু ওয়েট করুন।“
মুস্কিল হোল যে যেহেতু সিটগুলো এক একটা সেপারেট কেবিন সেজন্যে আমি যে ওকে কিছু দেব সেটা পারলাম না। দেখলাম যে ও মুখ ভার করে বসে আছে। আমি ফাতিমাহ কে ইশারা দিয়ে দেখিয়ে বললাম,” মিস ফাতিমাহ।। যদি ও আমার উপরে রাগ করে থাকে তবে কিন্তু তা হবে তোমার ফলট।“ “ কেন আমি কি করলাম? ফাতিমাহ হেসে উত্তর দিল। “ এইযে তুমি আমাদের দুজনকে একটু দুরে দুরে বসিয়েছ।

ফাতিমাহ বলল,” আর মাত্র ৫ মিনিতের মধ্যেই প্লেন উড়বে। খেয়াল করনি যে প্লেন টার্মিনাল থেকে বের হোয়ে রেডি হোচ্ছে ফাইনাল রানের জন্যে ? সেটা হোয়ে গেলেই আপনারা হোম ফ্রী। “ বলতে বলতেই কেবিন ক্রুকে সিট বেল্ট লাগাতে বলা হোল ।।আমরাও সিট বেল্ট বেঁধে নিলাম।

একটু পরেই সিট বেল্ট খুলতে পারার লাইট জ্বলে উঠল। জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখলাম নীচে লন্ডন শহর ছোট থেকে আরো ছোট হোচ্ছে। পাইলটের অ্যানাউনসমেনট এল আমাদের স্বাগত জানিয়ে বলল যে আমরা নিউইয়র্ক পৌঁছব ৭ ঘণ্টা ৫ মিনিট পরে।
সিট বেল্ট খোলার সাইন দেখেই ও স্প্রিঙ্গের মতো লাফ দিয়ে আমার সিটে চলে এল। আমার মনে হোল যে ওর খাঁচার দরজা কে যেন খুলে দিল। আমার কোলের উপরে বসে পরল । আমি হেসে বললাম,” কি ব্যাপার? মনে হচ্ছে তুমি তোমার জান ফিরে পেলে।“ “তুমিতো আমার জান্ই। তুমি জান যে তোমাকে আমি আমার জানের চেয়েও বেশি ভালোবাসি“

Woman-Sitting-In-The-Airplane

আমি বললাম,” তাই নাকি ? আমারতো মনে হয় যে আমি তোমাকে বেশি ভালোবাসি।“ “ দেখ আমার ভালোবাসা নিয়ে কিন্তু ফাজলামো করবে না। একেবারে জান খেয়ে ফেলব।“ আমাকে কড়া ওয়ার্নিং দিল। আমি বললাম” ওরে বাবা। মাফ চাই মহিলা হিটলার।“ বলতো একটু আগে যখন তোমার কাছ থেকে আমি দুরে বসে ছিলাম তখন কি ভাবছিলাম ?”
“কি জানি কি ভাবছিলে।।? আমি কিভাবে বলব।“
“শোন, আমি নিজের কাছে নিজে কিছু প্রমিজ করলাম। যেমন তুমি যে আমাকে বললে আসার আগে আমি সেইসব কিছু অক্ষরে অক্ষরে পালন করব যতদিন বাঁচব।“
আমি বুঝতে পারছিলাম না যে ও কি মিন করছে। সেজন্যে জিজ্ঞেস করলাম,” কি সব।। বল ?।
‘আমি জীবনেও কোনদিন চুল লম্বা করবনা। সবসময় ঘার পর্যন্ত চুল রাখব। জিন্সের প্যান্ট পরব সবসময়। হাই হিল শু বা স্যাণ্ডেল পরব।“
আর ?
সালোয়ার কামিজ পড়ে কোনদিন কোন বাঙ্গালির বাসা ছাড়া আর কোথাও যাবনা। হাল্কা মেক আপ করে বের হব যখন বাইরে যাব।
আর?
নিজেকে খুব সুন্দর রাখব।
আর
পড়াশুনা করব। ডিগ্রি নেব।
আর?
হাত পায়ের হেয়ার ক্লিন করে রাখব।
আর?
আমার জামাইকে কোনদিন জান আর সোনা বলে ডাকবনা।
যদি সে তোমাকে বলতে বলে ? বলবনা সেটা আমার ব্যাপার আর যদি বেশি জোর করে তবে বলে দেব যে আমি অসব লাইক করিনা। ওটাকে ন্যাকামি মনে হয়।
আর?
কি আর আর করছ।? ওকে মনে হোয়েছে। আমার জামাইকে ভালোবাসবোনা। আসলে ভালোবাসতে পারবনা।
আমি বললাম,” কিন্তু তাহলে তো তুমি তাকে ধোঁকা দেবে।
কি বল। আমি কি সারা দুনিয়ার বোঝা মাথায় নিয়ে রেখেছি কিনা।?” শোন ওই লোকটা আমার শরিরের মালিকানা দাবি করতে পারে কিন্তু মনের ভেতরে আমি এ রাজা।
আরে বল রানি
না রাজার বেশি পাওয়ার থাকে তাই আমিই আমার মনের রাজা।
ওরে বাপরে, তোমার জামাই তোমার হাডডি গুডডি ভাংবে।
“অতো সাহস হবে না তার কোনদিন।“

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *