লাভ ইন ওমান -২৮

আমি খোদার কাছে প্রার্থনা করছিলাম যে আমাদের প্নেন যেন খুব আস্তে আস্তে চলে যাতে আমি তোমার পাশে বেশিক্ষণ বসতে পারি। করাচীতে তুমি আমাকে নিয়ে বাইরে গেলে যেটা আমার জন্যে ছিল আন এক্সপেকটেড একটা অভিজ্ঞতা। আমি খুব করে চাচ্ছিলাম যে তোমার গায়ের সাথে গা লাগিয়ে বসি কিন্তু ভয় হোচ্ছিল যে তুমি যদি আমাকে খারাপ মেয়ে ভাব। আমার চুল বার বার এসে তোমার মুখে লাগছিল। লম্বা চুল আমি ম্যানেজ করতে পারছিলাম না। তুমি বার বার তোমার মুঝের উপর থেকে চুল সরিয়ে দিচ্ছিলে। আমার খুব হাসিও পাচ্ছিল যে তোমাকে একটা কাজে বিযি রাখতে পারছিলাম।

রাতে তুমি যখন সোফার উপরে শুয়ে থাকলে তখন আমি নিশ্চিত হোয়ে গেলাম যে তুমি আসলেই একজন ভালো মানুষ। আমি তখনি তোমার প্রেমে পরে যাই। ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে করাচীতে এসে রাতে ঘুমাতে যাবার আগ পর্যন্ত আমার ছিল তোমার জন্যে ইনফ্যাচুয়াশন কিন্তু সেটাই প্রেমে পরিণত হোল যখন তুমি সোফাতে ঘুম্মুচ্ছিলে। আমি নিশ্চিন্ত হোয়ে ঘুমালাম। আমি তোমার প্রেমে পড়ে গেলাম। “
“ও দুষ্টু মেয়ে, তুমি সব প্ল্যান করেই করেছ ?” আমি ওর নাক টিপে দিলাম। আমার বুকের ভেতরে ও আরো বেশি করে ঢুকে যেতে লাগলো ।

“তুমি যাই বল, এখন আর আমি কেয়ার করিনা। আমি সারা দুনিয়াকে মাইক নিয়ে বলে দিতে পারি যে আমি তোমাকে ভালোবাসি আমার নিজের চেয়েও বেশি। যখন আমাদের প্লেন ডাইভারট হোয়ে ওমানে এল তুমি জাননা যে আমার কি হোয়ে গেল। আমার ভাগ্যকে আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। আর যখন জানলাম যে আমাদের ওখানে বেশ ক’দিন থাকতে হোতে পারে , শুনে আমি সোজা দৌড়ে গিয়েছিলাম বাথরুমে। তোমার মনে আছে কিনা জানিনা। আমার দম বন্ধ হোয়ে আসছিল। মনে হোচ্ছিল আমার ভেতর থেকে সবকিছু খুশিতে বের হোয়ে আসবে।

রাতে তুমি গুড নাইট বলে ঘুমিয়ে পরলে। আমি জানি তুমি গভির ঘুমে ছিলে কারণ তুমি মাঝে মাঝে নাক ডাকছিলে আস্তে আস্তে। আমার যেন কি হোল। কি এক অমোঘ আকর্ষণে আমি কখন যে তোমার কাছে বালিশ দিয়ে বানানো পার্টিশনের ওপারে চলে গিয়েছিলাম তা আমি নিজেই জানিনা। ডিম লাইটের নীল আলোতে তোমাকে দেখছিলাম খুব কাছ থেকে।
বেশ ক’বার চেষ্টা করলাম যে তোমার ঠোঁট দু’টো ছুঁয়ে দেই আমার ঠোঁট দিয়ে। কিন্তু শত হোলেও বাঙালি মেয়ে তাই সহজাত লজ্জা আমাকে বার বার থামিয়ে দিচ্ছিল। এক সময় তুমি জেগে উঠলে। আমাকে তুমি ধরে ফেললে। আমি আর নিজেকে কোনমতেই আটকাতে পারলাম না।

couple

তুমি আমাকে অনেক আদর করলে কিন্তু তুমি আমার অবুঝ মনের সুযোগ নিলে না । আমাকে চিন্তা করার জন্যে সময় দিলে যাতে ঘুম থেকে উঠে আমি রিগ্রেট না করি। কোন পুরুষ এটা করতো বল ? কেউই না । ঠিক সে সময়েই আমি তোমাকে রেসপেক্ট করতে শুরু করে দিলাম। আমি বুঝে গেলাম যে মানুষ একলা পেয়েও বিশেষ করে মেয়েটির সম্মতি থাকা স্বত্যেও এতটা খেয়াল করে সে ভালো মানুষ না হোয়ে পারেই না। আমার ভালোবাসার মানুষটা যে এরকম উঁচু চিন্তার মানুষ সেটা মনে করে আমার গর্বে বুক ফুলে গেল। আমি সেই মুহূর্তেই ডিসিশন নিলাম যে আমি মরে যাবো কিন্তু তোমাকে ছাড়া আমার চলবে না হোকনা সে অল্প সময়ের জন্যে । “

আমি বললাম,” তুমি এতোটাই চিন্তা করতে।। তুমি এতোটা ম্যাচুউওর আমি বুঝতে পারিনি। আমিও তোমাকে পেয়ে মনে হয় জীবনের সবকিছু পেয়ে গেছি।“
শোনই না … মনে আছে তুমি আমাকে প্রথমবার ভালোবাসার পর আমার পিঠ , কোমর, পায়ের মাসস্লস, পায়ের পাতা সহ পুরো শরীর টিপে দিয়েছিলে।।? “ আমি বললাম ,” হ্যাঁ কারণ আমি জানি যে মেয়েদের কতোটা পেইন করে সারা শরীরে যখন তাদের ওই বিগ ও হয়।“

“এক্সাকটলি , আমার যখন প্রথমবার হোল তখন মনে হোল যে কে যেন আমার সারা শরীর থেকে সবটুকু রস নিংড়ে বের করে ফেলেছে। এত টায়ার্ড আমি জীবনে হোইনি কোন কারনে। আমার সারাটা শরীর একেবারে জমে গিয়েছিল। ভাবছিলাম তোমাকে বলি কিন্তু বার বার লজ্জা এসে আমার মুখ আটকে দিচ্ছিল। ঠিক তক্ষুনি তুমি আমাকে মাসাজ করতে শুরু করলে পায়ের পাতা থেকে। আমিতো অবাক হোয়ে গেলাম যে তুমি কতোটা জান আর কেয়ার করো যে তুমি প্রথমেই আমার পায়ের পাতা থেকে শুরু করলে আমার মাসাজ। বুঝলাম যে এসব ক্ষেত্রে জানাটা খুব জরুরি। আমি আবার তোমার প্রেমে পরে গেলাম। “

‘হোয়েছে এবার ওঠো। পাজামাটা পড়ে নাও। আর বাথরুম হোয়ে আসো । আমিও যাবো তুমি এলে। আমরা দুজনেই পাজামা পড়ে নিতেই আমাদের ফেবারিট আরিযা এসে হাজির। আমাদের দু’জনের একি সাথে বেড এ শোয়া দেখে মুচকি হেসে বলে,” ঘুম ভালো হোয়েছে? এঞ্জয় করেছ তোমরা ?” আমি তাকে উলটো প্রশ্ন করলাম,” তোমার কি মনে হয় ?” আমাদের হাতে গরম ভেজা ন্যাপকিন দিতে দিতে বলে,” আমারতো মনে হয় তোমরা ঘুমাওনি ” আমি বললাম,” ওয়াও মনে হচ্ছে তুমি খুব এক্সপার্ট ?” বলল,” ফ্রেন্ড, ফার্স্ট ক্লাসের জন্যে এগুলো কোন ব্যাপারি না। আমরা সবসময়ই দেখেও না দেখার ভান করি।“

গরম ভেজা টাওয়েল দিয়ে মুখ, হাত ফ্রেশ করে নেয়ার পরে আরিযা এল খাবার নিয়ে। কতো রকমের যে খাবার। ফ্রুট, ক্রাকার, চীজ আর সবচেয়ে যে জিনিটা আমাকে অবাক করে দিল তা হোল ছোট্ট ছোট্ট কন্টেইনারে আইসের উপরে বসানো ক্যাভিয়ার। টকটকে অরেঞ্জ কালারের স্টারযেন ফিশের ক্যাভিয়ার, সাথে লাল রঙের স্যামন মাছের ক্যাভিয়ার আর কালো করে আর একটা ক্যাভিয়ার যার নাম মনে নেই ।

fact.h19

দারুণ সুন্দর সুন্দর ছোট ছোট রাশিয়ান প্যান কেক যার নাম ব্লিনি তার উপরে পারস্লে, ডিলস,আর সাওয়ার ক্রিম দিয়ে গারনিশ করা ক্যাভিয়ার। ক্রাকারের উপরে ক্রিম চীজ, রেড অনিওন বিটস আর বেসিল পাতা দিয়ে গারনিশ করা যার উপরে সিরামিক চামচ দিয়ে চিলড ক্যাভিয়ার। অগুলো দেখেতো ওর মাথা খারাপ। “

“এগুলোর নাম কি, আর মনে হচ্ছে যে মাছের ডিম। কেমন যেন মাছ এর গন্ধ আসছে।“ আমি নিজেও কখন ট্রাই করিনি কারণ ক্যাভিয়ার খুবি এক্সপেন্সিভ বিশেষ করে স্টারযেন । “ইয়াক…আমিতো খাবোইনা তুমিও খাবেনা। তাহলে আর কোনদিন আমাকে চুমু খেতে পারবেনা।“ আমি হেসে আরিযাকে এক্সপ্লেইন করলাম যে ও কি বলল। আমাকে যে কিস করবে না সেটাও বললাম। শুনে আরিযা আমাকে বলে,” একদম ঠিক বলেছে তোমার স্ত্রী।

আমার কাছেও খুব গন্ধ লাগে। মনে হয় যে গন্ধটা একেবারে ভেতরে গিয়ে থেকে যায় বেশ ক’দিন।“ আরিযার কথা শুনে ও ঠিকই বুঝতে পারল। তাকে থ্যাংকস জানাল। কি আর করা যাবে। জীবনে একবার সুযোগ এল ফ্রী ক্যাভিয়ার খাবার ওর কারণে তাও মিস হোল। আমি ওকে বললাম,” নো প্রব্লেম, তোমার ঠোঁট রেডি কর। মারাথন চুমু চলবে এবার তোমার শাস্তি হিসাবে”

আরিযা আমাদের খাবার দিতে দিতে বলল,” তোমরা কি প্রতিজ্ঞা করেছ যে এক সিটেই বাকি সময় কাটিয়ে দেবে?” ও লজ্জা পেল কিন্তু আমিতো আর লজ্জা পাইনা। আমি বললাম ,” যেহেতু তোমাকে ফ্রেন্ড বলেছি, সেজন্যে ফ্রেন্ড হিসাবে আমার একটা দায়িত্ব আছে যে আমার ফ্রেন্ডকে যেন বেশি কাজ না করতে হয়। “ আমার মাথার চুল নেড়ে বলল,” পাসেঞ্জারকে টাচ করা পর্যন্ত মানা কিন্তু আমি তোমাদের সাথে এমনভাবে মিশে গেছি যে মনে হয় তোমরা আসলেই আমার অনেক দিনের ফ্রেন্ড “ আমাকে ওর টেলিফোন নাম্বার দিয়ে বলল যে আমি যেন ওকে কল করি ।
আমিও আমার বাসার নাম্বার দিলাম যে নিউইয়র্ক এলে আমাকে যেন কল করে তাহ’লে আমি ওর সাথে দেখা করতে পারব। আমাকে থ্যাংকস জানিয়ে খাবার দিয়ে চলে গেল।

আবার ব্লাঙ্কেটের নীচে ঢুকে গেল। আমি ওকে শক্ত করে ধরে রাখলাম। আমার বুকের সাথে লেপটে রইল। আস্তে আস্তে ঘুমিয়ে পরল আমার হাতের উপরে। আমি আধো অন্ধকারে ওর নিস্পাপ মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। ওর মুখতা খুব ফ্যাকাশে দেখাচ্ছিল। কোন মেক আপ নেই।। গরম ন্যাপকিন দিয়ে মুখ মোছাতে সব মুছে গিয়েছে।
এমনিতে ফ্যাকাশে লাগলেও ওর স্কিন কিন্তু বেশ গ্লো করছিল। মুখের উপরে পড়ে থাকা ক’টা চুল আমি সরিয়ে দিলাম। ওর নাকে ছোট্ট একটা ডায়মন্ডের নাকফুল ছিল। হাল্কা অন্ধকারেও চকচক করছিল। ওর ভ্রু গুলো খুব সুন্দর করে থ্রেড করা। আমি আলতো করে ওর চোখের উপরে গভীর মমতায় আমার ঠোঁট ছোঁয়ালাম। আমি চাইনি যে ওর ঘুম ভেঙে যাক ।

ভেতরে ভেতরে আমি ক্রমশই ভেঙে পড়ছিলাম। মাত্র ক’ঘণ্টা পর ও চলে যাবে আমাকে ছেড়ে শুধু এই চিন্তা করেই আমি রীতিমতো ঘাবড়ে গেলাম। আমার মনের গহিনে লুকানো মনটা আমাকে মনে হয় দম বন্ধ করে মেরে ফেলতে চাইছে। আমি চাইনা যে ও চলে যাক আমার জীবন থেকে। আমি চাই ওর জীবনে কোন না কোনভাবে থেকে যেতে।
আমি ১০, ২০ ৩০ বছর পরেও জানতে চাইব যে ও কেমন আছে , কেমন ছিল। বার বার মনে আসছিল একটা কথাই । এটাও কি সম্ভব যে একি সাথে দু’জনকে একই রকম ভালোবাসা যায়? আমি আমার স্ত্রীকে ভালোবাসি ।। ওকেও ভালোবাসি। কাকে বেশি ভালোবাসি তা আমি কোন ভাবেই বুঝতে পারলাম না।

কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম মনে নেই। ঘুমের মধ্যেই আমার নাকের কাছে ওর নিশ্বাসের উষ্ণতা পেলাম। আমি চুপ করে ওর উষ্ণতা নিচ্ছিলাম। আমি একময় চোখ খুলে দিলাম। একটু হাসতে চেষ্টা করলাম। আমার বুকের উপরে ওর মুখ ঘসছে। আমি বললাম ” সোনা, কেন এমন হোল ?

কেন তুমি আমাকে ভালোবাসলে আর কেনইবা আমি তোমাকে ভালোবাসলাম এটা জেনেও যে আমাদের এই সম্পর্কের কোনই পরিনিতি নেই। ?” ও কেঁদে ফেলল,” আই ডোন্ট নো, আই জাস্ট ডোন্ট নো যে কেন আমি তোমাকে ভালোবাসতে গেলাম । আমি পারবনা তোমাকে ছেড়ে থাকতে।“

ঠিক তখনি আরিযা এল। লাইট অন করে দিল। তাকে দেখে তারাতারি ও চোখ মুছে ফেলল। আবার কেক, ফ্রুট, চকলেটসহ হাজারো জিনিস । বলল যে আমাদের জন্যে নিয়ে এসেছে যাতে আমরা ওগুলো সাথে করে নিয়ে যাই। গরম ব্রেড সারভ করতে করতে বলল,” চিন্তা কোরনা। লন্ডন থেকে নিউইয়র্ক পর্যন্ত কোন যাত্রি ফার্স্ট ক্লাস নেই সো কোন অসুবিধা হবে না। আমাদের পাইলট এবং আমি নিজে নেক্সট গ্রুপদের বলে যাবো যাতে তোমাদের বেস্ট কেয়ার নেয়।‘

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *