লাভ ইন ওমান -২৭

আমাদের হাতে হাজার রকমের খাবারের মেনু ধরিয়ে দিয়ে চলে গেল। যাবার সময় আবার মাথায় একটা টোকা আর সেই চোখ মারা। বেচারী ও কিছুই বুঝলনা। যখন বুঝিয়ে বললাম তখন ও লজ্জায় মরে আর কি, “ বলকি ? প্লেনের ভেতরে ওসব হয় নাকি?” আমি বললাম হয় না মানে ? ফার্স্ট ক্লাস বেশিরভাগ সময়েই খালি থাকে আর এরই মধ্যে অনেকেই থ্রিল হিসাবে একাকি এই নির্জনে অনেক সময় মাইল হাই ক্লাবের সদস্য হোয়ে যায়।“
মাইল হাই ক্লাব কি ?
এটা একটা নাম। এই নামে কোন ক্লাব নাই। এটা একটা মানুষের দেয়া নাম যারা কিনা মাটি থেকে অনেক উপরে মনে কর ৩/৪ মাইল উপরে প্লেনের ভেতরে ভালোবাসা করে তাদের বলে মাইল হাই ক্লাবের সদস্য।

আমাদের রয়ালটির মতো করে ট্রিট করছিল আরিযা আর তার অন্য এয়ার হোসটেস বন্ধুরা। এরি মধ্যে আরিযা আমাদের দু’জনের জন্যে দারুণ সুন্দর গিফট হ্যাম্পার দিয়ে গেল আর বলল যে আমরা ইচ্ছে করলে রিলাক্সড হবার জন্যে গিফট হ্যাম্পারের ভেতরে থাকা পাজামা সেট পরতে পারি। আমি নিজেই মুগ্ধ হচ্ছিলাম আর ও তো কখনো এসবের কথা পর্যন্ত শোনেনি।
আমাকে বলল,” এসবের জন্যে আবার টাকা দিতে হবে না ?” আমি হেসে বললাম,” আরে নাহ। এগুলো হোল শুভেচ্ছা হিসেবে দেয়া ।“ গিফট প্যাক এ ছিল অনেক রকম দরকারি জিনিস , আমার জন্যে ও দি কোলন, আফতার সেভ লোশন, নেইল কাটার, সহ আর অনেক কিছু আর ওর জন্যে দিল পারফিউম, বডি লোশন, ফেসিয়াল ক্লেঞ্জার সহ আর অনেক কিছু। ও তো সিমপ্লি স্পীচলেস হোয় গেল।

gift

অন্য হোসটেসরাও এল অনেক রকমের খাবার নিয়ে। আমি শুধু অবাক হচ্ছিলাম। ওদের ট্রিটকে শেষ পর্যন্ত আমার অত্যাচার মনে হোচ্ছিল। এত সুযোগ সুবিধা ফার্স্ট ক্লাসে যা আমার ধারনাতেও ছিলনা।
যাই হোক, ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই ওদের অত্যাচার শেষ হোল প্রথম রাউনডের মতো । আমাকে অবাক করে দিয়ে পাইলট পর্যন্ত এসে আমাদের সাথে দেখা করল আর ব্যক্তিগতভাবে আমাদের থ্যাংস জানাল গালফ এয়ারে জার্নি করার জন্যে । আমাকে জিজ্ঞেস করল যদি আমার মনে আর কোনকিছু আসে যাতে আমাদের জার্নি আর ভালো হয় তবে যেন আমি ওদের জানাই। ৯/১১ এর ১০ বছর আগে প্লেনের ভেতরে এত রেসট্রিকশন ছিলনা। আমি থ্যাংকস জানলাম ।

আমি চিন্তা করছিলাম যে আমাদের দিকে এত নজর দেয়ার কারণ কি ? নিশ্চয়ই ওই ছোট্ট নোটে এমন কিছু লিখা ছিল যার জন্যে এয়ারহোসটেসসহ পাইলট পর্যন্ত আমাদের খোঁজ খবর নিচ্ছে। আমি হেল্প বাটনে পুশ করতেই আরিযা চলে এল,” কি ব্যাপার ফ্রেন্ড ?” আমি বললাম,” ওই নোটের মধ্যে এমন কি লিখা ছিল যে আমাদের এত কেয়ার করা হচ্ছে।“ আরিযা হাসতে শুরু করে দিল।

তোমরা যখন আমাকে ফ্রেন্ডই বলেছ তখন শোন, বোর্ডিং পাসের পেছনে লিখা ছিল যে তোমরা বাংলাদেশের একটা খুব বড় ফ্যামিলি থেকে এসেছ। তোমাদের ফ্যামিলি গালফ এয়ারের বাংলাদেশের এজেন্ট। তোমরা নতুন বিয়ে করেছ সেজন্যে আমরা যেন তোমাদের খুব ভালো ভাবে টেক কেয়ার করি আর তোমাদের প্রাইভেসি দেই। জানত যে গালফ এয়ার এর ঢাকা পর্যন্ত সার্ভিস আছে ।

তাছাড়া তো ওমানে এসে আটকা পরে গিয়েছিলে। সারা প্লেন আ মাত্র ১৫ জন যাত্রি আছে। সেজন্যে তোমাদের দিকে এক্সট্রা অ্যাটেনশন দিচ্ছি আমরা । আরিযা ওর দিকে তাকিয়ে ওর লুক আর আউটফিটের খুব প্রশংসা করল। আমার কানে কানে বলল,” শি ইজ গরজিয়াস। নেভার লেট হার গো।“ আমি মাথা ঝাঁকিয়ে বললাম,” অফ কোর্স । আরিযা তুমিই বল ওকে কি ছেড়ে দেয়া যায় ?”

ও শুধু দেখছিল আর অবাক হোচ্ছিল। ঢাকা থেকে পাকিস্তান পর্যন্ত আমরা ছিলাম অন্য আর দশ জনের মতো ইকনমি ক্লাসে । ওই অভিজ্ঞতার সাথে এই অভিজ্ঞতার আকাশ পাতাল পার্থক্য হওয়াতে ও এত এনজয় করছিল যে আমার ভাষা হারিয়ে যায়। লাঞ্চ এর পর আরিযা আবার আসে ।

সবকিছু পরিস্কার করে দেয়। প্লেনের জানালাগুলো ক্লোজ করে দিয়ে লাইট গুলো ডিম করে দিয়ে আমাকে বলল যে আমরা ইচ্ছে করলে ন্যাপ নিতে পারি ।সিটটাকে পুরো ফ্লাট বেডে কনভার্ট করে বলল যে দু’জনের স্নাগল করে শোয়ার জন্যে যথেষ্ট । আবার যাবার সময় আবার চোখ মেরে বুঝিয়ে গেল যে কেউ আমাদের প্রাইভেসি নষ্ট করতে ওখানে আসবেনা। আরিযার উইঙ্কের জবাবে আমি কি বলব বুঝলাম না তাই একটু হেসে দিলাম।

গালফ এয়ারের ৭৪৭ প্লেনের ফার্স্ট ক্লাসের ব্যাপারটাই আলাদা। সীটগুলোকে সীট না বলে বলা যায় প্রাইভেট আইল্যান্ড । একটা সিটের সাথে অন্য সিটের কোন সম্পর্ক নেই। উঁচু দেয়াল দিয়ে আটকানো আর ভেতরে যে কতোকিছু আছে সেটা লিখে বোঝানো যাবেনা। ]
ও খুব খুশি হোল। আমিও খুশি হলাম এই ভেবে যে জীবনের প্রথম এইভাবে একটা কেবিনের ভেতরে আমার ভালোবাসার মানুষটিকে নিয়ে জার্নি করতে পারছি। আমি ওকে এক টানে আমার পাশে বসিয়ে দিলাম।

দু’জনেরি পড়নে সুপার ফাইন গালফের দেয়া পাজামা। আমার হাতের উপরে ও শুয়ে পড়ল । আমি বললাম,” জানো ইংরেজিতে একটা কথা আছে যে যদি লাইফ তোমাকে একটা লেমন দেয় তবে তাকে ওয়েস্ট করনা। ওটা দিয়ে লেমনেড বানিয়ে খাও।“ ও বলল,” একথা এখন বলার মানে কি?”

আমি ওর কানে কানে বললাম,” যখন গালফ এয়ার আমাদের সুযোগ করে দিয়েছেই তখন সুযোগতা নেবনা কেন ? আজ আবার তোমার স্মৃতি বানিয়ে দেব।“ শুনে ওর গাল আর কান লাল হোয়ে গেল। ও দু’হাত দিয়ে ওর মুখ ঢাকল । আমি জোর করে ওর দুই হাত টেনে খুলে দিলাম। ও আমার বুকে মাথা লুকাল । ওর মুখটা উঁচু করে তুলে ধরলাম । হাল্কা আলোতে ওর মুখতা লাল হোয়ে জ্বলছিল। ও বলল,”তুমি কি স্মৃতি বানানোর কারিগর?“ আমি উত্তর দিলাম,”হ্যাঁ এবং বেস্ট ইন দি ওয়ার্ল্ড। তোমার কি মনে হয়?” ও আমার পাশে শুয়ে আমার বুকের উপরে মাথা রেখে বলল,” তোমার চেয়ে ভালো কারিগর দুনিয়াতে আর নেই এটা আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি।“

ডিম লাইটের ভেতরে হাল্কা নীল আলো দেখে ও বলল,” দেখ মনে হচ্ছে আমরা এখনো হোটেলের রুমেই আছি তাইনা ? মনে হোচ্ছেনা যে সেই হোটেলের রুমে আমরা লেপের নীচে দুষ্টুমি করছি ?” আমি বললাম,” খুব মিস করছ তাইনা ?” হু্মম…আমার জীবনের বেস্ট ক’ট দিন ওখানে কাটিয়েছি । ওই রুমটা আমার স্বপ্নের রুম ।“ ওর চিবুকটা ধরে আমার দিকে নিয়ে এলাম। ছোট বেড বলে গায়ের সাথে গা একেবারে গ্লু দিয়ে আটকানোর মতো করে আমরা দু’জন। আমি ওর হার্ট বিট শুনতে পাচ্ছি।

ওর পুরো ঠোঁট দুটো আমার মুখের ভেতরে নিয়ে গভীর চুমুতে ভরিয়ে দিলাম। ঢেলে দিলাম আমার হৃদয়ের শেষ ভালোবাসা। ওর নিশ্বাস গরম হোতে লাগলো । আমি ওর দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলাম। স্মার্ট মেয়ে বুঝে গেল যে আমি কি বলতে চাচ্ছি। ও কানে কানে বলল,” তোমার ভালোবাসা আমার জীবনের আর আমার শরীরের সবচেয়ে প্রিয় জিনিস যা আমার আমৃত্যু থেকে যাবে সারা মন আর শরীর জুড়ে । আমি যখনি একা থাকবো, যখনি আমার ইচ্ছে হবে তখনি তোমার ছোঁয়া মনে পড়বে । আমার একা একাই ভালো লাগবে তোমার কথা মনে কোরে । আচ্ছা আমাকেউ তোমার মনে পড়বেতো ? “ আমি বললাম,” সেটা আমার চোখ দেখে বুঝে নাও ।“

ও আমার কানে কানে বলল,” যদি কেউ হঠাৎ করে এসে পড়ে ?” প্রথমতো এখানে শুধু যাত্রী ছাড়া কেউ আসতে পারবেনা । দ্বিতীয়ত এত বড় প্লেনে মাত্র বাকি ১৫ জন যাত্রী । তৃতীয়ত আরিযা আমাকে চোখ ইশারা দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে যে কেউ আমাদের ডিস্টার্ব করবেনা। এই ভাবে আমরা হোয়ে গেলাম মাইল হাই ক্লাবের সদস্য। ওই অভিজ্ঞতাটা ছিল দারুণ এক্সাইটিং অ্যান্ড ডেয়ারিং।

বাথরুম সেরে এসে দু’জনে একি সীটের উপরে এসে শুয়ে পরলাম। ওর শরীরের অর্ধেকটা আমার উপরে ছিল। আমি চাচ্ছিলাম যে প্রতিটা মুহূর্ত যেন ওর সাথে থাকি। কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি তা মনে নেই। হঠাৎ করে আমি শুনলাম ও ঘুমের মধ্যেই কি যেন বলছে। আমার ঘুম ভেঙে গেল। শুনলাম ও বলছে,” যেও না , যেওনা আমাকে ছেড়ে যেও না। প্লিজ আমি মরে যাব…।“ ওটা কি ও স্বপ্ন দেখে বলছিল না মন থেকে বলছিল ঘুমের ঘোরে তা বুঝলাম না।

শুধু দেখলাম যে ওর ঘুমন্ত চোখ দু’টো বন্ধ আর ওর ঠোঁট নড়ছে। মনটা খুবই খারাপ হোয়ে গেল। এলোমেলো হোয়ে গেল আমার সবকিছু। ভাবছিলাম যে এই মেয়েটা কতোটা মানসিক টানাপোড়নের মধ্যে দিয়ে চলছে। কিভাবে সব সামাল দেবে ? আচ্ছা যদি ও সব বলে দেয় ? যদি ওর ব্যাবহারে ওর বর কিছু সন্দেহ করে ? যদি ওর বর ওকে প্রেসার দেয় যে কি হোয়েছে ? তখন যদি ও বলে দেয় বা কান্নাকাটি করে। তখন কি হবে ? আমারই জন্যে ওর যদি ঘর ভেঙে যায় তবে ও কোথায় যাবে ? কি করবে।?

শারীরিক কষ্ট সহ্য করা যায় কিন্তু মানসিক কষ্ট সহ্য করা অতোটা সহজ না। নাহ ও অতোটা বোকা হোতেই পারে না। আমি ওকে একটু ধাক্কা দিয়ে বললাম কি বলছ। ওর ঘুম ভেঙে গেল। চোখ ভরা জল । আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল,” আচ্ছা কোনভাবেই কি আমাদের এক সাথে থাকা যায়না ? তুমি নাহয় আমাকে আলাদা জায়গায় রাখবে। কেউ জানবেনা। তুমি আমাকে বল যে আমি কি করে থাকব ?”

আমি কি উত্তর দেব বুঝতে পারলাম না। বুকটা ফেটে যাচ্ছে আমার। আমি বললাম,” তা হয়না সোনা একদিন না একদিন সত্য সামনে আসবেই তখন আমাদের ঘর, আমার ঘর সব ভেঙে যাবে। দুনিয়াতে কোন স্ত্রী তা মানবে না আর তুমি হোয়ে যাবে দি আদার ওম্যান যাকে সবাই খুব নীচু চোখে দেখবে। তখন সেই অপমান তুমি কি করে সহ্য করবে আর আমিই বা কি করে মেনে নেব তা। যাকে এত ভালোবাসি তার অপমান আমি মেনে নিতে পারবনা। আমি একজন খুনি। আমি তোমার মন কে খুন করেছি। “

আমার মুখে হাত চাপা দিয়ে বলল,” ও কথা বলবে না। তোমার সাথে কথা বলার পর থেকেই আমার যেন কি হোয়ে গেল। তোমাকে আমার এত ভালো লেগে গেল। আমার অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যৎ সব একটা জায়গায় এসে থেমে গেল। আমি কোনমতেই তোমার ম্যাগনেটিক পারসোনালিটির হাত থেকে বাঁচতে পারলাম না। দোষ তোমার একার না আমারও সমান দোষ আছে।“

ও ফিলসফারের মতো বলতে লাগলো,” আর দোষই বা বলব কেন। ভালোবাসাতো আর বলে কয়ে আসেনা। এটা হোয়ে যায়। ওই যে বললে আমাদের নিয়তি ই ছিল যে আমাদের দেখা হবে, ভালোবাসা হবে আবার চিরদিনের জন্যে বিচ্ছেদ ও হবে। ওর কণ্ঠের দৃঢ়টা দেখে অবাক হোয়ে গেলাম। মাত্র ক’দিনেই ও একেবারে বদলে গেছে। আবার বলতে শুরু করল,” শুনবে তুমি আমার কথা ? “ “ অফকোর্স শুনব সোনা । আমার সোনার মেয়ে। “ শোন তাহলে। আমাকে থামিয়ে দিওনা।

“প্রথম যখন তোমার সাথে আমার ভাই আমাকে পরিচয় করিয়ে দিল তোমাকে দেখে আমার হার্ট বিট মনে হোল থেমে গেল। মনে হোল যে আমি এতদিন ধরে তোমাকেই খুঁজছিলাম। তোমার চোখে যাতে ধরা না পড়ে যাই তাই সাথে সাথেই আমি দূরে দাঁড়িয়ে থাকা আমার ভাই বোনদের কাছে চলে গেলাম। তারপর তোমাকে দেখলাম ইমিগ্রেশনের কাছে যখন তুমি আমার ব্যাগটা উঠালে। আমি তোমার দিকে তাকাতে পর্যন্ত পারছিলাম না।

মনে হোচ্ছিল এই বুঝি আমি কেঁদে ফেলব। খুব কান্না আসছিল। তখন বুঝিনি যে কেন কান্না আসছিল। খুশিতে যে আমি তোমার সাথে যাচ্ছি । একা। যেখানে আর কেউ থাকবেনা। থাকবো শুধু আমি আর তুমি। আমারতো চিন্তা ছিল যে মাত্র দের দিনের জার্নি। নাকি কষ্টে যে কেন এতদিন পর তোমার সাথে আমার দেখা হোল যখন কিনা আমি অলরেডি ম্যারিড ? তোমার চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারছিলাম না। প্লেনে উঠে তুমি একবার ক’মিনিটের মতো চোখ বন্ধ করেছিলে। আমি অবাক হোয়ে দেখছিলাম তোমাকে ।

SAS

তোমার ফরশা মুখের উপরে নিল রঙের শেভ করা দাড়ির দাগ যেটা আমার খুব প্রিয় ছিল। তোমার পরিপাটি করে সাজানো ক্লিন সেভড মুখ দেখে আমার কি যেন হোয়ে গেল। আমার একবার মনে হোল তোমার গালে একটু ছুঁয়ে দেই। কিন্তু একেতো বাঙালি মেয়ে তার উপরে আশে পাশে অনেক যাত্রী থাকাতে সেটা সম্ভব নয়। আমি নিজেই নিজেকে বকা দিচ্ছিলাম যে কিসব উলটা পাল্টা ভাবছি। তুমি চোখ খুললে আর আমি বোকার মতো সীট বেল্ট লাগাতে গিয়ে সব উলটা পাল্টা করে ফেলছিলাম। আমি যে বেল্ট লাগাতে পারছিলাম না তা নয়।

আমি লাগিয়েউ ছিলাম কিন্তু আবার খুলেও ফেলে দিলাম সাথে সাথেই। তুমি তা দেখে আমাকে হেল্প করলে। আর আমি এটাই চাচ্ছিলাম । তোমার হাতের ছোঁয়া লাগল ডিরেক্টলি আমার বুকে। আমি সারাটা রাস্তা মনের সাথে যুদ্ধ করেছি যাতে আমি তোমার দিকে আকর্ষিত না হই কিন্তু বার বার আমি হেরে যাচ্ছিলাম। আমাকে তোমার দিকে চুম্বকের মতো তুমি টানছিলে। প্রমিজ করলাম যে তোমার দিকে তাকাব না কিন্তু একিই সাথে বসে কি করে সেই প্রমিজ রাখা যায় বল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *