লাভ ইন ওমান -২৪

আমি বললাম,” আমার অর্ডার শুনবে বললে, প্রমিজ করেছ। সো এখন আমার সাথে যেতে হবে শপিংএ। আমি যা কিনে দেব তাই নিতে হবে। আমি জানিনা তুমি কিভাবে তোমার বরকে ম্যানেজ করবে সেটা তোমার প্রবলেম। “ বলে ওকে উঠিয়ে দিলাম। আর বললাম ,”আজ তোমাকে আমি রেডি করে দেব। তুমি শুধু চুপচাপ লক্ষি মেয়ের মতো শুনে যাবে। তুমি হয়তো বুঝতে পেরেছ যে আমি তোমার কোনকথাই শুনবনা।“
আমার নাকটা ধরে বলল ,’ঠিক আছে তোমার যেমন ইচ্ছা আমাকে সাজাও। চল তোমার সাথে যেখানে চাও সেখানেই যাবো।“ “ এইতো লক্ষ্মী মেয়ে।

Makeup-Girls-Wallpaper

ওর প্যান্টি, ব্রা পড়িয়ে, সুন্দর একটা কোমড় লম্বা মেয়েদের শার্ট পড়ালাম। প্যান্ট পড়ালাম । নি হাই সক্স, হাই হিলের স্যানডেল পরিয়ে চুলটা বেঁধে দিলাম। ওর মেক-আপ করে দিলাম ওরই ফাউনডেশন দিয়ে। বাইরের গরমে যাতে মেক-আপ নষ্ট না হোয়ে যায় সেজন্যে হাল্কা পাউডারের পাফ দিয়ে দিলাম । চোখে সাজালাম আই শ্যাডো দিয়ে শুধু আবেশে চোখ বন্ধ করে রইল। পেন্সিল দিয়ে ঠোঁট একে লিপস্টিক লাগিয়ে দিয়ে বললাম চোখ খুলতে । আয়নায় নিজেকে দেখে বিশ্বাসই করতে চাচ্ছিলনা যে আমি ওকে মেক-আপ করে দিয়েছি নিখুঁত ভাবে। আমাকে জড়িয়ে ধরতে গেল কিন্তু মেক-আপ নষ্ট হোতে পারে বলে ওকে থামিয়ে দিলাম।

খুশিতে সে বলে উঠল,’ তুমি এত কিছু পারো কি করে ? এমন কিছু কি আছে যা তুমি জাননা ?” “ আমার ওয়াইফকে যখনি সুযোগ পাই তখনই সাজিয়ে দেই। অনেক কিছুই আছে যা আমি পারিনা যেমন তোমাকে নিজের কোরে কোনদিনই পাবোনা । তোমাকে কষ্ট দেয়া বন্ধ করতে পারিনা। কিন্তু তোমাকে চাওয়াটাও আবার বন্ধ কোরতে পারিনা।“ আমি ইচ্ছে করেই ওর দিকে না তাকিয়ে পেছন ফিরে বললাম। আমি জানতাম যে ও কাঁদবে আমার চোখে চোখ পড়লেই । আমিও বোকার মতো বলে ফেললাম হুট করে ।

“একবার শুধু বলেই দেখ, আমিতো আমার আঁচল পেতেই আছি যে কখন তুমি তোমাকে আমার আঁচলে ঢেলে দেবে। আমার সারাটা পৃথিবী একদিকে আর তুমি আর এক দিকে। শুধু একবার বলেই দেখ আমি আমার সারা চেনা জানা দুনিয়া থেকে এক দৌড়ে চলে আসবো আমার নতুন পৃথিবী তোমার কাছে। আর কি ভাবে আমি তোমাকে চাইবো আমাকে বলে দাও …কতোটা বছর আমাকে অপেক্ষা করতে হবে শুধু বলে দাও। আমি অপেক্ষা করবো তোমার জন্যে। আমার সোনামানিককে রেখে আমি কিভাবে বাঁচবো বলে দাও। আমি তোমাকে খুব সুখ দেব। কোনদিন তোমার অবাধ্য হবোনা । তুমি যা বলবে তাই শুনব।“ দুই চোখ ভরা টলমল অস্রু।

একটা টিস্যু পেপার দিয়ে ওর চোখের জল মুছে দিলাম। আমি কোন উত্তর দিলাম না। পরিবেশ হাল্কা করার জন্যে বললাম<” দেখতো কোন পারফিউম দেবে ? “

একে বেশ কটাও গন্ধ নিয়ে ওর সবচেয়ে ভাল লাগলো একটা । ওটার স্প্রে ওর কানের পেছনে, গলায়, বুকের ভাঁজের মাঝে, হাতের কব্জিতে দিয়ে ফুল রেডি করে ফুলের মতো বসিয়ে রাখলাম। ওর পছন্দ মতো আমি পরলাম ব্লু জিন্‌স আর সাদা টি শার্ট। পায়ে স্নিকারস। ওর পছন্দ মতো কোলন দিলাম। ও বার বার এসে আমার গলায় আর কানের নীচে নাক ঘষতে থাকল বেড়াল বাচ্চার মতো । একসাথে বের হোয়ে গেলাম রুম থেকে। লিফট ধরে নীচে ফ্রন্ট ডেস্ক যেতেই দেখি সেদিনের সেই মেয়েটা। আমাদের দেখেই খুশি হোয়ে উঠল।

আমি মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করতেই বলল যে আমাদের উচিৎ হবে Khimji Megastore এ শপিং করা কারণ খিমজি মেগাষ্টোরে সব কিছু পাওয়া যায়। থ্যাংকস জানিয়ে বাইরে এসে সেই ড্রাইভারকে খুঁজলাম কিন্তু পেলাম না । কি আর করা অন্য একজন ড্রাইভারকে খিমজি মেগাষ্টোরের কথা বলতেই ১৫ মিনিটের মধ্যে আমাদের বিশাল দোকানের সামনে নামিয়ে দিয়ে গেল।
ভেতরে ঢুকেতো ও অবাক। ওর ধারনাই ছিলনা যে এত বড় কোন দোকান হতে পারে। আমাকে সেই আগের মতো শক্ত করে ধরে আস্তে আস্তে বলল ,” সোনা, এখানেতো মনে হোচ্ছে সব কিছুর অনেক দাম হবে।“ “ ও নিয়ে তোমাকে চিন্তা করতে হবে না।“ আমি বললাম। “মোটেইনা, আমি চিন্তা করব না তো এখানে আর কে করবে শুনি ?”

আমি জানি যে ওমানি রিয়ালের মূল্য অনেক বেশি । কুয়েতি দিনার আর বাহ্ রাইনি দিনারের পরেই হোচ্ছে ওমানি রিয়াল। কিন্তু জীবনে আর কোনদিন সুযোগ হবেনা জানি তাই আমার যতো টাকাই লাগুক আমি কেয়ার করব না বলে আগেই ভেবে নিয়েছিলাম ।

অ্যামেরিকার দামের সাথে খুব একটা পার্থক্য তেমন দেখলাম না। আমি ঘুরে ঘুরে প্রথমে ওর জন্যে বেশ ক’টা শার্ট, প্যান্ট, দু’টো লং ড্রেস, ব্রা, প্যান্টি, কসমেটিকস, পারফিউম, জুতা, স্যান্ডেল, দারুণ একটা সান গ্লাস, ব্যাগ, একটা কালো সিরামিকের ঘড়ি সহ যা দেখলাম তাই কিনে ফেললাম। ও আমাকে দেখছিল আর বার বার আমাকে জিজ্ঞেস করছিল যে টাকা লাগবে কিনা কারণ ওর কাছেও বেশ ডলার আছে। আমি বার বার যখন না না করছিলাম ও তখন এক মুঠ ভরা ডলার আমার প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলো ।
Rado

আমি ওর হাত ধরে ফেললাম আর হেসে বললাম,” তুমি কি সত্যি সত্যি ভাব যে আমি তোমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে তোমাকেই কিছু কিনে দেব।?” ও আমাকে জোর করেই ওকে যে ঘড়িটা কিনে দিলাম তার মেন্স ঘড়িটা কিনে দিল। দু’ জনের হাতে একি ঘড়ি। দারুণ লাগছিল। আমি থ্যাংকস জানালাম কিন্তু ও তার আগে আমাকে থ্যাংকস জানাতে জানাতে মাথা খারাপ করে দিচ্ছিল।
হেয়ার স্যলুনে নিয়ে গেলাম। অ্যারাবিয়ান একটা মেয়ে এসে ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করল যে কি করতে হবে। আমি বুঝিয়ে দিলাম যে ওর চুল ঘার অব্দি করতে হবে। ও প্রথমে কিছুই বোঝেনি যে কেন এসেছি হেয়ার স্যলুনে। যখন বুঝতে পারল তখন ও বেঁকে বসল।“ না আমার বর যদি জিজ্ঞেস করে তখন কি বলব? বললাম’ সেটা তোমার ব্যাপার কিন্তু আমার কথা শুনবে বলেছ সেটা আজ থেকেই শুরু।“

‘শুধু তুমি বলেছ বলে। আমার জামাই বললে কোনদিন শুনতাম না।“ আমি বললাম, “ সেজন্যে ই তো সুযোগটা নিলাম। জানি তুমি আমাকে না করতে পারবেনা। মেয়েটা সুন্দর করে চুল কেটে শ্যাম্পু আর কন্ডিশন করে যখন সুন্দর করে সেট করে দিল তখন আমি দেখলাম ওকে আর এক অন্য রুপে। চেনাই যাচ্ছিল না। স্মার্ট লাগছিল অনেক। আমি আবার ওর প্রেমে পড়লাম।

আইসক্রিম খাবে ? বলাতেই একেবারে স্প্রিং এর মতো লাফিয়ে উঠল। ফুড কোর্টে এসে দু’জনের জন্যে আইসক্রিম এর অর্ডার দিলাম। যখন আইসক্রিম এল তখন ওকে আমি বললাম, “আমি বাথরুম থেকে আসছি। তুমি খেতে থাক।“ “ তারাতারি এস বলে ও খেতে শুরু করল। আমি এই ফাঁকে সোজা জুয়েলারী সেকশনে ছুটে এলাম। আমি জানি বেশি দেরি করলে শেষে না আবার আমাকে খুঁজতে বের হয়। অবশ্য দু’হাত ভরা শপিং ব্যাগ নিয়ে ও একা হাঁটতে পারবেনা ।

দেখতে দেখতে আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এল। আমার আর ওর নামের প্রথম অক্ষর এক হওয়াতে আমি একটা ডায়মন্ড বসানো আমাদের দুজনের নামের প্রথম অক্ষরটা কিনলাম ১৮ কেরেট ইটালিয়ান হোয়াইট গোল্ড এর আর সেই অক্ষরতা ছিল একটা হার্ট এর উপরে পেছন দিক দিয়ে আবার লকেটটা ওপেন করা যায় যার ভেতরে দুজনের ছবি রাখা যায়। ষ্টোরের হাজার লাইটের নীচে একেবারে জ্বলজ্বল করছিল ডায়মন্ডগুলো । আমার দারুণ পছন্দ হোয়ে গেল। মনে হোল ওর জন্যে এর চেয়ে ভালো আর কোন গিফট হোতেই পারেনা।

Heart

ছোট্ট বক্সটা আমি আমার প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে নিলাম। ওর কাছে ফিরে আসার পর অভিযোগ করল যে বাথরুম থেকে আসতে এত দেরি হোল কেন। আইসক্রিম গলে যাচ্ছিল তাই সে খেয়ে ফেলেছে। আমি বললাম, আরে তুমি যাতে দু’টো খেতে পার সেজন্যে ই তো দেরি করে এলাম। আর একটা আইসক্রিম এর অর্ডার দিলাম। আমি ওকে খাইয়ে দিলাম প্রথমে চামচ দিয়ে আর ও আমাকে খাইয়ে দিল।

আমাদের দু’জনেরই দুই হাত ভরা শপিং বাগ দেখে হোটেলের ফ্রন্ট ডেস্কের সেই মেয়েট ওকে বলল,” ইউ আর সো লাকি যে এরকম ভালোবাসে এমন একজন স্বামী পেয়েছ।“ থ্যাংকস জানিয়ে লিফট নিয়ে সোজা রুমের ভেতরে।

happy-shopping

ও একটা করে ব্যাগ খুলে আর চিৎকার দিয়ে ওর খুশি প্রকাশ করে। আমাকে জড়িয়ে ধরে চুমু দেয়। আমার এত ভালো লাগলো দেখে যে কি বলব । ক’টা দিন থেকে ওর মন খারাপ। এখন ওর খুশি দেখে আমি আবার ওর প্রেমে পড়ে গেলাম। ওকে ছেড়ে যেতে হবে মনে করেই আমার চোখ ভিজে গেল। আমার টলমল করা অস্রুতে ভরা চোঁখ ওর দৃষ্টি এরাল না ।
হটাৎ করে ওর হাতের ব্যাগতা ফেলে আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করল। আমি বললাম,” কি হোল সোনা ? কেন কাদছ ?” “ জানিনা, তোমার জল দেখে আমি কি করে থাকি বল? আমি বললাম,” তুমি যখন জিনিসগুলো দেখে খুশি হচ্ছিলে তখন আমি তোমার খুশি দেখে খুশি হচ্ছিলাম। হটাৎ মনে পরে যায় যে তোমাকে ছেড়ে যেতে হবে খুব শিগ্রী আর সেটা ভেবেই আমার চোখ ভরে এল অস্রুতে।?

আমাকে বুকের মধ্যে ধরে চুপ করে রইল কিছুক্ষণ। কাঁদতে কাদতে বলল,” কোথায় তুমি আমাকে শান্তনা দেবে তা না আমাকেই উলটো তোমাকে শান্তনা দিতে হচ্ছে। আচ্ছা কেন এত ভালো তুমি? কেন এত ভালো বাস তুমি।।? আমাকে তো এত নসিহত দিচ্ছ ক’দিন থেকে কিন্তু এখন আমারই সন্দেহ হোচ্ছে যে তুমি কি পারবে আমাকে ছেড়ে যেতে ? তুমি কি হ্যান্ডেল করতে পারবে ?” জানিনা, জানিনা জানিনা বলে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলাম ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *