লাভ ইন ওমান -২৩

ওর মুখের উপরে আমার মুখতা নিয়ে খুব কাছে থেকে আমি ওকে দেখছিলাম। আমার গরম নিশ্বাসে ও চোখ খুলে দিল। শুকনো একটা হাসি দিয়ে জানতে চা ইল,” কি দেখছ অমন করে।?” আমি ছোট্ট করে উত্তর দিলাম,” আমার এঞ্জেল কে।“ “ কি দেখলে এঞ্জেলের মুখে?”দেখলাম আমার ভালোবাসা, আমার বর্তমান ।“
আমাকে ধরে বলল,” আমি জানি ভবিষ্যত দেখা যায়নি আমার মুখে । তোমার ভবিষ্যতে আমি কোথাও নেই। কি অদ্ভুত আমাদের জীবন। যাকে নিয়ে ভবিষ্যত গড়তে চাই সে কবে অন্যের হোয়ে গেছে । আর যে আমার ভবিষ্যত সে আমার কোনদিনই ছিলনা আর হবেও না। আর তোমাকে ক’দিনের জন্যে পেয়ে আমি চাইও না যে আর কেউ আমার হোক। আচ্ছা, তুমি কি কখনো আমার কথা চিন্তা করবে ?

eye

যদি মনের কোন প্রিন্ট আউট বের করা যেত তখন কি দেখতে পেতাম যে আমার জন্যে কতোটুকু ভালোবাসা ছিল তোমার বুকের ভেতরে। “ আমি মৃদু হেসে বললাম,” পাগলী, তুমি যে আমার কি সেটা বোঝানোর ভাষা আমার নেই। কোথা থেকে কি হোয়ে গেল । একবার মনে হয় তোমার সাথে আমার দেখা যা হলেই ভালো হোত।‘’আমার মুখে হাত চাপা দিয়ে বলল, “তুমি শুধু তোমার দিকটাই দেখলে । আমার দিক টা দেখলে না সোনা ?
ভাব দেখি যে আমি যদি তোমাকে না পেতাম তাহলে আমার জীবনটা কেমন অপূর্ণ থেকে যেতো। তোমার সাথে দেখা হোয়েছে বলেইতো আমি চিনতে শিখলাম, জানতে শিখলাম যে ভালোবাসা জিনিসটা কি ?”
ও লেপের নীচ থেকে ওর দেহটাকে টেনে টেনে আমার পাশে নিয়ে এল। আমি ওকে আমার কোলের উপরে বসিয়ে দুই হাত দিয়ে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে রইলাম। মিষ্টি একটা গন্ধ আসছিল হোটেলের দেয়া মার্ক জেকবের শ্যাম্পুর। ওর চুলের ভেওরে নাক ডুবিয়ে অনেকক্ষণ সেই ফুরফুরে গন্ধ নিলাম।

couples in love wallpapers (28)

ক্ষিধে লেগেছিল। বললাম,” চল নীচে যাই। খাবার খেয়ে আসি।“ ও বলল,” প্লিজ, রুম সার্ভিসে অর্ডার দাওনা ।আমার কেন যেন মনে হোচ্ছে তোমার সাথে আর বোধ হয় বেশি দিন থাকা হবে না। ত়াই আমি চাই যে বাকি সময়টুকু তোমার বুকের মধ্যে লেপ্টে থাকি। আমি বললাম,” আচ্ছা এক কাজ করলে কেমন হয়, তোমাকে আমি আমার বুকের ভেতরে একটা ঘর বানিয়ে সেখানে রেখে দেই।।? ও হাসতে হাসতে বলল,” তাহলে আমি বাথরুম করব কিভাবে।।?” আমি ওর কথা শুনে হাসতে হাসতে বললাম…”তোমার অত কিছু বাদ দিয়ে বাথরুমের কথা মনে এলো কি করে।? বোকা মেয়ে দিলেত আমার রোম্যান্টিক মুডের বারোটা বাজিয়ে”

ও জিজ্ঞেস করল,” তুমি আর আমি দু’জনেই তো নিউইয়র্ক থাকব। মনে কর যদি আমাদের কথাও দেখা হয় তখন তুমি কি করবে ?” “ আমি দৌড়ে তোমার কাছে চলে আসব। “ ‘না তুমি আসবে না। তখনি আসবে যদি তুমি আমাকে তোমার সাথে নিয়ে যেতে পার। নইলে আমার সামনে আসবে না। আমি সহ্য করতে পারবনা। তোমাকে ছাড়া যখন আমি বেঁচে থাকতে শিখে যাবো আর তখনি তুমি এসে আবার আমার শিকড় সুদ্ধ উপড়ে ফেলবে ? আমাকে মেরে ফেলবে ? তোমাকে না দেখে হয়তো থাকতে পারব কিন্তু তোমাকে দেখে আমি তোমার কাছে যেতে পারব না সেটা আমার সহ্য হবে না। আমি সোজা আমাকে মেরে ফেলব।“ বলে আমাকে পাগলের মতো আদর করতে লাগলো। আমি কিছু না বলে চুপ করে রইলাম।

Cry

রুম সার্ভিস খাবার নিয়ে এল। ওর জন্যে ফ্রায়েড শ্রিম্প আর চিপ্ স আর আমার জন্যে চিকেন আর ম্যাশড পটেটো।। সাথে ব্রেড, বাটার, সফট ড্রিংস , মুস চীজ কেক সহ আর দু’ একটা জিনিস। আমি উঠে দরোজা বন্ধ করে ওকে বললাম,” শুরু করে ফেল নইলে খাবার ঠাণ্ডা হোয়ে যাবে।“ ও বলল,” আমারতো গায়ে কোন কাপড় নেই। কাপড় দাও ।“ আমি বললাম,” নোপ কাপড় লাগবেনা । যেভাবে আছ সেভাবেই যাও।“

“তোমার কি মাথা খারাপ ? তোমার সামনে আমি কি করে এভাবে হাঁটবো ? দাওনা বাবা।“ আমি হেসে ওর কাপড় ফ্লোর থেকে তুলে দিলাম। ও লেপের ভেতরেই কাপড় পড়ে নিল। বাথরুম থেকে ফ্রেশ হোয়ে এসে আমার গা ঘেঁসে বসল । আমি একটা চিপ্স ওর মুখে তুলে দিলাম। ও আমাকে একটা দিল। আমি পর যত্ন করে ওকে সবটুকু খাবার মুখে তুলে খাইয়ে দিলাম।
বাথরুমে যাকুজি রেডি করে, বাবল বাথ দিয়ে ফোম করে, হাল্কা গরম জল র স্প্রে অন করে ওকে ডাকলাম। বাথরুমে ঢুকেই দেখল যে আমি কোমড় পর্যন্ত জল তে দাঁড়িয়ে আছি। ও পাজামা আর টি শার্ট খুলে আমার হাত ধরে জল তে নেমে এল। আমি বাথরুমে আসার আগে লাঞ্চ এর সময় বেঁচে যাওয়া সফট ড্রিংস দু’টো কনটেইনার ফ্রিজের ভেতরে ঠাণ্ডা হবার জন্যে রেখে দিয়েছিলাম।

bath

সেই কোক গ্লাসের ভেতরে ঢেলে রেখেছিলাম। আমি হেসে বললাম,” দেখনি যে টিভিতে বা মুভিতে অনেক সময় দেখা যায় যে যাকুজিতে বসে লোকে ড্রিংক করে। আমরাতো আর অ্যালকোহল ড্রিংক করিনা তাই কোক দিয়েই কাজ চালাতে হবে । ইউ উইল লাইক ইট।
ও বলল,” থ্যাংক ইউ আমাকে আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময় দেবার জন্যে । “ আমি ইউ ওয়েলকাম বলে ওকে কাছে টেনে নিলাম। অনেক্ষন আমরা গরম জল র সাথে গরম জল র বিভিন্ন রকমের স্প্রেয় দিয়ে একজন অপরজনকে আনন্দ দেবার চেষ্টা করলাম। দু’জনেরি চোখ লাল হোয়ে গেল।

যাই হোক, যাকুজি ইউজ করে স্ট্যান্ডিং শাওয়ারে দু’জন দুজনকে আদর করে গোসল সারলাম। ওর চুল ড্রাই করার সময় হটাৎ করে আমাকে ধরে ও কান্নায় ভেঙে পরল। “ তুমি কেন আমার এত বড় সর্বনাশ করলে ? সারাটা জীবনের জন্যে তুমি আমাকে একেবারে শেষ করে দিলে। কিভাবে আমি গোসল করব।। চুল ড্রাই করব তোমাকে ভুলে ? কিভাবে বেঁচে থাকব সোনা ? মনে হয় আমি বোধ হয় সারা জীবন আর কোনদিন চুল ধু’তে পারবনা।“

couplecrying

আমি বললাম,” তাহলে তোমাকে জটাধারি বলে সন্নাসী হিসেবে বনে পাঠিয়ে দেবে তোমার বর।“ আমার কথা শুনে ও হেসে ফেলল। চোখের জল আর নাকের জল তে একেকার হোয়ে গেল। টিস্যু পেপার দিয়ে নাক মুছিয়ে দিতেই খপ করে হাত ধরে ফেলল। “ না তুমি আমার জন্যে কিছু করবে না। আমি সইতে পারবনা।“ আমি বললাম,” তুমি বলবে আর আমি শুনব।।আমাকে কি তুমি বোকা ভেবেছ….?

আমি যতটুকু পারি তোমার জন্যে সবকিছু করব যাতে তোমার বাকি জীবন আমার ছায়া ছাড়া কেটে গেলেও আমার কমতি অভাব করবে না।“ বলে নাক মুছে দিলাম। আমাকে জড়িয়ে ধরল। আমি ওকে কোলে তুলে নিলাম। সোজা রুমে লেপের নীচে ওকে চালান করে দিলাম। আর লাফ দিয়ে নিজেও লেপের নীচে ঢুকে গেলাম।
‘সোনা আমাকে আদর কর। কে জানে যে কাল এ আমাদের এখান থেকে চলে যেতে হবে কিনা…।“ বলে আমাকে জড়িয়ে ধরল। পরম ভালোবাসায় ওর সব ইচ্ছেগুলো পুরন করতে লেগে গেলাম। “ তোমার কাছে থেকে এত ভালোবাসা নিয়ে যাচ্ছি যে আমার যদি বাকি জীবনেও কোন শরীরের প্রয়োজনিয়তা অনুভব করবোনা।

আমি ওকে বললাম,”শোন, অ্যামেরিকাতে বেশিরভাগ বাঙালি, ইন্ডিয়ান বা পাকিস্তানিদের পোশাক বিশেষ করে মেয়েদের পোশাকের দিকে সবাই একটা কেমন যেন একটা দৃষ্টি দেয় যা আমার খুব খারাপ লাগে। সেজন্যে আমি যেভাবে বলি তুমি সেভাবে চলবে। কথা দাও যে তুমি আমার কথা মতো চলবে। আমি চাইনা যে আমার সোনার দিকে কেউ এ একটু অন্য ভাবে তাকাক। আমিতো থাকবনা কিন্তু তুমি মনে রেখ যে একি শহরে হয়তো কোন না কোনদিন আমার সাথে তোমার দেখা হোয়ে যেতেই পারে আর সেদিন যদি তুমি আর দশজন বাংলাদেশি মহিলাদের মতো করে ড্রেস পরা থাক তবে কিন্তু আমি ভীষণ রাগ করবো।“

“তুমি শুধু অর্ডার করে যাও, আমি তোমার সব কথা শুনব।“ আমার বুকের মাঝে চুমু দিয়ে বলল। “ তুমি কোনদিন বাইরে সালওয়ার কামিয পরবেনা। শাড়ি পরবে না। কোন বাংলাদেশি অনুষ্ঠানে বা কারো বাসায় গেলে তুমি বাংলাদেশি ড্রেস পরে যাবে সেটা ঠিক আছে। তুমি ব্লু জিন্‌স পরবে যেটা আমার খুব পছন্দ। টি শার্ট, লং ড্রেস, প্যান্ট পড়বে, হাই হীল বুট পড়বে, গরমের দিনে স্যান্ডেল পড়বে।

হিযাব পড়বে না কোনদিনও কিন্তু মার্জিত পোশাক পড়বে। চুল কাঁধ পর্যন্ত রাখবে নইলে এত লম্বা চুল সামলাতে কষ্ট হবে আর তোমার ঠাণ্ডা লেগে যাবে। রেগুলার ম্যানিকিওর,পেডিকিওর করাবে। যখনি বাইরে যাবে তখনি হাল্কা মেক আপ করে নেবে। বলা যায়না যে কখন আমার সাথে দেখা হোয়ে যেতে পারে। আর রেগুলার গোসল করে হাতের নীচে ডিওডোরানট আর অ্যানটি পারস্পিরান্ত ইউজ করবে।“ এক টানে বলে ফেললাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *