লাভ ইন ওমান -২২ হানিকম থিয়োরি অফ লাভ

কি হোত যদি আমরা আমাদের ইপ্সিত জনকে পেয়ে যেতাম? কারতো কোন ক্ষতি হতোনা যদি সারা দুনিয়ার সবাই নিজেদের ভালোবাসার জনকে পেত । ভালোবাসা সম্পর্কে আমার নিজস্ব কিছু মতামত আছে। জীবনে প্রেম, ভালোবাসানিয়ে কম ঘাঁটাঘাঁটি করিনি। প্রতিটা সম্পর্ক নিয়ে এসেছে এক নতুন শিক্ষা ।
কোন দু’টো ভালোবাসাই এক নয়। আমার মনে হয় মানুষ একই সাথে একজনের বেশি মানুষকে কে ভালো বাসতে পারে। মানুষের মনটাই এমন যে কেউ যদি ভালো বেসে থাকে একবার তার জন্যে ভালোবাসা একবারের বেশি আসতে পারে জীবনে।

lovequote

ভালোবাসাটা একটা রাবারের মতো । যতোই টানি না কেন সেটা লম্বা হবেই। আমি আমার স্ত্রীকে খুবি ভালোবাসি কিন্তু ওকেও ঠিক একি রকম ভালো বেসেছিলাম। সে ভালোবাসায় ছিলনা কোন অভিনয় বা কোন স্বার্থের ছোঁয়া। মানুষের মন নিয়ে, ভালোবাসা নিয়ে হাতরে বেড়িয়েছি সারাটা জীবন। মানুষের মন বুঝতে পারার মতো একটা সংবেদনশীল মন সাথে সহমর্মিতার এক অদ্ভুত মিশ্রণে আমার মনকে করে তুলেছে পাখীর পালকের মতো নরম । সারাটা জীবন কেটে গেল এই মন নিয়ে যা আমাকে কোনদিন সুস্থির থাকতে দেয়নি ।

আর সেই সারা জীবনের আলোকে বলছি যে মানুষের মনটা প্রকৃতই বানিয়েছে এমন করে যেখানে কারো জীবনে যতোবারই এ ভালোবাসা বা প্রেম আসুক না কেন প্রতিটা প্রেমেই তার রিঅ্যাকশন হবে একেবারে একই রকম। একটা মানুষের জীবনে যতোবারই সে (পুরুষ বা মহিলা/মেয়ে যেই হোকনা কেন) সে প্রেমে পড়ে বিয়ের আগে বা পরে ততোবারি নিউরোপেপটাইড নামের একটা কেমিকাল হরমোনের আকারে ( ভালোবাসার ক্ষেত্রে এন্ডরফিন এবং আদ্রেনালিন) আসে তাকে দিয়ে সেই একি কাজ করায় যে কাজগুলো হয়ত সে প্রথম প্রেমের বেলায় করেছিল সেই ১৪/১৫ বছর বয়সে ।

Short-Love-Quotes1_large

মানুষ কিভাবে একই সাথে দুইজন,তিনজন বা ৪ জনকেও সমান ভাবে ভালোবাসতে পারে। শুধু তার একটা বুঝতে পারার মতো ইনটেলিজেন্স থাকতে হবে। এই যুক্তি মেনে নিয়েই বলতে পারি যে মানুষের মনটা একটা মৌমাছির চাকের মতো।
মৌমাছির চাকের ভেতরে যেমন ছোট ছোট অনেক চেম্বার বা খোপ থাকে তেমনি আমাদের হৃদয়ের মধ্যে অনেকগুলো ইনভিসিবল চেম্বার বা খোপ থাকে। আমরা জীবনে চলার পথে যাদের সাথে আমাদের মানসিক এবং রোমান্টিক সম্পর্ক হয় তাদের সবাইকে সেই খোপগুলোতে রেখে দেই। কাউকেই ভুলে যায়না সেই মন । চলার পথে বিভিন্ন সময়ে আমাদের ভালোবাসার মানুষটার জন্যে আমাদের ভালোবাসার ফীলিংস এর উপর ডিপেনড করে শুধু সে খোপের জায়গা বদল হয়। যেমন রানি মৌমাছির সবচেয়ে কাছের সৈন্যগুলো রানির সবচেয়ে কাছের খোপগুলোতে থাকে।

Honey

রানির কাজ শেষ হোলে হয় তাদের মরে যেতে হয় অথবা পথ ছেড়ে দিতে হয় নতুন কোন ভালোবাসার মানুষের জন্যে । ভালোবাসা কখনো কমে বা কখনো বেড়ে যায়। এটা নির্ভর করে যে কে কোথায় আর কতোদূরে দাঁড়িয়ে আছে তার উপরে আর এই ভালোবাসার মানুষের জায়গা বদলের যে প্রক্রিয়া সেটাকেই আমি বলি দি হানিকোম থিওরী অফ লাভ।
মানুষের ভালোবাসার ক্ষমতা অসীম কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই জীবনের এই দিকটা নিয়ে হয় কিছু ভাবে না অথবা এরকম ভাবার মতো সক্ষম মানুষ খুব একটা পাওয়া যায় না । অথবা দেখা যায় যে যা পায় তাকেই এটাই ভাগ্য বলে মেনে নেয়। আর এই মেনে নেয়া থেকে আস্তে আস্তে একে অপরের কাছ থেকে দূরে চলে যায় ।

আর যায় বলেই জীবনে আসে এতসব কঠিন অবস্থা । কারো ঘর ভেঙে যায়, কারো জীবন থেমে যায় আবার কারো জীবন নতুন ভাবে শুরু হয়। এই ভাঙ্গা গড়া এ নিয়েই চলে জীবন। আমাদের জীবনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা আমাদের ইপ্সিত কাউকে পাইনা। যা পাই তা অনেকটা সান্ত্বনা পুরুস্কারের মতো যার মূল্য নেই বললেই চলে।
আমার ক্ষেত্রে তাই হোয়েছে আমার ইনভিসিবল চেম্বারগুলো নিয়ে। ভালোবাসায় ভরা এই মনটা যে কতো ভাঙা-গড়ার মাঝ দিয়ে পার হোয়েছে সে কথা কিভাবে বোঝাই । নদীর পাড় ভাঙার মতো করে একদিকে মন যদি ভেঙে যায় তবে আর এক দিক দিয়ে নদীতে চর জেগে ওৄঠার মতো আবারো জেগে ওঠে নতুন করে মনের ভেতরের গহীনে যে আর একটা মন আছে সেই মনের পাড় । এই ভাঙা গড়ার মধ্যে দিয়েই চলছে নিয়তি।

hqdefault

আমি মনে করি মানুষ, বিশেষ করে পুরুষ মানুষ incapable of having only one relationship. পুরুষ মানুষ আর মেয়ে মানুষের মধ্যে শুধু বাহ্যিক পার্থক্যই নেই, মনের অনেক পার্থক্য আছে । বেশিরভাগ পুরুষের কাছে শরীর বেয়ে তারপর মন আর মেয়েদের বেলায় ঠিক উলটো । আগে মন, আগে ভালোবাসা । সেই ভালোবাসায় ভর করেই শরীর পর্যন্ত যায় মেয়েরা। ভালোবাসা বিহীন শরীরের ভালোবাসায় মেয়েরা বিশ্বাস করেনা। সেজন্যে ই বলে, “ মেন আর ফ্রম মারস অ্যান্ড উইমেন আর ফ্রম ভেনাস।“ আসলেই পুরুষ আর মেয়েদের মধ্যে একেবারে আকাশ পাতাল পার্থক্য।

ওর বেলায় ও একেবারে সেরকমই হোয়েছে । ওর স্বামীকে দেখার আগে আমাকে দেখেছে, স্বামীর সাথে জড়িয়ে পরার আগে ও আমার সাথে জড়িয়ে গেছে। এর চেয়ে বেশি ও চায় নি। ওর মনের গহীনে লুকিয়েছিল ভালোবাসার মানুষটার একটা অবয়ব । সেই ছবির সাথে মিলে নাই ওর স্বামীর ছবি । সেখান থেকেই সুত্রপাত হয় ওর মনের খরার। ভালোবাসার বৃষ্টির অভাবে সেই মনের জমিন ফেটে হয় চৌচির । জল চাই, জল চাই, ভালোবাসার বৃষ্টি চাই বলে ওর সেই আকুতি কখনো পৌঁছেনি ওর বাবা মার কাছে ।

প্রচণ্ড খরার মাঝে আকাশ কালো করে ঝম ঝম করে মুষলধারে বৃষ্টি হোলে সে বৃষ্টি এক নিমিশেই হারিয়ে যায় খরায় ফেটে যাওয়া জমিনের ভেতরে । জল চাওয়ার সেই আকুতি থেকেই যায় যতক্ষণ পর্যন্ত না ওর চৌচির হোয়ে যাওয়া মাটি ভিজে স্যাঁতস্যাঁতে না হোয়ে যায়। যতক্ষন পর্যন্ত না ভালোবাসা ভিজিয়ে দেয় তার অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যৎ ।
চৈত্রের কাঠফাটা রোদ্দুরের হাত থেকে বাঁচার জন্যে যেভাবে চাতক পাখী চেয়ে থাকে নীল আকাশের দিকে এক টুকরো মেঘের আশায়, এক বিন্দু জলের আশায় । তেমন করেই ও চেয়ে ছিল সেই পথের দিকে যে পথে হেঁটে আসবে, ওকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে সেই একজন যাকে ওর অবচেতন মন খুঁজছিল অহর্নিশ । যে নিয়ে আসবে ওর জন্যে একরাশ বৃষ্টি । যে বৃষ্টিতে অবগাহন করে ও ভেসে যাবে ভালবাসার স্রোতধারায় ।

আর যখন সেই মেঘের খণ্ড ওর মনের আকাশ জুড়ে বৈশাখীর সন্ধ্যে বেলার মতো ঘন কালো অন্ধকার হোয়ে আসা মেঘ হওয়ার বদলে উড়ে গেল, মিশে গেল বাতাসের সাথে… ঠিক তখনি আমি এলাম কাল বৈশাখীর ঝরের মতো , ওর মনের আকাশ কালো করে মুষলধারে ভালোবাসার বৃষ্টির প্রতিস্রুতি নিয়ে আর ও ভেসে গেল ভালোবাসায় উপচে পড়া এক অজানা ভবিষ্যতের দিকে।
এর থেকে বেশি ও চায়নি । বাঁচার জন্যে ওর ছিল শুধু অতোটুকুই খর কুটো যাকে হাতরে ধরে ও চেয়েছিল বাঁচতে। ওর এই দম বন্ধ করা জীবনে যখন আমি নিয়ে এলাম সমুদ্র পারের ফুরফুরে বাতাস তখনি সে জানতে পারে,তখনি সে বুঝতে পারে যে ওর আর কিছুই চাওয়ার ছিলনা । ছিল শুধু নিজের ইচ্ছেকে পুরন করার লিপ্সা হোক না সে মাত্র ক’দিনের জন্যে ।

মানুষ যখন কোনকিছু চেয়েও পায়না আর পেলেও তার স্থায়িত্ত সম্পর্কে থেকে যায় অজানা তখন তার কাছে ভবিষ্যতের চেয়ে বর্তমানই হোয়ে যায় মুখ্য। আর এ জন্যে ই ও পেরেছে নিজেকে বিলিয়ে দিতে । এ জন্যে ই পেরেছে সম্পূর্ণ এক অপরিচিত কারো কাছে নিজেকে সঁপে দিতে। এজন্যে ছিল না ওর কোন অনুতাপ। ছিলনা কোন দ্বিধা।

Jacuzzi

সারাটা দিন বিছানার উপরেই কাটিয়ে দিলাম একজন অপরজনের ভালোবাসার মাঝে। মনে হোচ্ছিল যে ও যেন চাচ্ছিল যতটুকু বেশি করে পারে আমার ছোঁয়া সাথে নিয়ে যাবে। ঝরের তাণ্ডবের পরে যেমন শুনশান নিরবতা থাকে তেমনি করে আমাদের ভালোবাসার তাণ্ডবের পর ভালোবাসায় পরিতৃপ্ত, বিন্যস্ত হোয়ে ছিল ও। হাসি হাসি ভাবের একটা মুখ সে কিনা পরম নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে আমারই বুকের উপর তাকে ছেড়ে কিভাবে আমি চলে যাব, কিভাবে আমি থাকব বেঁচে যখন আমি প্রতিটা মুহূর্ত থাকব উন্মুখ হোয়ে জানতে যে ও কেমন আছে ।

ওই নিস্পাপ, নিষ্কলঙ্ক , দেবীর মতো শান্ত মুখের দিকে তাকিয়ে আমার মনটা হু হু করে কেঁদে উঠে বার বার। কি ভীষণ নিরাপদ ও মনে করেছে আমার বুকে আর তাইতো দেশ থেকে, মা বা, ভাই, বোন থেকে হাজার মাইল দূরে এক হোটেল রুমে এক অচেনা কারো বুকের ভেতরে পরম নিশ্চিন্তে মুখ গুঁজে ঘুমিয়ে আছে। ওর অবচেতন মনের ভেতরে নেই কোন ভয়, নেই কোন শঙ্কা । মনে হয় ও জানে যে পৃথিবী নামের এই গ্রহে আমার বুকের চেয়ে নিশ্চিন্ত জায়গা ওর একটাও নেই।

tinh-yeu-co-dom

সারাটা জীবন ভালোবাসাকে বুঝতে চেয়েছি কিন্তু বার বার হেরে গিয়েছি। বার বার হৃদয় রক্তাক্ত হোয়েছে। খলিল যিব্রানের কবিতার সেই একটা লাইন আমি আক্ষরিক অর্থেই প্রমান করেছি। যিব্রান বলেছিলেন,” যে হৃদয় রক্তাক্ত না হয় সে হৃদয় কোন হৃদয় ই না।“ আমার চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছিল যে যে হৃদয় সবসময় রক্তাক্ত হয় সে টা কি তাহলে ? বিধাতা কেন বানিয়েছিলেন আমার হৃদয় ? কেন দিয়েছিলেন এমন নরম করে যে যে কারো জন্যে ব্যাথা এসে জমে। শাহজাহানের তাজমহল সবাই দেখে কিন্তু আমার হৃদয়ের গহীনে যে প্রতিনিয়ত তাজমহল ভাঙে আর গড়ে তাকে দেখবে কে ?

ভালোবাসা বলে কয়ে হয়না। কেউ জানেনা যে কে কাকে কোন সময়ে ভালোবাসবে । কেউ জানেনা যে জীবনের কোন বাঁকে কখন সেই আরাধ্য জনকে পেয়ে যায় আর কোন দিক দিয়ে সে এসে তাকে পুরোপুরি নিজের করে নেয়।

ওর মুখের উপরে ক’টা চুল এসে ছিল। আলতো করে ফুঁ দিয়ে সরিয়ে দিলাম। এত নাজুক ও । মনে হয় একটা ফুলের আঘাতে ও মূর্ছা যাবে। কিভাবে পারব ওকে ছেড়ে দিতে এক অজানা ভবিষ্যতের দিকে , এক অচেনা কারো কাছে ? কিভাবে পারব আমি ? কেন দুনিয়ায় এতো মানুষ থাকতে বার বার শুধু আমিই সৃষ্টিকর্তার হাতের পুতুল হোচ্ছি ?
আমাকে দিয়ে সৃষ্টিকর্তা পরীক্ষা করিয়ে নিচ্ছেন যে কিভাবে একজনের হৃদয় ভেঙ্গে, কি করে একজনের পুরো বর্তমান আর পুরো ভবিষ্যত ধ্বংস করে দিয়ে থাকা যায়। মনে হোল আমার বুকটা চিরে হৃদয়টাকে উপড়ে ফেলে দেই আরব সাগরে। নো হার্ট নো পেইন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *