লাভ ইন ওমান -২১

আমার দিকে তাকিয়ে থাকা ওর চোখ কি যে বলছে তা আমি বুঝতে চাচ্ছিলাম কিন্তু বুঝে উঠতে পারছিলাম না। আমাকে কি ও ঘৃণা করবে ? আমাকে কি ভাববে লুচ্চা, লাফাঙ্গা ? কোনদিনও কি মনে হবে না ওর যে আমি ওকে ঠকিয়েছি ? করুণ ভাবে চেয়ে থাকা কাঁদতে কাঁদতে চোখের অস্রু শুকিয়ে যাওয়া একটা ইনোসেন্ট মেয়ে কাউকে ভালোবেসেছে, অসহায়ের মতো আত্মসমর্পণ করেছে।
সঁপে দিয়েছে এমন একজন কে যে কিনা তাকে কষ্ট ছাড়া আর কিছুই দিতে পারবেনা। আচ্ছা কেন এমন হয় ? খুব দেখতে ইচ্ছে করে নিয়তির সেই কিরামিন কাতিবিন দু’জনকে ( রাকিব আর আতিদ) যারা আমাদেরই কাঁধে বসে আমাদেরই নিয়তি লিখছে।

for-washing-your-eyes-my-tears-are-enough-79922

আমি বললাম,” আমি তোমাকে কোনদিন ভুলে যাবনা । আমার প্রতিটা দিনের শুরু হবে তোমার ভালো চেয়ে আর শেষ ও হবে তোমার ভালো চেয়ে। তুমি ভালো থেক। আমি পরজন্মে বিশ্বাস করি অনেকটা হিন্দুদের মতো যে আমরা যদি ভালো কাজ করি তবে আমাদের মরে যাবার পর সৃষ্টিকর্তা আবার আমাদের এই দুনিয়াতে ফিরিয়ে নিয়ে আসবেন । আমি যদি আরো লক্ষ কোটিবার এখানে ফিরে আসি, যদি আমার লক্ষ কোটি বার পুনরজন্ম হয় তবে আমি প্রতিটাবারই আমি শুধু তোমাকেই চাইব সোনা ।“

“তুমি আমাকে এতোটা ভালোবেসে ফেলেছ ? কি আছে আমার মধ্যে যা দেখে তুমিও আমাকে ভালোবেসে ফেলেছ।?” ও জানতে চাইল। আমি ওর নাকটা টিপে দিয়ে বললাম,” কি নেই তোমার মধ্যে? তোমার একটা দারুণ সুন্দর মেদ বিহীন শরীর আছে।“ আমাকে খামচি দিয়ে ধরে রাখল আমার হাতের উপরে। কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে জিজ্ঞেস করল,” ব্যাস আর কিছুই নেই ?”

“আরে বাথা দিচ্ছত।।আমিতো শুধু দুষ্টুমি করছিলাম। খামছিটা ও ছেড়ে দিল। আমার হাতে উপরে ওর ৫ টা নখের দাগ বসে গেল। তারাতারি আমার হাত টেনে নখের দাগের উপর চুমুতে চুমুতে ভড়িয়ে দিল। আমি বলে চললাম,” তোমার মধ্য্যে আছে এক নিস্পাপ মন, একটা প্রচণ্ড ভালোবাসতে পারার মতো মন, তোমার মাঝে আছে এক সরলতা যা এখন আর পাওয়া যায় না। তোমার মধ্যে আছে একটা মন যে মনটা কিছুই বুঝতে চায়না শুধু চায় ভালোবাসতে। সবচেয়ে বড় কথা হোল যে তুমি আমার সউলমেট যাকে বাংলায় বলা যায় আত্মার সঙ্গী । মনে হয় তুমি আমাকে আমার ওয়াইফের চেয়ে বেশি বুঝতে পার। “

sky

আমাকে জিজ্ঞেস করল,” আমাকে ভালোবাসো ?” আমি উলটো জানতে চাইলাম, “ তোমার কি মনে হয় ?” ওর বাঁ হাতটা আমার বুকের হাল্কা লোমগুলোর উপরে ছুঁয়ে ছুঁয়ে বলল,” আমার শুধু মনেই হয়না বরং বলা যায় যে আমি জানি যে তুমি আমাকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছ । তোমার প্রতিটা কথা, আমাকে প্রতিটা মুহূর্ত আরাম দেবার চেষ্টা, আমার ভালো মন্দ খেয়াল রাখার চেষ্টা এগুলো ভালোবাসা ছাড়া কোনদিনই আসতো না।“

আমি ওকে থামিয়ে দিয়ে বললাম,” কিন্তু আমিতো অত্যন্ত সাধারন একজন মানুষ । সাধারনভাবে কথা বলি। আমার মধ্যে এমন কি দেখলে তুমি যে এমনভাবে আমার সাথে জড়িয়ে গেলে ?” ও শোয়া থেকে উঠে আমার বুকে ওর চিবুকটা রেখে বলল,” তুমি জাননা যে তোমার আপাতদৃষ্টিতে দেখা এই সাধারন কথাগুলো কি ভীষণ পাওয়ারফুল ।

Never forget you

তোমার এই সিমীংলি সাধারন কথাগুলোতে যে কি লুকিয়ে আছে তা তুমি জাননা। তুমি একটা ম্যাগনেট । তোমার এই অসাধারণ পাওয়ারফুল কথাগুলোর জন্যে সারা জীবন কেউ অপেক্ষা করতে রাজী থাকবে।‘ বলেই আবারো আমার হাতের উপরে মাথা রেখে শুয়ে পড়লো। আর আমার মনে পরে গেল যে এর আগেও কেউ একজন আমাকে এমনি কথা বলেছিল যে আমার কথাগুলো খুবই মানুষকে আমার দিকে টানে আর আমি নাকি জানিনা যে আমার কথাগুলো কতো বেশি পাওয়ারফুল ।

হটাৎ করেই ও শোয়া থেকে উঠে বসলো কোনরকম ভনিতা না করে সরাসরি আমাকে বলল,” আমাকে প্রেগন্যান্ট করে দাও। আমি তোমার স্মৃতি চিহ্ন চাই।“ ওর কথা শুনে আমি স্প্রিঙ্গের মতো উঠে বসলাম। “ বলোকি ? তুমি কি চাও যে তোমার বর তোমাকে লাথি দিয়ে ঘর থেকে বের করে দিক ? তুমি কি চাও যে আমাকে ছাড়া তুমি আমাদের সন্তান বড় করবে তোমার স্বামীর নামে? পাগলি মেয়ে এসব একদমই ভাব্বে না। “

don't leave me

বললাম তো ঠিকই কিন্তু আমার মাথা পুরো নষ্ট হোয়ে গেল মনে হোল। মনে হোল যে এখনি আমার হার্ট অ্যাটাক হবে। মাথা ভোঁ ভোঁ করতে লাগল । “ শোন, আর এভাবে চিন্তা করবে না। এতে আমাদের দু’জনের সাথে সাথে আমাদের বাচচার জীবনটাও নষ্ট হোয়ে যাবে। “

“আচ্ছা।“ ছোট্ট করে একটা উত্তর দিল। আমার ঘাম দিয়ে যেন জ্বর ছাড়ল। “তাহলে আমার ছেলে হোলে আমি ওর নাম তোমার নামে রাখব । তোমাকে না পাই তবু তুমি আমার বাচ্চার নামের মাঝে থেকে যাবে চিরকাল। আমার সামনে আমার সন্তান খেলবে, কাঁদবে, বড় হবে, স্কুলে যাবে , বিয়ে করবে কিন্তু তোমার নামের সাথে ওর নাম জুড়ে দিয়ে আমি আমৃত্যু আমার সন্তানকে দেখে যাব। তুমি আমারই চোখের সামনে আমারই হোয়ে থাকবে। কেউ কোনদিন জানতে পারবে না ।

আমি আমার স্বামীর সাথে থাকব, সংসার করব, তার বাচচার মা হব। সবি করে যাব শুধু ভালোবাসাটুকু তোলা রইবে তোমার জন্যে । তোমার কথামতো আমাদের পুনরজন্মের পর আবার তোমাকে ভালোবাসব। তখন আমি নিযে হাতে আমার নিয়তি লিখব।“ এত্ত ইনোসেন্ট একটা মেয়ে কিভাবে রাতারাতি এতটা ম্যাচুওর হোয়ে গেল। পরিস্থিতি মানুষকে কতোকিছু শিখিয়ে দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *