লাভ ইন ওমান -১৯

আমার ঘুম ভাংল যখন ও জানালার পর্দা ওপেন করে দিল রুমে সূর্যের আলো আসবে বলে। চোখ ডলতে ডলতে চোখ খুলেই দেখি আমার সকালের দেবী আমার সামনে দাঁড়ানো, মনে হোচ্ছিল যদি গ্রীক সৌন্দর্যের দেবী ভেনাস সত্যি সত্যি থাকতো তাহলে ওর চেয়ে বেশি সুন্দরি হোত না। অলরেডি গোসল করে এসেছে। ফ্রেশ।
আমি জেগে যাব বলে হয়ত হেয়ার ড্রায়ার ইউজ করেনি তাই চুল তখনো ভেজা। “ চুল ড্রাই করনি কেন? “ জানতে চাইলাম। “ এর দু’টো কারণ আছে। একটা হোল যে তোমার ঘুম ভেঙে যেত আর সেকেন্ড কারণ হোচ্ছে যে তুমি ড্রাই করে দিয়েছ গত তিন দিন সেজন্যে আমার অভ্যেশ হোয়ে গিয়েছে।“ হেসে বলল।

wet hair2

আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো। আমি ওকে ধরে ফেললাম আর জোর করে টেনে আনলাম আমার কাছে। চুমু দেয়ার চেষ্টা করতেই ও বলল,” ইয়াক।।দাঁত ব্রাশ না করে চুমু দেয়া যাবেনা জনাব।“ আমি বললাম,” মনে থাকে যেন। দেখ তুমি একদিন এই একটা চুমুর জন্যে কতোভাবে আমাকে খুঁজবে আর কাঁদবে আমার জন্যে ।‘ বলেই বুঝে ফেললাম যে এই সাত সকালে দিলাম ওর মন খারাপ করে।
ও আমার দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। ওর চোখ ভরে গেল অশ্রুতে। ও আমার উপরে ঝাঁপিয়ে পরল আর পাগলের মতো কিল ঘুষি মারতে লাগল…চিৎকার করে বলল,” কেন, কেন তুমি ওকথা বললে।।? আমাকে ছেড়ে যেতে তোমাকে দেবনা। আমি মরে যাব, মরে যাব…”

Dream2

ও কান্নায় ভেঙে পরল। ফ্লোরের উপরে বসে পড়ল। অসহায়, অবুঝ, মৃতপ্রায় একজন । আমি বুঝতে পারলাম না যে কি করা উচিৎ আমার। টোটালি স্পীচলেস। ওকে ধরে বিছানার উপরে নিয়ে এলাম। বললাম একটু ওয়েট করতে। আমি বাথরুম থেকে আসছি। আমার আসলেই দাঁত ব্রাশ করাটা জরুরি হোয়ে পড়েছিল। বাথরুম থেকে ফিরে এসেও দেখলাম যে ও কেঁদেই চলছে।
আমি ওকে টেনে আমার কাছে নিয়ে এলাম। বুকের ভেতরে ছোট্ট পাখীর মতো মাথা গুঁজে রইল। ওর চিবুক ধরে বললাম,” আমার দিকে তাকাও। ও তাকাল। আমার মনটা ব্যথায় ভেঙে গেল। কি করেছে ও।“ সোনা তোমাকে এসব মানিয়ে নিতেই হবে। আমি জানি আমি স্বার্থপরের মতো তোমাকেই শুধু বলি দিতে বলছি।

কিন্তু তুমি যদি নিজেকে না সামলাও তবে তোমার বরের সাথে তোমার থাকা কঠিন হোয়ে পড়বে। তার সাথে থাকতে পারবেনা। সে তোমাকে ডিভোর্স করে দেবে। তখন কি হবে বল? আমি যদি পারতাম তবে তোমার সাথেই থাকতাম। তোমাকেই বিয়ে করতাম কিন্তু তোমাকে তো আমি বলেছি যে আমি ম্যারিড। তুমিতো জান যে বাস্তবতাটা কি।“

“ তুমি জান যে আমার জীবনে তুমিই প্রথম পুরুষ। আর কোন পুরুষের ছোঁয়া আমি কোনদিনই পাইনি। আর সেটা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। যে শরীর, যে মন তুমি ছুঁয়েছ তাকে আমি আর কোনদিন কাউকে ছুঁতে দেবনা। আমার হাজব্যান্ডকে আমি চিনিনা, জানিনা। সে আমার কাছে টোটালি একজন অপরিচিত মানুষ। আমার বাবা মা বলেছে বিয়ে করতে আমি তাদের কথার অবাধ্য হইনি কিন্তু এটা বলতে পারিনি যে বাবা মার পরিচিত কাউকে নয় আমার নিজের পছন্দের কাউকে ভালোবেসে ।

এরপর তুমি এলে। নিয়তি আমাদের এক জায়গায় এনে দাঁড়া করাল। তুমি এসেই আমার জীবন কে ছিন্ন ভিন্ন করে দিলে। আমাকে ধ্বংস করে দিলে। তুমি কি বুঝতে পারছ যে আমি বাকিটা জীবন কিভাবে একটা অপরিচিত লোকের সাথে কাটাবো? আমি তার সাথে থাকব। স্বামী হিসাবে সে আমাকে ছাড় দেবেনা। সেজন্যে তার সাথে থাকব, তার বাচ্চার মা হবো কিন্তু তাকে ভালোবাসতে পারবনা। বল এটা কি বেশ্যামী নয় ?” আমার বুকের উপরে দুই হাত দিয়ে ও ক্রমাগত আঘাত করে চলল। আমাকে জোরে চেপে ধরল। বুকের মাঝে নিয়ে পিষে দিল আমাকে।

riverbank-erosion

নদীর পাড় ভাঙ্গার শব্দ হয়, চোখে দেখা যায়, যুদ্ধ হয় সেটাও চোখে দেখা যায় কিন্তু মন ভাঙার কোন শব্দ নেই।।মনের সাথে যুদ্ধ করা সেটাও কেউ দেখতে পারেনা।। কিন্তু আমি ক্রমাগত যুদ্ধ করছি আর এ জন্যে আমি নিজেকেই দায়ী করতে লাগলাম। আমি গত তিনদিনের সবকিছু ভালো করে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে লাগলাম। আমি দায়ী। আমিই ওর এই অবস্থার জন্যে দায়ী।
কিভাবে আমি ওকে ফিরিয়ে দেব ওর যা কিছু আমি নিয়েছি। আমার চোখ দিয়ে কান্না ঝরে পড়তে লাগল । কিন্তু আমাকে হাল ছাড়লে চলবেনা। আমাকে যে চেষ্টা করতেই হবে । যে ভাবেই হোক ওর যেন কিছুটা হোলেও কষ্ট কম হয়। আমার নিজের প্রতি ধিক্কার হোতে লাগল। আমি আমার নিজের কাছেই নিজে ছোট হোয়ে গেলাম। একটা ফুলের মতো পবিত্র মেয়েকে আমি শেষ করে দিলাম।

আমি ওকে বুকের মাঝে লুকিয়ে রেখে বললাম,” জীবন বহতা নদীর মতো সোনা। থেমে থাকবে না। তুমি ব্যাপারটা এভাবে দেখ যে অনেকেই আছে যাদের জীবনে কোনদিন ভালোবাসা আসেনি ।
তুমিতো লাকি যে ভালোবাসার আদলে তুমি আমাকে ভালোবাসলে । আমি তোমাকে ভালোবাসলাম এটাই বা কম কিসের ? তুমিও কি ভেবেছ যে আমি তোমার স্মৃতি নিয়ে কিভাবে বেঁচে থাকব? আমি আমার স্ত্রীকে ভালো বাসি আর আমি তোমাকেউ ঠিক একি রকম ভালোবাসি ।
গত ক’টা দিন আমার জীবনের বেস্ট ক’টা দিন। আমাদের এইসব স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে । যদি তা না হয় তবে আমাদের দুজনের জীবনেই অনেক সমস্যা হবে।“ আমি জানি আমি শুধু লেম একসকিউজ দিয়ে যাচ্ছিলাম তবুও আমাকে চেষ্টা চালিয়ে যেতেই হবে নইলে যে ওকে সামলানো যাবেনা।

“আমি কিছুই জানিনা, বুঝিনা। জানতেও চাইনা আর বুঝতেও চাইনা। শুধু এতুকুই জানি যে আমি তোমাকে চাই। তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচবনা। তুমি আমার প্রথম এবং শেষ ভালোবাসা।“ ও কেঁদেই চলল ।
আমি বুঝতে পারছিলাম যে আমাকে কিছু করতে হবে কিন্তু কি যে সেটা বুঝতে পারছিলাম না। ওর মন ভালো করতেই হবে। আমি জানি যখন ও ভালো ফীল করবে তখন ওর কাছে দেয়া যুক্তি কিছুটা হোলেও সুযোগ পাবে কিন্তু যদি ওর মন ভালো না হয় তবে ও কোন যুক্তি তর্কের ধার ধারবেনা।

You are my last

আমি বাথরুমে এলাম। দরজা বন্ধ করে যাকুজির ভেতরে বাবল বাথ এর ক্রিসটাল ছেড়ে গরম জলের টেমম্পারেচার মেপে জল ছেড়ে দিলাম যাতে পুরো জলে ভরে যায় সাথে প্রচুর ফোম হয়। বিছানায় বসা ওকে টেনে কাছে নিয়ে এলাম। আর ও কিছু বোঝার আগেই ওকে পাঁজাকোলে করে যাকুজির কাছে নিয়ে গেলাম। হোটেলের দেয়া রোবের ফিতে খুলে দিতেই ও আমার চোখ দুই হাত দিয়ে বন্ধ করে দিল। আমি ও কে সোজা সেই ফোমি হাল্কা গরম জলে নামিয়ে দিলাম।

এত ফাস্ট ঘটনাটা ঘটে গেল যে ও কিছু বলার বা বোঝার সময় পায়নি। ও স্ক্রিম করে উঠল,” আমি এইমাত্র গোসল করেছি।“ রোবটা খুলে নেমে পরলাম। ও ভুলে গেল একটু আগের কান্নার কথা। কোমড় পর্যন্ত জলে নেমে খুব খুশি হোয়ে গেল। ফোম নিয়ে খেলতে খেলতে দুই হাতে নিয়ে মুখে মাখিয়ে দিল।

আমি ওর দিকে তাকিয়ে দেখলাম। বেশ খুশি খুশি লাগলো ওকে । আমি দুই হাত দিয়ে ওকে কাছে টেনে গভীর মমতায় ওর ঠোঁটটাকে আদরে আদরে ভরিয়ে দিলাম আর হারিয়ে গেলাম আমাদেরই গড়া এক নতুন পৃথিবিতে।।

shower_couple_scene

এক সময় ও উঠে গিয়ে শাওয়ারে দাঁড়ালো। আমাকেও ডাকল… আমি শাওয়ারে ওকে জড়িয়ে ধরে গরম জলের ঝর্ণাধারা দু’জনের উপড়ে দিয়ে আরাম করে দাঁড়িয়ে রইলাম খানিকক্ষণ । বলল,” এই আমাকে পিঠে একটু বডি লোশন সোপ লাগিয়ে দাওত। আমি ওর শুধু পিঠে না সারা শরিরে ফোম লিকুইড সোপ দিয়ে ভালো করে গোসল করিয়ে দিলাম। ও আমাকে জোর করে ঘুরিয়ে আমাকে একইভাবে ভালো করে ঘষে গোসল করিয়ে দিল ।

আমি ওকে বডি লোশন লাগিয়ে দিয়ে ওর মোটা দাগের চিরুনিতা নিয়ে চুল ড্রাই করে দিলাম। দেখলাম যে ওর চুল উঠছে। গত দুদিন আগেও আমি খেয়াল করেছি যে চুল উঠছিলনা কিন্তু আজ কেন। ? আমার মনে হোল যে যেহেতু ও খুব স্ট্রেস-এর উপরে আছে সেজন্যে চুল উঠছে। আমাকে ও লোশন লাগাতে চাইল কিন্তু ওটা আমার পছন্দের কোন জিনিস না বলাতে বলে উঠল,” শোন, এটা তোমার শরীর হতে পারে কিন্তু এটা আমার সম্পত্তি। আমার যেমন ইচ্ছা হবে তেমন ভাবে খরচ করব সো যা বলব তাই করবে।“ আমি হেসে বললাম,” কিন্তু তুমিত আমার সম্পদ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই হৈমন্তীর মতো। স্মার্ট মেয়ে বুঝে নিল এক সেকেন্ডেই যে আমি কি বলতে চাচ্ছি। ভেংচি কেটে বলল,” তোমার সাথেতো আর কথাতে আমি পারবনা।“ ক্ষুধায় পেট চোঁ চোঁ করছে। নীচে ব্রেকফাস্ট এ যাব বলে ওকে রেডি হতে বললাম। কিন্তু ও যাবেনা বলল। জিজ্ঞেস করতেই বলল,” সোনা, আমার মনটা ভালোনা। প্লিজ খাবারতা এখানেই আনার ব্যাবস্থা করনা।“ আমি রুম সার্ভিস কে আমাদের জন্যে ব্রেকফাস্ট পাঠাতে বলে বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *