লাভ ইন ওমান -১৮

আমি বললাম,” বোকা মেয়ে ছুঁয়ে দিলেই কেউ প্রেগন্যান্ট হয়না। তাছারা চিন্তা কোরনা। আমি তার ব্যবস্থা করেছি। যার নামের সুরু হোল ক দিয়ে আর শেষ হোল ম দিয়ে।“ স্মার্ট মেয়ে ঠিকি বুঝে নিল। অবাক হোয়ে বলল,” হোয়াট ? কখন ? কিভাবে ?” ও যেন নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছেনা।
আমি বললাম,” ওই যে যখন ড্রাগ স্টোরে গিয়েছিলাম। তখন। “ও তা’হলে তোমার ওই মাথা ব্যথা ছিল।।? আমি গর্বের সাথে বললাম,” ইয়াপ। আমাকে দুই হাত দিয়ে খামছি মারার জন্যে যখন দুই হাত ওঠাল তখন আমি ওর হাত দুটো খপ করে ধরে ফেললাম। আমার হাতের ভেতর থেকে হাত সরাতে চেষ্টা করল কিন্তু পারলনা। আমি হেসে বললাম,” মাফ চাইছ কেন ?” কই মাফ চাইলাম ? এইযে দুই হাত জোড়া করে আছ, মনে হচ্ছে যে মাফ চাইছ,” আমি ওর হাত ধরে বললাম।

kiss
ও জোরে জোরে বলতে লাগল,” তুমি , তুমি একটা খুব পাজি আর পচা মানুষ বাট আই লাভ দিস ব্যাড মান।“ ও আমার চুল ধরে ওর দিকে নেয়ার চেষ্টা করল। আমার সাথে রীতিমতো ফাইট করে আমার উপরে বসে পরলো। ‘জিতে গেছি…।“ আমি ওর কান্ড দেখে হাসতে শুরু করে দিলাম। আমি ওর নীচে শুয়ে বললাম,” তুমি আমাকে ব্যাড ম্যান বলেছ।“ বলেই আমি ওকে এক টানে আমার নীচে আটকিয়ে ধরে ফেললাম। “ কিন্তু আমিত বললাম যে যে আই লাভ ইউ।“’ বললেই কি আর সব দোষ কেটে যাবে ডিয়ার?

আমি ওর কোমড় জড়িয়ে ধরে আদরে আদরে ভরিয়ে দিলাম। ও একটা বালিশ নিয়ে আমাকে ওটা দিয়ে হিট করতে লাগল। আমি বালিসটা ধরে ফেলে আবার ওর হাত ধরে ফেললাম। ও অলরেডি টায়ার্ড হোয়ে গিয়েছিল। আমি ওকে আদরে আদরে ভরিয়ে দিলাম। চুমুতে চুমুতে ভরিয়ে দিলাম ওর সারা শরীর । কপাল থেকে সুরু করে ঠোঁট ছুঁইয়ে সোজা নিচের দিকে নেমে গেলাম। ও ঝড়ে পড়া বেতস পাখির মতো কাঁপতে লাগলো। আমি জানি ওর ভেতরে প্রচন্ড ভাঙ্গন আর তোলপাড় হচ্ছিলো। একটা ভয়ও কাজ করছিল। আমাকে বার বার জড়িয়ে ধরতে লাগল। কানে কানে বলল,” আমি আর পারছিনা। কিছু একটা কর।“ আমার মনে হোল ওর বোধ হয় জ্বর এসেছে। পা থেকে মাথা পর্যন্ত আগুনের মতো গরম হোয়েগেছে ওর সারা শরির। আমি জানি আমি ই তার জীবনের প্রথম পুরুষ। আর কোন পুরুষের সান্নিধ্য পায়নি ওর আগে।

দুজনেই প্রচণ্ড টায়ার্ড হোয়ে গেলাম। চুপ চাপ আমার বুকে মাথা রেখে শুয়ে ছিল ও । আমি জানি ও অনেক কিছু ভাবছিল। একজন বিবাহিতা মেয়ের পক্ষে এই ভাবে আর একজনের প্রেমে পড়া অতোটা সোজা কোন ব্যাপার না। আমি ওকে চিন্তা করার সুযোগ দিলাম। পরিস্রান্ত দু’জনেই। ওর কোন নড়া চড়া না দেখে আমার বুকে শুয়ে থাকা ওর দিকে তাকালাম। বেচারি ঘুমিয়ে গেছে। আমি চুপ করে শুয়ে রইলাম যাতে এতটুকু শব্দ বা কোন কারণে ওর ঘুম ভেঙে না যায়।

Close-up of a young couple sleeping

Close-up of a young couple sleeping

কখন যে আমিও ঘুমিয়ে পরেছিলাম বুঝতে পারিনি। জানিনা কতক্ষন ঘুমিয়ে ছিলাম। পাশেই তাকিয়ে দেখলাম যে ওর পরিস্রান্ত মুখে কি ভীষণ এক তৃপ্তির ছায়া। আমি আস্তে করে উঠে বাথরুমে গেলাম। বাথরুম থেকে এসে পাজামা স্যুট পরে ওর পাশে শুয়ে রইলাম। ওর দিকে তাকিয়ে বললাম মনে মনে,” ঘুমাও সোনা, ঘুমাও।“
ঘুম ভাঙ্গার পর পাশে বসা আমার দিকে তাকাল। মিস্তি একটা হাসি দিল। “ আমি কতক্ষন ঘুমিয়েছি ? এইত ঘণ্টা দু’য়েক হবে।“ লেপের নীচে পুরো ন্যুড । পাজামা আর টি শার্ট ফ্লোরে পড়ে আছে। “ এই আমার কাপড় কই ? প্লিজ দাও না।“ “ তোমার নিজের কাপড় নিজেই নাও, আমি তোমার কে যে আমাকে দিতে বলছ ?” বলেই মনে হোল হয়ত ওর মন খারাপ করে দিলাম।

কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে বলল,” তুমি যদি জানতে যে তুমি আমার কে তাহ’লে কোনদিন এ কথা বলতে পারতে না। “ আমি আবার লেপের ভেতরে ঢুকে গেলাম। ওকে জড়িয়ে ধরে বললাম,” সোনা আমি জানি যে আমার জন্যে তোমার মনে কি আছে। আমি জানি যে তুমি আমাকে এত ভালোবাস যে আমার মতো আর কাউকেই ভালো বাসতে পারবেনা । আমি জানি সোনা, আমি জানি।“ চোখ ভিজে গেল ওর ।

sd

টপ্ টপ্ করে চোখ থেকে অস্রু ঝরতে লাগলো। বুকের ভেতরে টেনে নিলাম । “ প্লিজ কেঁদনা। বলতে বলতে আমি নিজেই কেঁদে ফেললাম। দু’জনে দু’জনকে ধরে কেঁদে বুক ভাসালাম। এবার আর কেউ কাউকে থামালাম না। এতেও যদি সব কষ্ট ধুয়ে মুছে যায় তবে যাক। কাঁদতে কাঁদতে ওর চোখ মুখ ফুলে গেল।

প্রচণ্ড ঝড়ের রাতে বাবুই পাখির বাসা ভেঙে গেলে অসহায় পাখি ভিজতে থাকে একাই সেই ঝড় আর বৃষ্টিতে । কখনো তার ডানা ভেঙে যায় । সে এসে আস্রয় নেয় কারো বাড়িতে। কোথাও কোন খর কুটোকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায়। কিন্তু আমি যে কিছুই রাখলাম না ওর জন্যে । নিজেকে ভিষণ অপরাধি মনে হোল। জোর করে কাপড় পড়িয়ে দিয়ে পাঁজা কোলে করে নিয়ে গেলাম বাথরুমে। পরম ভালোবাসায় হাল্কা গরম জলে ছোট টাওয়েল ভিজিয়ে মুছে দিলাম ওর মুখ। ফরশা মুখে নাক লাল হোয়ে গিয়েছে। লম্বা চুলগুলো আঁচড়ে দিলাম। ব্যান্ডটা খুলে আবাওর ঝুটি বেঁধে দিলাম । ও আমাকে জড়িয়ে ধরল। দেশ থেকে হাজারও মাইল দূরে এভাবেই দুইজন সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষ এভাবেই একে অন্যের জন্যে হোয়ে উঠল একমাত্র সহায়।

বাথরুম থেকে ফিরে এসে আমি বিছানাতে উঠে বসলাম। ও আমার পাশেই বসলো। আমি ওকে ধরে আমার বুকের মধ্যে নিয়ে এলাম। ও আবারও কথা বলতে শুরু করল। আমি আটকাতে চেষ্টা করলাম কিন্তু ও থামল না। বুকে মাথা গুঁজে আস্তে আস্তে বলল,’ তুমিই বলে দাও যে এখন আমি কি করব ? “ আমি বললাম,” কি বলছ বুঝিয়ে বল।“ ও বুকের ভেতর থেকে মাথা বের করে সেই নীল ডিম লাইটটার দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। আমি চুপ করে রইলাম।

ও বলতে লাগল অনেকটা ভাবুকের মতো ,” কেন এভাবে আমার জীবনটা ওলট পালট হোয়ে গেল ? কেন এই যুদ্ধ হোল ? এই যুদ্ধ আমার সবকিছু কেড়ে নিল। আমার হৃদয়টাকে একেবারে টেনে উপ্রে ফেলল। আমি কিভাবে আমার স্বামীর কাছে যাব যাকে কিনা আমি চিনি না পর্যন্ত ? কিভাবে আমি তার সাথে থাকব যখন আমি জানি যে আমার হৃদয়ের প্রতিটা হার্ট বিট শুধু তোমার জন্যেই ধুঁকতে থাকবে ।“

“বাইরের যুদ্ধ দেখা যায় কিন্তু আমার ভেতরের যুদ্ধ আমি কাকে দেখাব ? যুদ্ধ একদিন শেষ হবে কিন্তু আমার মনের রক্তক্ষরণ আমি কাকে দেখাব? কবে শেষ হবে সেই রক্তের নদী ? আমি কিভাবে তোমাকে ছাড়া বাঁচব? গত তিন দিনে আমি তোমার উপরে এত ডিপেনডেনট হোয়ে পড়েছি… কেন কেন তোমার সাথে দেখা হোল ? কেন তুমি আমার কাছে এলে আর আমার পেছনের পুরোটা জীবন মিথ্যে করে দিয়ে চলে যাবে ?”

“আমাদের দেখা হওয়া, একসাথে থাকা, ভালোবাসা এসব যদি নিয়তি হোয়েই থাকে তবে একদিন না একদিন আমরা ঠিকি মিলতাম… তাহলে কেন তোমার সাথে আমার দেখা আগে হোল না।? আর দেখা না হোলেও এই চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র তাদের কক্ষপথে ঠিকই ঘুরত। সবকিছু যদি ঠিক আগের মতোই চলবে । তবে শুধু আমার আর জীবনটা আগের মতো রইলনা কেন ? বিধাতা আমাকে নিয়ে কেন এই খেলা খেলল ? কি দোষ করেছিলাম ? জানামতে কার কোন ক্ষতি করিনি তাহলে আমার কেন এতো বড় ক্ষতি হোল? কিভাবে বাঁচব আমি ? আই ক্যান্ট লিভ উইদাউট ইউ…… বলে কাঁদতে লাগল ।

Close up of woman crying

ওর কথাগুলো আমাকে ছিন্ন ভিন্ন করে দিল। আমি যা ধারনা করেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি সেন্সিটিভ ও। ওর কান্না দেখে আমার চোখেও জল এসে গেলো। ও আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেই চলল। আমি ওর চিবুক ধরে মুখটা উঁচু করে আমার দিকে টেনে আনলাম। জল্প্রপাতের ধারার মতো অস্রু নেমে আসছে। মনে হোল ওর পুরোটাই বুঝি শুধু অস্রু দিয়েই বানানো।
আমি কি উত্তর দেব ওর কথার সেটা বুঝতে পারলাম না। শুধু ওকে জড়িয়ে ধরে বসে রইলাম। আমিও ওকে ছেড়ে দিতে পারবনা। আমি চাইনি যে ও চলে যাক আমার জীবন থেকে। নিউইয়র্ক এ নামা মাত্রই ও চলে যাবে । আমি ওকে পাগলের মতো ভালো বেসে ফেলেছি।

গত তিন দিন মনে হোচ্ছিল একটা লম্বা স্বপ্ন দেখছি। আমি চোখ খুলতে চাচ্ছিনা, আমি জেগে উঠতে চাচ্ছিনা।।মনে হোচ্ছিলযে চোখ খুললেই সব কিছু হারিয়ে যাবে নিমিষেই। ওর ঠোঁটে চুমু খেলাম গভীর মমতায়। ওর কানের লতিতে চুমু খেলাম। এর পর ওর গলায়, ঘাড়ে। ওর শরীর আবার জাগতে চাইল। ওর নিঃশ্বাস গরম হোতে শুরু করল, শরিরের টেম্পারেচার বারতে লাগল।
আমার কানে কানে বলল,” এখন আর না জান। আই এম ইন পেইন।“ আমি জানি যে ওর কেমন ফীল হতে পারে। আমি থেমে গেলাম। আর এগুলাম না। আমি দু’টো পেইন কিলার এনে সাথে ফ্রিজ থেকে আনা ঠাণ্ডা এক গ্লাস জল এনে খেতে বললাম নইলে সকালে বিছানা ছেড়ে উঠতে পারবেনা ব্যাথায় ।ও একদম ঘুমিয়ে পড়েছিল । জোর করে টেনে উঠিয়ে ওষুধ খাওয়ালাম ।

আমরা দু’জনেই টায়ার্ড ছিলাম খুব। ও ঘুমের মাঝেই হাত দিয়ে আমাকে খুঁজে আমার বুকের সাথে লেপটে রইল। পুরো শরীরটা বাঁকা করে আমার ডান পাটা টেনে নিয়ে ওর উপরে উঠিয়ে দিল । আমার মনে হোল যে ওর অবচেতন মনে ভয়টা এখনো কাজ করছে যাতে আমি ওকে ছেড়ে না চলে যাই। আমি উঠে বসলাম বিছানায়। “ ও স্প্রিঙ্গের মতো আমার সাথে সাথেই উঠে বসল,” কি হোল আমাকে ছেড়ে দিলে যে ?”
as

আমি মৃদু হেসে বললাম,” চুপ করে থাক।“ আমি ওকে উপুর করে শুয়িয়ে দিলাম। জামাটা উঠিয়ে দিলাম ঘাড় পর্যন্ত। পাজামাটা নামিয়ে দিলাম কোমড় থেকে । আর পায়ের দিক থেকে পাজামাটা গুটিয়ে উপরে তুলে ফেললাম। আস্তে আস্তে ওকে মাসাজ করতে লাগলাম। আস্তে আস্তে পুরো কোমরটা টিপে দিলাম যাতে ওর একটু আরাম হয়। পায়ের কাফ আর পায়ের পাতার নীচে ভালো করে টিপে দিলাম। ওর হাটু ভেঙে পায়ের পাতা দু’টোকে আমার মুখের কাছে নিয়ে এলাম। আর চুমুতে চুমুতে ভরিয়ে দিলাম ওর পায়ের পাতা। ওর খুব ভালো লাগতে লাগলো।

এত কষ্টের মধ্যেও আমাকে থ্যাঙ্কস জানাতে ভুলল না। কখন যে ঘুমিয়ে পরেছে বুঝতেই পারিনি। আমি ওর কাপড় ঠিক করে দিয়ে ওর নিস্পাপ মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। খেয়াল করলাম যে ওর চোখের জল গালের উপর দিয়ে নেমে পরেছে আর তা শুকিয়ে একটা হাল্কা কালো দাগ হোয়ে আছে। বুকটা ভেঙে গেল ওর অসহায় অবস্থা দেখে। ভালোবাসাটা হোল আমার কাছে অক্সিজেনের মতো যা ছাড়া বাঁচা যায়না । কিন্তু সেই ভালোবাসাই যদি আমার গলা চেপে ধরে তবে বাঁচব কেমন করে? ওই নিস্পাপ দু’টো চোখের দিকে তাকিয়ে আমার দম বন্ধ হোয়ে আসতে লাগল। কোনমতেই আমি নিজেকে নির্দোষ দাবী করতে পারলাম না।

আস্তে করে ওর পাশেই শুয়ে পরলাম। ওর ঘাড়ের নীচ দিয়ে হাত দিয়ে ওকে আমার বুকের মধ্যে নিয়ে এলাম। সাইডে পরে থাকা ওর হাত তুলে আমি আমার উপরে নিয়ে এলাম ।।এভাবেই দু’জনে দু’জনের বুকের সাথে মিশে ঘুমিয়ে গেলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *