লাভ ইন ওমান -১৭

ডেজারট হিসেবে একটা সানডে আইসক্রিম নিলাম । দু’জনে শেয়ার করলাম। আমি দেখলাম যে ওর খাবারের দিকে তেমন নজর নেই । শুধু আইসক্রিমের গ্লাসটার মধ্যে চামচ ঢোকাচ্ছে আর বের করছে । আমি বুঝে গেলাম যে ও খুব দোটানায় আছে কোন ব্যাপার নিয়ে । আমিতো জানিই যে এভাবে আমার সাথে ভালোবাসার একটা সম্পর্ক হওয়া এটা যে কোন মেয়ের জন্যে সহজ কোন ব্যাপার না। আমি তাড়া দিলাম,” চল, দেরি হোয়ে যাচ্ছে ।“ ও মনে হোল বাস্তবে ফিরে এলো।

couple_in_bed_covered_with_rose_petals

রুমে ঢুকেই বরাবরের মতো ঝকঝকে ভেতরটা পেলাম। রুম সার্ভিস খুব সুন্দর করে বিছানাটা গুছিয়ে রেখে গেছে। সবকিছুই একেবারে সাজানো । আমাদের ছোট্ট হ্যানড ব্যাগগুলো জায়গা মতো রাখা। বড় সুটকেস গুলো জায়গামতো । বিছানার উপরে চকোলেট আর সবচেয়ে যে ব্যাপারটাতে আমরা দুই জনেই খুশি হ’লাম তা হোল যে বিছানার উপরে গোলাপ ফুলের পাপড়ি ছড়ানো ছিটানো । আমি দুষ্টুমি করে বললাম,”

হোটেলের লোকজন জানল কি করে যে আজ আমাদের ফুলসজ্জার রাত হবে । “ বলার সাথে সাথেই ও দৌড়ে বাথরুমে ঢুকে গেল। আমিও ওর পিছু পিছু গেলাম।

দরোজা বন্ধ করার কোন সুযোগ ও পেলনা। পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বললাম,” পাগলি তুমিই না বলেছ যে স্মৃতি বানাতে চাও আমার সাথে। তুমিই না বলেছ যে যতক্ষন আছি এখানে আমরা একেবারে দু’জনে মিলে এক হোয়ে থাকব। বাথরুমের বড় আয়নায় ও আমাকে দেখল। বুকে মুখ গুঁজে দিল। আমার বুকটা ভরে গেল। টেনে নিয়ে এলাম বিছানার কাছে আর বললাম,” তুমি ওয়েট কর আমি হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হোয়ে আসছি।

পাজামা পড়ে আমি রুমে ঢুকলাম । ওকে চেঞ্জ করে ফ্রেশ হোয়ে নিতে বললাম। ও বাথরুমে চলে গেল। আমি বিছানার পেছনের ভেলভেটের হেড বোর্ডটাতে পেছন ঠেকিয়ে টি ভি সেটটা অন করলাম সি এন এন দেখব বলে। চ্যানেল চেঞ্জ করতেই দেখলাম যে আমেরিকা নিরন্তর বোমা ফেলছে ইরাকি সেনাদের উপর। ফুল স্পীডে যুদ্ধ চলছে । ইরাক এবং কুয়েতের দু’টো দেশেই বোমা ফেলে ধ্বংস করে দিচ্ছে আমেরিকা আর ন্যাটো বাহিনি। অন্য দিকে আমি খুশি হোচ্ছিলাম যে কুয়েতের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেবার জন্যে সাহায্য করছে , ইরাকের উচিত হয়নি কুয়েতের মতো ছোট্ট একটা দেশ দখল করে নেয়া।
আমার মনে হোল কিভাবে ১৯৭১ সালে আমাদের বাংলাদেশের উপর পাকিস্তানি সৈন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো। আমি খুবই ছোট ছিলাম তখন ৮ বছরের মতো বয়স ছিল আমার। আমাদের প্রতি রাতে সেফ জায়গার জন্যে দৌড়াতে হোত। আমার মতে রাজপ্রাসাদে বন্দি থাকার চেয়ে স্বাধীন ভাবে একটা গাছের নীচে থাকা অনেক ভালো ।

ও ফ্রেশ হোয়ে বাথরুম থেকে বের হোয়ে এল। আমি টিভিটা বন্ধ করে দিলাম। ও বিছানায় উঠে লেপের নীচে ঢুকে গেল। আমি ওকে ধরে এক টানে আমার উপরে নিয়ে এলাম। আমার উপরে ওর অর্ধেকটা শরীর চলে এল ।। দুই হাত দিয়ে ওর মুখটা ধরে নিয়ে এলাম আমার সামনে। ও চোখ বন্ধ করে ফেলল। আমি আলতো করে ওর ঠোঁটে একটা চুমু দিতেই ও কেঁপে উঠলো। এক হাত দিয়ে ওর একটা চোখ ওপেন করে দিলাম। ও আমার বুকের মধ্যে মাথা গুঁজে দিল।

আধা শোয়া অবস্থায় আমাকে বলল,” যদি এই যুদ্ধ অনন্ত কাল ধরে চলতো তাহলে ভালো হোত।“ আমি বুঝতে পারছিলাম যে ওর কষ্ট শুরু হোয়ে গেছে। ও আর কোনদিনই সেই আগের জায়গায় ফিরে যেতে পারবেনা। তিন দিন আগের সেই জীবনে আর ওর ফিরে যাওয়া হবে না । বুকের ভেতর থেকেই বলল,” যদি পৃথিবীর সবগুলো লোক মরে যেত যুদ্ধে আর বেঁচে যেতাম শুধু আমরা দু’জন তা’হোলে কেমন হোত?” আমি ওর কোন উত্তর দিতে পারলাম না।

ও আমাকে শক্ত করে ধরে রাখল । মনে হোচ্ছিল যে ও ভাবছিল আমাকে শক্ত করে ধরে রাখলে আমি আর চলে যেতে পারবনা আমি ওকে আবার ওর চিন ধরে আমার মুখের কাছে নিয়ে এলাম। আমার মুখ ওর মুখ তিন ইঞ্চি দূরে। আমি বাঁকা হোয়ে ওর ঠোঁটে আবার চুমু দিলাম । ও আমাকেও চুমু দিল। এবার আমি ওর পুরো দু’টো ঠোঁটই আমার মুখের ভেতরে নিয়ে আদর করতে লাগলাম। ও কেঁপে কেঁপে উঠতে লাগলো।

হটাৎ করেই মনে হোল যে ও বলেছিল ওর পায়ে খুব ব্যাথা করছিল হাই হীল পড়ার কারণে।। আমি ওকে আধা শোয়া অবস্থা থেকে উঠিয়ে বসিয়ে দিলাম পেছনের ভেলভেট দিয়ে মোড়ানো হেড রেস্টের সামনে। এবার ওর পা দু’টো আমার পায়ের উপরে উঠিয়ে পায়ের পাতা দু’টোকে ম্যাসাজ করতে লাগলাম।

Foot

‘এই কর কি, কর কি’ বলে চিৎকার দিয়ে উঠলো । আমি বললাম,” তোমার না পায়ে ব্যাথা তাই টিপে দিচ্ছি।“ ‘না টিপতে হবেনা। এটা ঠিক না।“ তোমাকে কে বলেছে যে ঠিক না ? চুপ করে ভালো বাচ্চা মেয়ের মতো বসে থাক।“ বলে ওর বাঁকা করা পা দু’টো সোজা করে দিলাম। ‘ আমি বাচ্চা মেয়ে ? ও সেজন্যে ই বুঝি তুমি আমাকে হেল্প করছ ?” ও রাগের ভান করে বলল।

আমি বললাম,” হা, তুমিতো বাচ্চাই “। আমি পায়ের নীচে মাসাজ করছি। এত সুন্দর পা ওর। সুন্দর করে ফ্রেঞ্চ পেডিকিউর করা । আমি ওর পায়ের পাতায় চুমু খেলাম। ওর দিকে তাকালাম। দেখি এক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাঁকিয়ে আছে। আমার চোখে চোখ পরতেই ও মুখ ঘুরিয়ে নিল। আমি এগিয়ে গিয়ে ওর মুখটাকে আমার দিকে ঘুরিয়ে দিতেই দেখি ওর চোখে জল । ও চুপ চাপ কাঁদছে। আমার বুকের ভেতরে নদীর পাড় ভাঙ্গার শব্দ । নদীতে ঝড় এলে নৌকার মাঝি তার দক্ষ হাত দিয়ে সেই নৌকাকে ডুবে যাবার হাত থেকে রক্ষা করে কিন্তু মনের ভেতরের সেই ঝড়ের হাত থেক বাঁচার কোন উপায় খুঁজে পেলাম না। কে আমাকে বাঁচাবে ?

কিভাবে আমি পারবো এক’দিনের ভালোবাসাকে ভুলে থাকতে ? কিভাবে পারবো এই অবুঝ ছোট্ট মেয়েটাকে দূরে ঠেলে দিতে ? ওর চোখের জল কি আমায় থাকতে দেবে শান্তিতে ?অনেক আগে লিখেছিলাম,” ভালোবাসা ? সেত বর্ষার ভরা যইবইন্যা টলমল নদী । দুই কূল ছাইপ্যা যার উঠে নিরবধি । উপছাইয়া পড়ে, হয় প্লাবন । সেই প্লাবনের তোড়ে ভাইস্যা যায় সমাজ, ধর্ম , সংশার ।“ নদীর প্লাবন তো তাও উপচে পড়ার জায়গা পায় কিন্তু মনের প্লাবন আমি কি দিয়ে আটকাবো ?

মানুষ কি পারে আসলেই সবকিছু ভুলে থাকতে? কোন একদিন জানালার পাশে বসে দূরে তাকিয়ে দেখব হুয়তো সাদা তুলোর মত বরফ পরতে অথবা আকাশ থেকে আমার কষ্টে ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পরা দেখার সময় আমার মন কি উদাশ হয়ে যাবেনা? আমার কি মনে হবে না এই দিনগুলোর কথা? এতো স্মৃতি নিয়ে আমি কিভাবে ভুলে থাকব? আমাকে এমন করে ভালবাসাতে আমিওতো হোয়ে গেলাম ওরই মত একজন। সহায়হীন, সম্বলহীন, ভালোবাসার মানুষকে না আটকাতে পারা একজন অসহায়, বেবশ, ঝড়ে পরা ভেজা পাখীর মত একজন।

Crying-Cute-Hansika-Motwani-Wallpaper

বুকের জমিন ভেঙে গেল ওর চোখে জল দেখে। “ কি হোয়েছে সোনা ? কাঁদছ কেন ?” ও কাঁদতে কাঁদতে বলল,” তুমি জান যে তুমি আমার কতবড় ক্ষতি করে ফেলেছ? “ “ কেন আমি কি করলাম ?” আমি জিজ্ঞেস করলাম। “ তুমিই বল তোমার মতো করে আমার বর কি আমাকে ভালোবাসবে।।? আমার পায়ে ব্যাথা হোলে কি আমার পা বুকের উপরে তুলে টিপে দেবে ? আমার এতটা খেয়াল রাখবে ? তোমার সাথে কাটানো তিন দিন আমাকে আমার বাকি জীবনভর কষ্ট দিয়ে যাবে।“ কাঁদতে কাঁদতে বলল।

“চিন্তা কোরনা। আমিতো তোমাকে সেটা বলতে পারবনা যে তোমার বর কেমন হবে কিন্তু এটা বলতে পারি যে হয়তো আমার চেয়েও অনেক ভালো হবে।“ কপালের চুল সরিয়ে চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে বললাম। ‘আমার তোমার চেয়ে ভালো দরকার নেই। আমি শুধু তোমাকেই চাই। আর তোমার থেকে ভালো কেউ হবে না আমি এটাও জেনে গেছি।“ আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল।

একটা ন্যাপকিন এনে ওর নাকের জল টুকু মুছে দিলাম। আর ও হেসে ফেলল,” ইয়াক। তুমি কি করলে? আমার নাক মুছে দিলে ? ও যেন বিশ্বাসই করতে পারলনা। আমি হেসে বললাম,” তাতে কি তোমার নাকে তো শুধু তোমার চোখের জল ছিল।।“ আমাকে দুই হাত দিয়ে ধরে একটা ঝাঁকানি দিয়ে বলট,” বল এগুলো কে করবে আমার জন্যে ।।? কে আমার নাকের জল মুছে দেবে। কে আমার পা টিপে দেবে, কে আমার পায়ে চুমু দেবে।?” আমি বললাম,” তুমি এত সুখী হবে যে তোমার চোখে কোন দিন অশ্রু আসবেনা।“

“ তুমি জাননা সোনা যে আমার কতোবর ক্ষতি হোয়ে গেল। আসলে ক্ষতি বলবনা বলব যে কতো বড় লাভ হোয়ে গেল। আর সেই লাভের কারণেই সারাটা জীবনের জন্যে আমি আটকে গেলাম তোমার কাছে। আমাকে দিয়ে হয়তো কোনদিন আর সংসার করা হবে না। না পারব কাউকে বলতে না পাব তোমাকে । আমি যদি পারতাম তবে ঘড়ির কাঁটা বদলে দিতাম। তোমকে আমার না জানাই ভালো ছিল আমার জন্যে । মুদ্রার অন্য পিঠে কি আছে সেটা যখন জেনে গেছি তখন আর আমার ঘরে থাকা হবে না।“

“শোনো, মন দিয়ে।।তুমি কিছুই করবে না এসব। শুধু মিষ্টি স্মৃতি হিসাবে রেখে দেবে মনের এক কোণায়। মাঝে মাঝে যখন তোমার মন খারাপ লাগবে তখন উলটে পাল্টে খুঁজে দেখবে আমাকে আর এই সময়গুলোকে। দেখ তুমি আবার সাহস পাবে। “

couple12

বুকের ভেতরে জড়িয়ে ধরে বললাম,” তুমি একবার আমার দিকটাও তো দেখবে। আমি কিভাবে থাকব তোমাকে ছাড়া ? আমার কি কষ্ট হবে না।? ঘরে একটা বেড়াল পুষলেও তার প্রতি একটা টান হোয়ে যায় আর সেখানেতো তুমি একজন মানুষ যাকে আমি প্রান দিয়ে ভালোবেসে ফেলেছি । আমি না হয় তোমার চেয়ে বেশি ম্যাচুওর কিন্তু তাই বলে কি আমার হৃদয়ের গহীনে রক্তক্ষরণ হবে না।।? ঠিকই হবে শুধু বাইরে থেকে কেউ দেখতে পাবে না। হোয়েছে আর না। আজকের মতো এখানেই মন খারাপ করা বন্ধ। “

আমি একটা ছোট্ট হাত মোছার টাওয়েল ঠাণ্ডা জল তে ভিজিয়ে নিয়ে এলাম। চোখ মুছে দিলাম । “ এইত আবার করলে একি জিনিস। আমি হাসতে হাসতে বললাম,” পরেছ মোগলের হাতে খানা খেতে হবে সাথে।“ মানে কি? হায়রে বোকা । মানে হোল,” আমার সাথে আছ যখন তখন এগুলোর হাত থেকে তোমার নিস্তার নেই। “ বুঝলাম আস্তে আস্তে ওর মন ভালো হোয়ে যাচ্ছে।

ও আমাকে লাইট নিভিয়ে ডিম লাইট অন করে দিতে বলল। ডিম লাইট অন করতেই সারা ঘর হাল্কা নীল রঙ্গে ভরে গেল। আমি লেপের ভেতরে ঢুকে গেলাম। এয়ার কন্ডিশন ফুল স্পীডে চলছে। বেশ ঠাণ্ডা রুমের ভেতরটা। আমি ওর মাথার নিচ দিয়ে হাত বাড়িয়ে ওকে আমার কাছে টেনে নিয়ে এলাম। বললাম,” মন ভালো হোয়েছে ।।?” ছোট্ট একটা উত্তর,” হুম”।

আমি ওর গ্লোইং মুখের দিকে তাকালাম। হাল্কা অন্ধকারে মনে হোচ্ছিল এক দেবীর মতো । এত সুন্দর, নিস্পাপ, নিষ্কলঙ্ক কোন মুখ আমি দেখিনি। সো ডিভাইন। মনে হোচ্ছিল যে ও আমার নিঃশ্বাস বন্ধ করে দেবে। আমি ওকে আবার টেনে বুকের সাথে মিশিয়ে ফেললাম। ও বার বার কেঁপে কেঁপে উঠছিল ।

আমি ফিস ফিস করে ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,” তোমার আপত্তি নেইত।।?” ও একটু চুপ করে রইল। আমি আবার বললাম,” তুমি হয়তো এরই মধ্যে আমাকে বুঝতে পেরেছ যে তেমার অসম্মতিতে আমি তোমাকে ছোঁব না। তুমি আমার কাছে বিধাতার আরাধনার মতো আর আমি আমার স্বার্থের জন্যে তোমাকে ইউজ করতে পারবনা।

“ ও বলল,” আমি জানি যে তুমি আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমাকে ছোঁবে না। আমি নিজেই চাচ্ছি যে তোমাকে আমি সবটুকু ভালোবাসা দিতে চাই আর আমি চাই তুমিও আমাকে ভালোবাসার কোন কমতি করবেনা। আমি জানিনা অন্য ছেলে মানুষ কেমন হয়, আমার বরই বা কেমন হবে কিন্তু তোমার মতো কেয়ারিং আর কেউ হবে না। আমি নিজেই সজ্ঞানে চাচ্ছি তোমার মাঝে বিলিন হোয়ে যেতে।“ “ থ্যাঙ্কস আমাকে ট্রাস্ট করার জন্যে ’ আমি বললাম।

আমি ওর দিকে আবারো তাকালাম ।খুঁজতে চেষ্টা করছিলাম যে ওর যেন কোন ক্ষতি না করে ফেলি আমি। ও এবার উলটো হোয়ে শুয়ে আমার মুখের উপড়ে ওর মাথাটা এনে আমার ঠোঁটে চুমু খেল। আমি আবারও শেষ বারের মতো জিজ্ঞেস করলাম,’ কোন প্রবলেম নেইতো?” ওর মুখ থেকে বের হোয়ে এল,”আই লাভ ইউ। “ আমি বুঝে গেলাম ও শারীরিক এবং মানসিক দুই দিক দিয়েই রেডি । এর চেয়ে বেশি রেডি ও কখনই ছিলনা।

Love223

আমি আস্তে আস্তে ওর পাজামা স্যুটের টপস তা খুলে নেয়ার চেষ্টা করলাম। ও কানের কাছে আস্তে আস্তে বলল,” আগে তুমি তোমার শার্ট আর পাজামা খোলো”। আমি বললাম,” তুমি খুলে নাও। এটা তোমার জিনিস । “ ও আমার শার্ট খুলে নিল। আমার পাজামা খুলে নিল। আমিও ওর পাজামা খুলে নিলাম।

ও ওর দু’ হাত দিয়ে লজ্জায় ওর মুখ ঢাকল। আমি জানতাম যে ও খুব লজ্জা পাচ্ছিল তাই আমি ওর হাত ধরে টান দিচ্ছিলাম যে যাতে মুখের উপর থেকে ওর হাত দু’টো সরে যায়। হাত সরানোর পরেই ও তাড়াতাড়ি আমার বুকের মধ্যে মাথা গুঁজে দিল আর লেপটা ওর মাথার উপরে ঢেকে দিল।

আমি ওর মুখের উপর থেকে লেপটা সরানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু ও ওর সমস্ত শক্তি দিয়ে লেপটাকে ধরে রাখল ওর মুখের উপর। আমি শেষ পর্যন্ত ওর মুখের উপর থেকে লেপটা সরাতে পারলাম কিন্তু ও ওর দুই হাত দিয়ে ওর মুখ আটকে রাখল। “ আমি ভীষণ লজ্জা পাচ্ছি।“ আমি বললাম, ’ অহ কাম অন, এখানেত আমি ছাড়া আর কেউ নেই। আমাকে লজ্জা কিসের? ও বলল,” জান, আমি জানিনা যে আমি কি করছি।“ আমি বললাম,” ওকে তুমি যদি কনফিউজড থাক তবে না হয় থাক।“

আমি ওকে ধরে আমার উপরে বসিয়ে দিলাম। আমাদের শরীর আমাদের ছুঁয়ে যাচ্ছে। ও বাঁকা হোয়ে আমার মুখের উপরে ওর মুখ নিয়ে এল। ওর ঠোঁট দু’টো নেমে এল আমার ঠোঁটের উপরে। আমাকে একটা ফ্রেন্স কিস দিল। আমিত অবাক যে ও এসব জানল কি করে ? আমি ওকে থামিয়ে বললাম,” তুমি জান এইভাবে মুখের ভেতরে মুখ ঢুকিয়ে একেবারে লেপটে ভেজা চুমু খাওয়াকে ফ্রেন্স কিস বলে ?” ও বলল,” আমি ওসব জানিনা। আমার ইচ্ছে করল তাই এমন করে চুমু খেলাম। ব্যস।“

মিনিট খানেক আমার উপরে শুয়ে থেকে আমার কানে কানে বলল,” আমি যদি প্রেগন্যান্ট হোয়ে যাই ? আমি শুনেছি যে একটা মেয়েকে একটা ছেলে প্রেগন্যান্ট বানিয়ে দিতে পারে । এমনকি ছুঁয়ে দিলেউ কেউ প্রেগন্যান্ট হোতে পারে…?” আমি হাসতে শুরু করলাম। বললাম,” কে বলল এসব উলটা পাল্টা কথা তোমাকে?” ও লজ্জায় মুখ ঢেকে বলল যে ওর ফ্রেন্ড বলেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *