লাভ ইন ওমান পর্ব -১৫

আমি বললাম,” বেশি চিন্তা কোরনা। তুমি চিন্তা করলেই যে প্রবলেম সলভ হোয়ে যাবে এমন নয়। সেজন্যে চিন্তা করে লাভ নেই। মনে হয় প্রকৃতির এটাই ইচ্ছা ছিল যে আমরা এভাবেই এই বিদেশ বিভুঁয়ে এসেই মিলবো। এটাই মেনে নাও। নিজেকে ভাসিয়ে দাও ভালোবাসায়। কে জানে এর পর তোমার জীবনে ভালোবাসা আদৌ আসবে কিনা। মানুষের জীবনে ভালোবাসা খুব কম আসে। সবাই সেই ভালোবাসার সন্ধান পায়না। সারাটা জীবন একজনের সাথে সংসার করেও কেউ বলতে পারেনা যে সে সত্যি ভালোবাসা পেয়েছে কিনা বা কেউ তাকে ভালোবেসেছে কিনা।“

Good Morning

আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। বুঝতে পারলাম যে ওর বুক ফেটে কান্না আসছে। অনেক সাহস দেখিয়ে ও চুপ আছে কিন্তু সুযোগ দিলে সেই কান্না জলোচ্ছ্বাস হোয়ে নামবে সেটা আমি ভালো করেই জানি । ও আমার উপর দিয়ে হাত দিয়ে আমাকে আঁকড়ে ধরল। আমি ওর মাথা আমার হাতের উপরে রেখে ঠোঁটে গভীর ভাবে একটা চুমু দিলাম, আমাকেও ও তার রিটার্ন দিল। দুইজনে দুইজনকে ধরে ঘুমিয়ে পরলাম।.

সকালে যখন আমার ঘুম ভাংল, আমি চোখ বন্ধ করে ওকে খুঁজছিলাম যে পাশেই পাব। আমি হাত দিয়ে খুঁজছি কিন্তু পাচ্ছিলাম না। আমি ওকে একটু ধরে শুয়ে থাকতে চেয়ে ছিলাম। ওকে একটু ছুঁয়ে দেখতে চেয়েছিলাম। আমি ওর নাম ধরে ডাক দিলাম কিন্তু কোন উত্তর পেলাম না। শেষ পর্যন্ত উঠতে বাধ্য হলাম। বাথরুমের দরোজায় টোকা দিতেই ও বের হোয়ে এল। শাওয়ার নিয়ে। বাথরুমের দরোজা খুলতেই ভেতর থেকে স্টিম বের হোয়েএল। আমি হাসতে হাসতে বললাম,” গুড মর্নিং।“

ও আমাকে গুড মর্নিং বলে সোজা আমাকে বাথরুমে ঠেলে দিল। আমি বাথরুমে ঢুকে দাঁত ব্রাশসহ যা রিচুয়াল করতে হয় সেগুলো করে বেড রুমে ঢুকলাম। আমি গোসল করিনি দেখে আমাকে বকা দিল।

ওকে কিছু বোঝার সুযোগ না দিয়ে আমি ওকে পাঁজা কোলা করে উঠিয়ে সোজা যাকুযির ভেতরে নিয়ে ভেতরে নামিয়ে দিলাম। বাথরুম থেকে বের হবার আগেই আমি বাবল বাথ দিয়ে জল একেবারে রেডি করে এসেছিলাম। ও তো বোকা হোয় গেল। যিকুযির সাইজটা অনেক বড় সেজন্যে ভেতরে কোমড়পর্যন্ত জল ছিল।

spa-couple-jacuzzi

আমি বললাম,” জীবনে আর কোনদিন সুযোগ পাও কিনা কে জানে। এসো আজ আমি তোমাকে গোসল করিয়ে দেই। যতদিন এখানে আছি মনে রেখ তোমাকে গোসল করানোর দায়িত্ব কিন্তু আমার। ভুলেও কিন্তু একা গোসল করবে না। “

দু’জনে দু’জনকে গোসল করালাম। তার আগে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে দু’জনে গরম জল র ভেতরে বসে রইলাম। ও আমার কোলের উপরে বসে রইল। আমি ওর চুল ধুয়ে দিলাম। আমি ওর ঘাড়ের উপরে আস্তে আস্তে চুমু খেলাম। আমাকেও ও অনেক আদর করল। আমি একটা বেপারে খেয়াল করলাম যে এত অল্প সময়ে এতটা ফ্রী হোয়ে যাওয়া আমার সাথে সেটা ভালোবাসা ছাড়া আসতেই পারেনা।
যদি ও আমার সামনে পুরো কাপড় খোলেনি কিন্তু ভেজা কাপড়ে আমার শরীরের সাথে শরীর মেলান এটা অন্তত কোন বাংলাদেশি মেয়ে করবেনা। আমি জানি যে শি ইস ইন ম্যাডলি লাভ উইথ মি। আর আমিও ওকে ভালোবাসতে শুরু করে দিয়েছি।

shower1

আমি দুষ্টুমি করে ওর টপস টা খুলতে চাইলাম। ও চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে বলল” মোটেই না জনাব।“ এত সহজে আপনাকে দেবনা। “ আমি না বোঝার ভান করে বললাম,” কি দেবে না?” আমার বুকের ক’টা লোম ধরে টেনে বলল,” ওটা বলা যাবেনা ।” যাই হোক, আমাকে বলল,” তুমি উঠে এসো, আমি শাওয়ার নিয়ে নিচ্ছি।“ বলে ও স্ট্যান্ডিং শাওয়ারে গোসল করে নিল। আমি তাকিয়ে ছিলাম বলে আমাকে চোখ বন্ধ করতে বলল। আমি চোখ বন্ধ করে মিটিমিটি করে দেখতে চেষ্টা করলাম কিন্তু স্মার্ট মেয়ে সব খেয়াল করছিল।। আমাকে বাধ্য করল পুরো ঘুরে দাঁড়াতে যাতে পেছন ফিরে আমি কিছু না দেখি।

আমি দুই মিনিটেই গোসল সেরে ফিরে এলাম। এসে দেখি যে ও আমার জন্যে ওয়েট করছে। আমি ভালো করে ওর দিকে তাকালাম। খুব ফ্রেশ লাগছিল ওকে। মনে হোচ্ছিল যে আফ্রদাইতি, যাকে গ্রীকরা বলত ভালোবাসার দেবী। যেন এইমাত্র সাগরের নীল জল র ভেতর থেকে উঠে এল। ওর চুল তখনও বেশ ভেজা ছিল। টপ টপ করে ফোঁটা ফোঁটা জল ঝরছিল। ওর সারাটা শরীর থেকে মনে হোচ্ছিল যেন সোনালী আভা ঝরছে।

Beautiful-White

মনে হোচ্ছিল যেন কনে দেখা আলোর মতো সোনালী লাগছিল ওর স্কিন। ওর মুখটা দেখে মনে হোচ্ছিলযে এইমাত্র একটা সাদা গোলাপ কুঁড়ি থেকে ফুল হোয়ে গেল চোখের সামনে। আর তাই দেখে আমি ওর প্রেমে পড়ে গেলাম। অল ওভার এগেইন। আমি ওর দুই হাত ধরে ওকে আবার বাথরুমে টেনে আনলাম। ও ভেবেছিল যে ওকে আবার আমি জলে নামাব। আমি হেসে বললাম ।“ আরে নাহ। আজকের কোটা শেষ । কাল যদি আমরা না ফ্লাই করতে পারি তবে কাল হবে ।

হটাৎ খেয়াল করলাম যে ওর মুখটা কালো হোয়ে গেল। আমি ঠিকি বুঝলাম যে এখান থেকে চলে যাবার কথা উঠতেই ওর মন খারাপ হোয়ে গেল। আমি ওকে জড়িয়ে ধরে বললাম,” মাফ চাই, আর বলবনা। যখন চলে যাব তখনতো যাবই।“ ও আমার কথায় হেসে ফেলল।

original

ওকে বাথরুমে টেনে এনে ওর চুলগুলো হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে ড্রাই করে দিতে লাগলাম । ও আমার দিকে তাকাল। সোজা আমার চোখের ভেতরে চোখ রাখল। ওর চোখ কিছু না বলেও অনেক কিছুই বলে গেল। আমাকে বলল,” কেন আমাকে তুমি কষ্ট দিচ্ছ ? কেন আমার চুল ঠিক করে দিচ্ছ।?” আমি বললাম,” তুমি না বলেছিলে যে আমি যেন তোমাকে অনেক স্মৃতি বানিয়ে দেই। সেজন্যেই আমি তোমার স্মৃতি বানাচ্ছি” হটাৎ করেই আমাকে জিজ্ঞেস করল,” আচ্ছা এখানে শুনেছি অনেক বাংলাদেশি থাকে আর জব করে। তাহলে তুমি কি এখানে থেকে যেতে পারনা? এখানে জব করবে।“

আমি ঠিকি ব্যাপারটা বুঝতে পারলাম তবু না বোঝার ভান করে বললাম,” কেন এদেশে থাকব।? এরা লোক ভালো না।। বাংলাদেশিদের এখানে মিস্কিন বলে গাল দেয়।“ “আমি তা জানিনা। শুধু জানি যে যদি আমরা দু’জনেই এখানে থেকে যাই তবে কেমন হবে?” আমি বললাম,’ তুমি নিজেই জান যে এখানে থাকা সম্ভব না। তোমার জন্যে একজন অপেক্ষা করছে আর আমার জন্যে আর একজন।“ ওর চুল ড্রাই করে দিলাম।

বড় চুলের ওই এক ঝামেলা। চুল শুকোতে অনেক সময় লেগে যায় । সেজন্যে অনেক সময় লাগল । মনে হোচ্ছিল যে চুল ভাজা হোচ্ছে । আমি দুষ্টুমি করে বললাম, “ তোমার চুল ড্রাই করা না বলে বলতে হবে চুল ফ্রাই করছি …।“ ও মৃদু হেসে উত্তর দিল,” আমাদের দেশের মেয়েদেরতো বেশীরভাগই লম্বা চুল থাকে তাইনা ?” আমি বললাম,” খোদা আসলে পুরুষ নইলে দেখো আমাদের চুল ম্যানেজ করা কতো সোজা।“

এবার ও নিজেই একটা ব্যান্ড নিয়ে ভালো করে চুল বেঁধে নিল। আমিও বাথরুমে চলে গেলাম আমার কাপড় চেঞ্জ করার জন্যে । যখন ফিরে এলাম বাথরুম থেকে তখন দেখলাম যে ও একটা বেশ সুন্দর ড্রেস পড়েছে ।

আমি বেশ ইম্প্রেসড হোলাম ওর সেন্স অফ স্টাইলইং দেখে। যাইহোক, রেস্টুরেন্ট এ যেয়ে সকালের নাস্তা খেলাম। বরাবরের মতো এবার ও আমাকে ওর প্লেট থেকে অনেক কিছু উঠিয়ে দিল। আমার কোন মানা শুনলই না। “ তোমার অনেক এনার্জির দরকার”। কেমন যেন একটা অধিকারবোধ চলে এসেছে ওর মধ্যে আর আমার সেটা খুব ভালো লাগলো।

আসলে সেন্স অফ বিলঙ্গিং টা মানুষকে দিয়ে অনেক কিছু করায় তার ভালোবাসার মানুষের জন্যে । আমি দুষ্টুমি হাসি দিয়ে বললাম,” কিসের এনার্জি গো ?” ও প্রথমে বুঝতে পারেনি যে আমি কি মীন করছি । পরক্ষণেই স্মার্ট মেয়ে ঠিকই বুঝতে পেরে আমাকে জোরে চিমটি কাটল । আমি হাসতে হাসতে বললাম,” কেন আমার এই এনার্জিতে চলছে না ? তা হোলে চল রুমে তোমাকে দেখিয়ে দেই যে কতো ধানে কতো চাল।“ ও লজ্জায় দুই হাত দিয়ে মুখ লুকাল।

ব্রেকফাস্টের পর আমরা ফ্রন্ট ডেস্ক এ গেলাম আমাদের ফ্লাইটের কোন খবর আছে কিনা জানার জন্যে । কিন্তু কোন খবরই নেই। পুরোটা মিডল ইস্টে বেশিরভাগ প্লেনই বন্ধ। কোন কিছু চলছিল না। শুনে আমার এত ভালো লাগল যে কি বলব। ও খুশিতে আমার হাত ধরে ফেলল । ওর দিকে তাকিয়ে দেখি যে ওর চোখে মুখে আলোর ছটা যে আরও একটা দিন অন্তত আমরা এখানে থাকতে পারব।

আমি ফ্রন্ট ডেস্ক এর মেয়েটাকে বললাম দেখতে যে গতকালের ট্যাক্সি ড্রাইভার এসেছে কিনা। মেয়েতা এক সিকিউরিটি গার্ডকে যেয়ে খোঁজ নিয়ে আসতে বলল। আমি ট্যাক্সির নাম্বার দিলাম। কিছুক্ষণ পর লোকটা এসে বলল যে ড্রাইভার আমাদের জন্যে অপেক্ষা করছে। আমরা ট্যাক্সিতে উঠে ড্রাইভারকে বললাম,” আজ আমরা শহরটা দেখব আর লাঞ্চ করব বাইরে।

ও আমার হাত ধরে রইল টাইট করে। মনে হোল ও বলতে চাইল যে ও আমার সাথে সারা দুনিয়ার যে কোন জায়গায় যেতে পারে। আমাদের দেখে ড্রাইভার বেশ খুশি হোল। আমরা কোথায় যেতে পারি জিজ্ঞেস করতেই উনি বললেন যে মাস্কাটে অনেক জায়গাই আছে দেখার মতো । গত কালের নেয়া সেই একি হাইওেয় ধরে আমাদের গাড়ী ছুটে চলল ডাউন টাউনের দিকে।

View of Muscat

View of Muscat

মাস্কাট হোল ওমানের রাজধানী। অনেক পুরনো শহর এটা। মেট্রোপলিটান মাস্কাট সিটি হোল ৫৮০ স্কোয়ার মাইল। পশ্চিম দিকের আল হাজর মাউনটেনটাকে ভিত্তি করেই এই শহরটা গড়ে উঠেছে । আরব সাগরের পারে গালফ অফ ওমানের সাথেই এই শহরটা। গালফ অফ ওমান হোল স্ত্রেইটস অফ হরমুজ এর খুব কাছা কাছি।
ছোট ছোট সাদা বিল্ডিং হোল মাস্কাটের বৈশিষ্ট। মুত্রাহ যাকে বলে পোর্ট ডিসট্রিক্ট মাস্কাটের জন্যে খুব গুরুত্বপূর্ণ। মাস্কাটের ইকনমিতে তেল আর পোর্ট খুব বড় ভুমিকা রাখে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *