লাভ ইন ওমান পর্ব -১৪

জানিনা আমি কতক্ষন ওভাবে চোখ বন্ধ করে উষ্ণতা নিচ্ছিলাম। মনে হোচ্ছিলযে এর মাঝে জনম জনম সময় পার হোয়ে গেছে। চোখ বন্ধ করেই ভাবছিলাম যে চোখ খুলবোনা । আমি জানি চোখ খুললেই ও হারিয়ে যাবে কুয়াশার ভেতর দিয়ে। আমি হারিয়ে ফেলব ওকে হাজার বছরের জন্যে। শেষ পর্যন্ত যখন আমার ঠোঁটের কাছে, নাকের কাছে উষ্ণতা পেলাম আমি তখন আর চোখ বন্ধ করে থাকতে পারলাম না । ডিম লাইটের নীল আলোতে ওর চোখের তারা জ্বলে উঠলো ।

kiss1

ওর চোখে বিদ্যুৎ খেলে গেল। ও ওর মুখটা এক টানে আমার উপর থেকে সরিয়ে নিতে চাইল। ও চলে যেতে চাইল ওরই বানানো পার্টিশনের ওই পাড়ে । আমি খপ করে ওকে ধরে ফেললাম। পার্টিশনের বালিশগুলোকে পা দিয়ে দূরে সরিয়ে দিলাম। আর ওকে এক টানে টেনে নিয়ে এলাম আমার বুকের উপড় ।

ও বরফ ঝড়ের মধ্যে পরা, বৃষ্টিতে ভেজা ছোট্ট পাখির বাচ্চার মতো কাঁপছিল যার কোথাও যাবার জায়গা নেই । হালকা অন্ধকারে সেই নীল আলোর ভেতর ও কেমন যেন হোয়ে গেল। এয়ার কন্ডিশনের ঠাণ্ডা বাতাসেও ও তখন ঘামছিল আমার হাতের ভেতরে। আমি ওকে আমার দিকে টেনে আনতে চাইলাম কিন্তু ও একেবারে শক্ত হোয়েআছে, ফ্রোযেন। আমি জানতাম যে এর আগে ওর জীবনে কোন পুরুষ মানুষের ছোঁয়া ও পায়নি। আমি এটাও বুঝতে পারছিলাম যে গত দু’টো দিন একটা পুরুষ মানুষের সাথে থেকে ও আমার প্রতি ভালোবাসা না হলেও একটা ইনফ্যাচুয়াশন তৈরি হোয়েছে আমার প্রতি।

বাংলাদেশের তখনকার সামাজিকতায় আমার কাছে আসতে চাওয়াকে আমি সাহসী পদক্ষেপ বলেই মনে করে নিলাম। একটা মেয়ে বিশেষ করে সদ্য বিবাহিতা একজন সবকিছু দ্বিধা ভুলে কোন পর পুরুষের কাছে আসতে চাইবে এর জন্যে ওর ভেতরে কতোটা সাহসের প্রয়োজন সেটা আমি বুঝতে পারলাম। দিন শেষে সেই নিরালায় আমি আর ও তখন শুধুই একজন মানব আর মানবী। ঠিক যেভাবে এসেছিল প্রথম মানব আর মানবী আদম আর হাওয়া ।

flirty-couple-hugging

আমি ওর মাথা আমার বাঁ হাতের উপরে রাখলাম।। আমি আমার মাথাটা উঠিয়ে ওর মুখের কাছে নিয়ে এলাম। ও ওর চোখ বন্ধ করল। আমি জানতাম যে ও রেডি ছিল। ওর বন্ধ চোখের কাছে আমার ঠোঁট দু’টো নিয়ে এলাম। ওর বন্ধ চোখের পাতা কাঁপছিল। ওর সুন্দর ঠোঁট দুটো কাঁপছিল। ওর নিঃশ্বাস গরম হোয়ে গিয়েছিল। আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। আমি ওকে শক্ত করে ধরে আমার বুকের সাথে মিশিয়ে ওর ঠোঁটে ঠোঁট রাখলাম আমার ঠোঁট দিয়ে ওর ঠোঁট দুটোকে আটকে ধরলাম । কতক্ষন যে ওভাবে ছিলাম তা মনে নেই। মনে হচ্ছিলো যে সময়টা থেমে গেছে । অনেক সময় টিভি দেখার সময় যখন এক জায়গায় এসে ছবি থেমে যায় ঠিক তেমনি।

GTY_couple_sleeping

আমি ওকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম। আমার আঙুল দিয়ে আস্তে আস্তে ওর মুখের উপরে গলায় ছুঁয়ে যেতে লাগলাম। আমি জানি এরকম আলতো করে ছুঁয়ে যাওয়া কতটা পছন্দ মেয়েদের। ওর মুখ থেকে অস্পষ্ট শব্দ বের হোয়ে আসছে। আমি জানি ও খুব উপভোগ করছে। ওর ফর্সা মুখটা লাল হোয়ে গেছে। কানের লতি টকটকে লাল। মনে হোল এক্ষুনি ফেটে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরুবে। আমি ওর কানের পেছনে আমার ঠোঁট দিয়ে আলতো করে চুমুর পর চুমু দিয়ে যেতে লাগলাম । ও দুই পা দিয়ে আমাকে আঁকড়ে ধরল। আমি জানি এর চেয়ে রেডি ও আর কোনদিনই ছিলনা। লেপের ভেতরে দু’জনেই ঘেমে উঠলাম।

কিন্তু আমার মন বলছে তখন অন্য কথা। আমি ইচ্ছে করলেই ওকে পেতে পারতাম। আমি জানি ও ছিল খুব নাজুক । একটুতেই ভেঙে পরতো। কিন্তু কেন যেন মনে হোচ্ছিলো যে আমিতো ওর বিপদে পড়ে আমার সাহায্য চাওয়ার কোন সূযোগ নিচ্ছি না ? ওর দুর্বল মুহূর্তের সুযোগ নিচ্ছিনা ? এমন সব হাজার প্রশ্নের সামনে আমি নিজেকে দাঁড়া করিয়ে দিলাম। যদি এমন হয় যে সকালে ঘুম থেকে উঠে ও অনুতাপ করে, অনুশোচনার আগুনে পুড়ে যায় তবে আমি কি উত্তর দেব ওর কাছে? যদি ও আমাকে ছোট ভাবে ?

যদি আমাকে নিকৃষ্ট কোন লোক ভাবে যা কিনা আমি নই। তখন কি হবে ? কিভাবে আমি নিউইয়র্ক যাওয়া পর্যন্ত সময় ওর চোখের সামনা সামনি করবো ? যদি আমাকে জিজ্ঞেস করে যে ও না হয় অবুঝ ছিল, ও না হয় জানত না কিন্তু আমিতো জানতাম, আমিতো ওর চেয়ে বড়, আমারতো সংযমী হওয়া উচিত ছিল। আমি ওর এই দুর্বল মুহূর্তের এতটুকু সুযোগ নিতে চাইলাম না। মানুষ অন্যের চোখে ছোট হোয়ে গেলেও মনে হয় চলতে পারে কিন্তু সে যদি নিজের চোখেই নিজের কাছে ছোট হোয়ে যায় তখন দিন চলা কঠিন হোয়ে পড়ে। নিজের চোখেই নিজে ছোট হোয়ে যাওয়াটা কোন যাবজ্জীবন জেল খাটার চেয়ে কম নয়।

আমি আর কিছুক্ষণ ওকে আদর করলাম, ছোট ছোট চুমুতে ওকে ভরিয়ে দিলাম। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললাম,” ঘুমিয়ে পড়ো। কাল সকালে এসব নিয়ে কথা হবে।“ আমি ওর দিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখলাম। মনে হোল ও খুব খুশি হোল আর নিশ্চিন্ত হোল আমার কথা শুনে।

আমি ওর মাথা আমার হাতের উপরে এনে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পরলাম। ও ওর একটা হাত আমার উপর দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে রাখল। মনে হোল আমার কাছেই ও সবচেয়ে নিরাপদ। আমার বুকের চেয়ে নিরাপদ আর ভালোবাসার আর কোন জায়গা ওর জানা নেই। বললাম ঘুমিয়ে পরতে আর আমিও আস্তে আস্তে ঘুমিয়ে পরলাম। পার্টিশনের বালিশদু’টোকে পা দিয়ে বিছানা থেকে ফেলে দিলাম। গুড বাই পার্টিশন।

হটাৎ করে আমার ঘুম ভেঙে গেল। কতক্ষন ঘুমিয়েছি তা বলতে পারবনা। মাঝ রাতে কেন যেন ঘুম ভেঙে গেল। হালকা নীল অন্ধকারে ওকে খুঁজলাম কিন্তু পেলাম না। ভাবলাম হয়তা বাথরুমে গিয়েছে । আমি কিছুক্ষণ ওয়েট করলাম। কিছুক্ষণ ওয়েট করার পর যখন ও এলনা তখন আমি খানিকটা চিন্তিত হতে লাগলাম । ভয় ও পেলাম কিছুটা। তখন খেয়াল করলাম যে ব্যালকনির দরোজাটা হাল্কা করে ভেড়ানো। বিছানা থেকে নেমে আস্তে করে দরোজা খুলে দেখি যে ও সেখানে দাঁড়িয়ে। পুরোটা মাস্কাট শহর দেখা যাচ্ছে ১৭ তলার উপর থেকে।

1

পেছন থেকে দেখলাম যে ও চুপ চাপ দাঁড়িয়ে আছে। আমি জানি ও কি ভাবছে। হয়তো অনুতাপ হচ্ছে ওর যে ও আমাকে ছুঁয়েছে অথবা আমি ওকে ছুঁয়ে দিয়েছি । তবে একটা কথা আমার জানা আছে যে মেয়েরা ভালোবাসা ছাড়া কারো দিকে সাধারনত এগোয় না আর সেটা খুব বেশি সত্যি আমাদের এই উপমহাদেশের মেয়েদের ক্ষেত্রে । একটা বিবাহিতা মেয়ের পক্ষে বিশেষ করে বাংলাদেশি মেয়ের পক্ষে গত দু’দিনের ঘটে যাওয়া ব্যাপারগুলকে হজম করা এতোতা ইজি না। দূরে গালফ অফ ওমানের দিকে তাকিয়ে আছে ও।

এমনিতেই মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে বেশি ভাবে আর এই সময়ে ওরতো ভাবারই কথা। ওর পেছনে গিয়ে দাঁড়ালাম। চিন্তা করছি যে ওকে ছুঁয়ে দেব কিনা। তখন হয়তো ও একটা ঘোরের মধ্যে বা নেশার মধ্যে ছিল ( ভালোবাসা তো একটা নেশার মতোই ) কিন্তু এখন যখন চিন্তা করার সময় পেয়েছে তখন হয়তো ওকে ছুঁয়ে দেয়াটা আর ওর আমাকে ছুঁয়ে দেয়াটা স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারছেনা।

সেজন্যে আমি ওর পাশে দাঁড়িয়ে বন্ধুর মতো হাত রাখলাম ওর কাঁধে যাতে ওর মনে হয় আমি ওকে বন্ধুর মতো ভালোবাসি। যে হাত ওকে নির্ভরতা দেবে। যে হাত ওকে নিরাপদ রাখবে। এই বিদেশ বিভুঁয়ে যে হাত ও নির্ভয়ে ধরতে পারবে। আমি জানি কি ভীষণ মানষিক টানাপোড়নের মধ্যে আছে ও। আমার হাত ওর কাঁধে রাখতেই ও বাঁ হাত দিয়ে আমার হাতটা ধরে পেছন দিক দিয়ে ওর কোমড়ের উপরে এনে ধরে রইল । আমার দিকে তাকিয়ে শুকনো একটা হাসি দিল। আর সেই হাসি কিছু না বলেও অনেক কিছু বলে গেল। আমি বুঝে গেলাম যে ও আমার প্রেমে পড়ে গেছে। ওর প্রতিটা না বলা কথা, শুকনো হাসি চিৎকার করে বলছে যেন ও আমাকে ভালোবাসে । আমার মনটা কষ্টে ভরে গেল।

কিভাবে সামলাবে ওই অত্তোটুকুন ছোট্ট একটা মেয়ে যে জীবনে কোনদিন কাউকে ভালোবাসেনি। এমনও হোতে পারে যে কোন ছেলে ক্লাসমেটদের সাথেও তেমন কোন সময়ও কাটায়নি। আমি ছাড়া আর কোন পুরুষ মানুষ সে চেনেনা। গত দুই দিনের সম্পর্ক ছাড়া ওর আর কোন সম্পর্ক ছিলনা কোনদিন । ওর বরকে ও কোনদিন দেখেনি। ওর বরের সাথেও কোনদিন সংসার করেনি। জীবনের এই যে প্রেম, ভালোবাসা, সম্পর্কে ওর কোন অভিজ্ঞতা নেই। আমিই তার প্রথম প্রেম। আমাকেই প্রথম পেয়েছে ও আর আমাকেই ভালোবেসে ফেলেছে। কিন্তু আমি আবার জীবনের এই দিকটাতে বেশ অভিজ্ঞ ছিলাম বলে সহজেই আমার চোখে ধরা পরে গেল।

আমিও যে খুব একটা বেশি বয়সি ছিলাম তা নয়। আমি ছিলাম মাত্র ২৭ বছরের যুবক আর ও ছিল ২২/২৩ বছরের এক নিতান্তই এক সহজ সরল বাংলাদেশি মেয়ে। আমি ইতিমধ্যেই বিয়ে করেছিলাম এবং আমার জীবনে প্রেম ভালোবাসা মধ্যে বেশ ক’বার। আমি ওকে আরো কাছে টেনে নিলাম। পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে চুপ চাপ দাঁড়িয়ে রইলাম। এত কাছে থেকে আমি ওর নিঃশ্বাস ওঠা নামা অনুভব করছিলাম।

ও চুপ করে রইল। আমি ওকে জড়িয়ে ধরে রইলাম । আবার একটা হাসি দিল। ওর চুল থেকে মিষ্টি একটা গন্ধ ভেসে আসছিল। সুন্দর, ঝরঝরে সুন্দর চুল। কিছুক্ষণ পর বলল,” চল, শুতে যাই।“ ও যে কখন আমাকে আপনি করে বলা বন্ধ করে তুমি করে বলা শুরু করে দিয়েছে আমি সেটা খেয়ালই করিনি । ওকে নিয়ে বিছানায় চলে এলাম। আমি কিছু বলব বলে মুখ খুলতেই ও আমার মুখের উপরে হাত দিয়ে চাপা দিল।

hqdefault

ও বলল,’’ কিছু বলতে হবে না। কিছু বলনা। জাস্ট আমাকে শক্ত করে ধরে রাখ। আমি কিছু জানিনা। কিছু বুঝিনা। কিছু জানতেও চাই না, বুঝতেও চাইনা । আমি শুধু তোমার কাছেই থাকতে চাই। এভাবেই আমি স্মৃতি বানাতে চাই। আমি চাই এই মুহূর্তগুলোকে ফ্রোযেন করে রাখতে। আমাকে স্মৃতি দাও যাতে আমি সারাটা জীবন এই স্মৃতি গুলো নিয়ে বাঁচতে পারি। তোমার সাথে কাটানো প্রতিটা মুহূর্ত আমার চাই। প্রতিটা ঘণ্টা, প্রতিটা মিনিট আর প্রতিটা সেকেন্ড আমার চাই।“

আমি ওর কপালে চুমু দিলাম। আমিও ওর মতো কিছু না বলে অনেক কিছু বলে দিলাম। আমি ভালো করেই বুঝতে পারছিলাম যে আমিও ওর প্রেমে পড়ে যাচ্ছি। কিন্তু আমি আমার ফীলিংসটা যাতে কোনমতেই বের হোয়ে না আসে সেদিকে খেয়াল দিলাম। ভাবছিলাম যে আমাকে আরও কঠিন হোতে হবে যাতে ও টের না পায় যে আমিও ওকে ভালোবাসতে শুরু করে দিয়েছি। ভালোবাসার এই এক প্রবলেম । কখন যে কোন দিক থেকে ভালোবাসা এসে গ্রাশ করে নেবে তা কেউ বলতে পারেনা। আচ্ছা আমি কি করব যদি আমি নিজেকে সামলাতে না পারি? একথা ভাবতেই আমার বুকে ব্য্যাথা অনুভব করলাম। একটা তীব্র ব্যথা যেটা কাউকে বলা যাবেনা। কারো সাথে শেয়ার করা যাবেনা। মনে হোল আমার হৃদয়টা ফেটে চৌচির হোয় যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *