লাভ ইন ওমান পর্ব – ৪

আমি ওকে দেখছিলাম আর বারবারই মনে হোচ্ছিল যে সে একটা এমিউজমেনট পার্ক এ চলে এসেছে। দোকানের খুব উজ্জ্বল আলো যখন ওর উপরে পড়ছিল, আর যখন ও হাসছিল তখন মনে হোচ্ছিল যে ওর হাসি ১০০০ ভোল্টের। আমি তাকে বললাম যে অতো ক্রেজি নাহলেও চলবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম যে কিছু কিনবে কিনা। আর সে বেশ দৃঢ়তার সাথে উত্তর দিল,”অফ কোর্স।” আমি ওর বোল্ডনেস দেখে বেশ অবাক হোলাম কিন্তু একই সাথে ওর মধ্যে কি এক আশ্চর্য সুইটনেস আছে। “তাই নাকি? তাহলে কিছু একটা বা দু’টো কিনে ফেল।”

Karachi-Airport-Hotel-700x357

আমরা বেশ ক’টি দোকান ঘুরে দেখলাম। আমি ওর হাত ধরে টেনে একটা দোকানে নিয়ে এলাম। সারাটা দোকান জুড়ে দারুণ দারুণ সব গরজিয়াস ড্রেস । চারিদিকে এতো সব লাইট আর আলোর এতো ঝঁকমকে, চোখ ধাঁধানো ডিসপ্লেতে ড্রেসগুলো এত সুন্দর লাগছিল যে মনে হোচ্ছিলো আমি পুরো দোকানটাই কিনে ফেলি। ড্রেসের সাথে নানারকম এক্সেসরিস ছিল দোকানটায় যেমন ম্যাচিং জুতো, ব্যাগ, ইমিটেশন জুয়েলারি। আমি ওকে বললাম যে এক দোকান থেকে সবকিছু কিনলে হয়তো বেটার প্রাইস পাওয়া যেতে পারে ।

ও শুধু মাথা ঝেঁকে হ্যাঁ বলে আমার পেছনে পেছনে দোকানে ঢুকে গেল । উর্দু ভাষাতে লিখা প্রাইসগুলো বুঝতে অসুবিধা হওয়াতে আমাকে বার বার সেলসম্যানকে দাম জিজ্ঞেস করতে বলল। আর আমিও ওর কথামতো দাম জিজ্ঞেস করতে থাকলাম।

সে দু’টো ড্রেস পছন্দ করল যার মধ্যে একটা ওজনে বেশ ভারী। সে আমাকে জিজ্ঞেস করল যে ড্রেস দুটো সুন্দর লাগছিল কিনা। আমি একটু অবাকই হলাম যে সে আমার ডিসিশন জানতে চাচ্ছিল। আমি তাকে বললাম যে ড্রেস দুটোই খুবই সুন্দর। বিশেষ করে একটা ছিল পুরোটা বডিতে দামি দামি পাথর বসানো। ড্রেস চুজ করার পর আমি তাকে বললাম ম্যাচিং জুতা, ব্যাগ আর কিছু গহনা কেনার জন্যে ।

ফাইনালি যখন বিল দেয়ার সময় এল তখন সে দেখতে পেল যে দাম দেয়ার জন্যে আমি আমার ওয়ালেট বের করছিলাম কিন্তু সে আমার প্যান্টের বাইরে দিক থেকেই প্যান্টের ভেতরে আমার হাত চেপে ধরল। আমি জোর করে ওয়ালেট বের করতেই সে ছোঁ মেরে আমার হাত থেকে সেটা কেড়ে নিয়ে গেল আর বলল,”মোটেই না। কোনমতেই আমি আপনাকে টাকা দিতে দেবনা। আমার বর আর আমার বাবা মা আমাকে অনেক টাকা সাথে দিয়ে দিয়েছে রাস্তায় খরচ করার জন্যে। প্লিজ এটা করলে আমি কিন্তু কিছুই কিনবনা।” কি আর করা?

আমি বললাম,”জো আজ্ঞা মহারানী।“ আমার কথা শুনে সে ওর দুধ সাদা দাঁত বের করে হেসে ফেলল আর আমি ওই প্রথম তাকে হাসতে দেখালাম। ওর হাসি আমার বুকের ভেতরে গিয়ে লাগলো। কিন্তু আমিও ছাড়ার পাত্র নই । আমি বললাম,”শোন, আমাকে অন্ততঃ একটা কিছু তোমাকে গিফট করতে দাও। নইলে তোমাকে একলা ফেলে চলে যাবো।” ও ওর সেই হৃদয় ভাঙা হাসি দিয়ে বলল,”আপনি আমাকে একলা রেখে যেতেই পারবেন না, সেটা আমি জানি।” আমি বললাম,”ওকে, চল। জলদি করে দাম দাও।”

সেলসপারসন কিছুই বুঝতে পারছিলনা যে ব্যাপারটা কি হচ্ছে কিন্তু এতোটুকু বুঝতে পারছিল যে ও আমাকে জিনিসগুলোর দাম দিতে দিচ্ছিল না। একজন আমাকে বলল যার বাংলায় অর্থ দাঁড়ায়,”ভাই, আপনিতো সবসময়ই দাম দেন, ভাবীকে এইবার দাম দিতে দিন।” বুঝলাম যে দোকানের লোক ভেবেছে যে আমরা বিবাহিত কাপল।
সে আমাকে থ্যাংকস জানাল ওকে এত সুন্দর ডিজাইনের ড্রেস আর ম্যাচিং জিনিসগুলো কেনাতে হেল্প করার জন্যে। এমনকি সে এটাও বলল যে আমি যদি চুজ না করতাম তবে সে কিনতোই না।

আমি হোটেল থেকে সিটিতে যাবার রিস্ক না নিলেও মনে মনে সিক্রেট একটা প্ল্যান করলাম যে করাচীর খুব বিখ্যাত ক্লিফটন বীচ যাব ওকে নিয়ে । সারাজীবনে ও কোনদিন আর সুযোগ পাবে কিনা কে জানে ? আমরা হোটেলের ফ্রন্ট ডেস্ক থেকে ডিনার ভাওচারটা ঠিকি নিয়েছিলাম কিন্তু বীচে যাবার লোভটা কোনমতেই সামলাতে পারলাম না। আমার মনে ছিল যে বীচের পাশেই একটা শপিং মল ছিল আর তার পাশেই ছিল বেশ বড়সড় একটা ফুডকোর্ট যেখানে অনেক আসল পাকিস্তানি খাবার পাওা যায়।

এদিকে দেরি হোয়ে যাচ্ছিল সেজন্যে আর সদ্য কেনা জিনিসগুলো রেখে আসতে আবার রুমে ফিরে যেতে ইচ্ছে করলনা। আমি ব্যাগগুলো ফ্রন্ট ডেস্ক এসে ওদের কাছে রেখে গেলাম যে ফিরে এলে তখন নিয়ে একবারে রুমে নিয়ে যাবো।

আমরা নিরেব আমি চারিদিকে তাকিয়ে দেখলাম যে কেউ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে কিনা। যখন নিশ্চিত হলাম যে আমাদের কেউই দেখছেনা তখন সিকিউরিটি গার্ড -এর সাথে হ্যান্ড শেক করার ভান করে তার হাতে $১০ ডলারের একটা নোট ধরিয়ে দিলাম যাতে সে আমাদের হোটেলের বাইরে যেতে না আটকায়। আর কারণটা হল যে ওর ভিসা নেই। সিটিতে যাওয়াটা বোধহয় ঠিক হতোনা ।

আমি সিকিউরিটি গার্ডকে বললাম একটা ভালো এবং বিশ্বস্ত ট্যাক্সি ডেকে দিতে। আর ভালো করে উর্দুতে বুঝিয়ে দিতে বললাম যে আমরা কোথায় যাচ্ছিলাম কারণ আমি উর্দু ভাষা ভালো বুঝতে পারলেও অত ভালো বলতে পারি না। সিকিউরিটি গার্ড হোটেলের সামনে লাইনে দাঁড়ানো ট্যাক্সিগুলোর থেকে একজন ভালো দেখে টাক্সি ও ড্রাইভার ঠিক করে দিল আর বলল যে তাকে ৫০ ডলার আর কিছু টিপস দিতে যাওয়া আর আসার জন্যে। আর সাথে এটাও বলে দিল যে আমাদের অবশ্যই রাত ১১ টার মধ্যেই ফিরে আসতে হবে নইলে তার চাকরি থাকবেনা। আমি অভয় দিয়ে বললাম যে এই যাচ্ছি আর এই আসছি। কোন চিন্তা করতে বারণ করলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *