admin

My new Book Premer Chitir cover

book-cover-of-premer-chithi

Back Cover

back

Cover

frontcover1

লাভ ইন ওমান – 33

আমার কাছা কাছি এসে ও থেমে গেল। ওর দু’চোখ ভরা জল নেমে যাচ্ছে। ও সোজা আমার চোখের দিকে তাকাল। আমি ওর চোখের ভাষা খুব ভালো করে বুঝতে পারি। ওর সেই করুণ চোখের দৃষ্টি কিছু না বলেও আমাকে অনেক কিছু বলে গেল। সেই চোখের দৃষ্টিতে লিখা ছিল,” প্লিজ আমাকে বাঁচাও। আমি ওই অপরিচিত লোকের সাথে যেতে চাই না।“ আমি স্পষ্ট পড়তে পারছিলাম সেই চোখের ভাষা। যে চোখ আমি গত ৭ দিন এক নাগাড়ে পড়েছি আমার মনের চোখ দিয়ে। Continue reading

লাভ ইন ওমান – 32

আস্তে আস্তে প্লেন থেকে বের হোয়ে এলাম। ওকে শেষ বারের মতো হেল্প করলাম ওর সুটকেস নিয়ে প্লাস আর দু’টো ব্যাগ ভরা গিফট নিয়ে। ফাতিমাহ আর পাইলটকে আমাদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আমরা প্লেন থেক বের হোয়ে এয়ারব্রিজ এর ভেতর দিয়ে ইমিগ্রেশনের দিকে রওনা দিলাম। পেছন থেকে ফাতিমাহ বলল যে ওকে যেন আসছে ঈদ বাংলাদেশে করার জন্যে ওকে পাঠিয়ে দেই। Continue reading

লাভ ইন ওমান – 31

যেদিন তোমার বরের সাথে তোমার প্রথম রাগারাগি হবে তুমি প্রথমে যে কাজটি করবে তা হোল আমাকে কল করে বসবে। আর তা যখন করবে তখন আর পেছনে ফিরে দেখা হবে না আমার। তোমার ডাক উপেক্ষা করার শক্তি আমার নেই সেটা তুমি ভালো করে জান।“ ও আমার বুকের উপরে উঠে বসে আমাকে আঘাত করতে লাগল । আমি নিরবে সয়ে গেলাম।
” কেন, কেন তুমি আমার জীবনে এলে আর এলেই যদি তবে কেন আমাকে এত ভালোবাসলে ? আমাকে শেখালে যে ভালোবাসা কিভাবে করতে হয়। কেন আমাকে এত ভালোবাসলে ? আর কেনই বা তুমি এখন গড সেজে আমার ভাগ্য লিখছ ? ভাগ্যই যদি লিখবে তবে কেন তোমাকে আমার ভাগ্যের সাথে জুড়ে দিলে না ? কেন ? কেন “? ও জোরে জোরে চিৎকার করতে লাগল। আমার কাছ থেকে উঠে গিয়ে অন্য সিটে গিয়ে বসে দুই হাত মুখের উপরে দিয়ে কাঁদতে লাগল । আমি ভয় পেয়ে গেলাম যে ফাতিমাহ যদি এসে পরে তখন কি বলব।
Continue reading

লাভ ইন ওমান – 3০

ফাতিমাহ এসে আবার আমাদের জন্যে দু’টো স্লিপিং রোব, আমার জন্যে শেভিং সেট উইথ কোলন, আফটার শেভ বাম, নেইল কাটার সহ অনেক কিছু ভরা গিফট প্যাক নিয়ে আর ওর জন্যে বিভিন্ন রকমের কসমেটিক্স ভরা গিফট ব্যাগ সাথে পারফিউমসহ রাজ্যের জিনিস । আমাদের সুটকেসে জায়গাই ছিল না । সেজন্যে ফাতিমাহ দু’টো ব্যাগও আমাদের দিল ওগুলো ক্যারি করার জন্যে ।
প্লেন ওড়ার ৪০ মিনিট পর আমাদের জন্যে লাঞ্চ সারভ করা হয়। মেনুতে দেখলাম যে আবার আমাদের ক্যাভিয়ার দেবে এ্যপিটাইজার হিসাবে। আমি আগে থেকেই বলে দিলাম যে ক্যাভিয়ার না ।ফ্রুট দিলেই চলবে। কতো রকমের যে খাবার এনে আমদের সামনে রাখল তার হিসাব নেই। Continue reading

লাভ ইন ওমান – ২৯

আমি আরিযাকে অনেক অনেক থ্যাংকস জানালাম। ও আমাকে বলল,” এমনকি আমি তোমাদের দুইজনকেই ভালো বেসে ফেলেছি।“ আমাকে বলল,” জানিনা যে তোমার মাঝে কি আছে, যে কোন মেয়েই তোমার প্রেমে পড়বে। তুমি আমাকে ফ্রেন্ড না বানালে অথবা তোমার সাথে তোমার স্ত্রী না থাকলে আমিও তোমার প্রেমে পড়ে যেতাম।“ আমি হা হা হা করে হেসে ফেললাম। আমাদের হাপি ম্যারিড লাইফের উইশ করে আর কিছু গিফট দিয়ে চলে গেল।
“ কি আমার কথাই ঠিক কিনা বল। আমি বলেছিনা যে তোমার মধ্যে কি যেন একটা আছে যা তোমাকে অন্য সবার চেয়ে আলাদা করেছে। আর তোমাকে জানার পরতো আমার কোন সন্দেহই নেই যে তোমার মত এতো কেয়ারিং কাউকে সহজে খুঁজে পাওয়া যাবেনা। দেখেছ যে আরিযা কি বলল ? সেও তোমার প্রেমে পড়ে গিয়েছে ।“ Continue reading

লাভ ইন ওমান -২৮

আমি খোদার কাছে প্রার্থনা করছিলাম যে আমাদের প্নেন যেন খুব আস্তে আস্তে চলে যাতে আমি তোমার পাশে বেশিক্ষণ বসতে পারি। করাচীতে তুমি আমাকে নিয়ে বাইরে গেলে যেটা আমার জন্যে ছিল আন এক্সপেকটেড একটা অভিজ্ঞতা। আমি খুব করে চাচ্ছিলাম যে তোমার গায়ের সাথে গা লাগিয়ে বসি কিন্তু ভয় হোচ্ছিল যে তুমি যদি আমাকে খারাপ মেয়ে ভাব। আমার চুল বার বার এসে তোমার মুখে লাগছিল। লম্বা চুল আমি ম্যানেজ করতে পারছিলাম না। তুমি বার বার তোমার মুঝের উপর থেকে চুল সরিয়ে দিচ্ছিলে। আমার খুব হাসিও পাচ্ছিল যে তোমাকে একটা কাজে বিযি রাখতে পারছিলাম। Continue reading

লাভ ইন ওমান -২৭

আমাদের হাতে হাজার রকমের খাবারের মেনু ধরিয়ে দিয়ে চলে গেল। যাবার সময় আবার মাথায় একটা টোকা আর সেই চোখ মারা। বেচারী ও কিছুই বুঝলনা। যখন বুঝিয়ে বললাম তখন ও লজ্জায় মরে আর কি, “ বলকি ? প্লেনের ভেতরে ওসব হয় নাকি?” আমি বললাম হয় না মানে ? ফার্স্ট ক্লাস বেশিরভাগ সময়েই খালি থাকে আর এরই মধ্যে অনেকেই থ্রিল হিসাবে একাকি এই নির্জনে অনেক সময় মাইল হাই ক্লাবের সদস্য হোয়ে যায়।“
মাইল হাই ক্লাব কি ?
এটা একটা নাম। এই নামে কোন ক্লাব নাই। এটা একটা মানুষের দেয়া নাম যারা কিনা মাটি থেকে অনেক উপরে মনে কর ৩/৪ মাইল উপরে প্লেনের ভেতরে ভালোবাসা করে তাদের বলে মাইল হাই ক্লাবের সদস্য। Continue reading

লাভ ইন ওমান -২৬

ফ্রন্ট ডেস্ক এর সামনে ইরাকি এয়ারওয়েজের সেই অফিসার দাঁড়িয়ে ছিল। আমাদের দেখেই এগিয়ে এল। আমার হাতে একটা কাগজ ধরিয়ে দিল দেখলাম যে বালানস একেবারে যিরো। আমাদের জিজ্ঞেস করল যে এখানে থাকাটা কেমন লাগল । অনেক অ্যাপোলজী করল যে আমাদের ক’দিন এখানে থাকতে হোল বলে। ইরাকি এয়ারওয়েজ আমাদের এত ভালো কেয়ার করেছে যে অভিযোগের কোন সুযোগই রাখেনি। আমি ও যতটুকু পারলাম তাদের এক্সট্রা অরডিনারি সার্ভিসের জন্যে থ্যাংকস জানালাম। Continue reading

লাভ ইন ওমান -২৫

রুম সার্ভিস থেকে রাতের খাবার আনিয়ে খেলাম। তখন কি জানতাম যে কাল এ আমাদের চলে যেতে হবে এই স্বপ্নের রুম থেকে।? পরম যত্নে ওকে মুখে তুলে খাইয়ে দিলাম। কেমন যেন এক দলা কষ্ট আমার বুকের মধ্যে জমা হোয়েছিল। আমাকে রিতিমতো অসুস্থ করে তুলল। কিছু খেতে ভালো লাগলনা । আমি ওকে বুকের ভেতরে নিয়ে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে চলে গেলাম।
বিছানায় শুয়ে ও আমাকে জড়িয়ে ধরে রইল। “ সোনা, তুমি কি পারবে আমাকে ছাড়া থাকতে ? “ আমি বললাম, “ হায়রে, তোমাকে বোঝাতে যেয়ে কে জানত যে আমার হৃদয় ভেঙে খান খান হোয়ে যাবে। তোমাকে সাহস জোগাব না আমি নিজে সাহস পাব ? জানিনা সোনা যে আমার কি হবে । আচ্ছা ধর কোনদিন তুমি শুনতে পেলে বা নিউইয়র্কের বাংলা পেপারে দেখতে পেলে যে আমি মরে গেছি তখন তুমি কি আমাকে মনে করে কাঁদবে ?” Continue reading

লাভ ইন ওমান -২৪

আমি বললাম,” আমার অর্ডার শুনবে বললে, প্রমিজ করেছ। সো এখন আমার সাথে যেতে হবে শপিংএ। আমি যা কিনে দেব তাই নিতে হবে। আমি জানিনা তুমি কিভাবে তোমার বরকে ম্যানেজ করবে সেটা তোমার প্রবলেম। “ বলে ওকে উঠিয়ে দিলাম। আর বললাম ,”আজ তোমাকে আমি রেডি করে দেব। তুমি শুধু চুপচাপ লক্ষি মেয়ের মতো শুনে যাবে। তুমি হয়তো বুঝতে পেরেছ যে আমি তোমার কোনকথাই শুনবনা।“
আমার নাকটা ধরে বলল ,’ঠিক আছে তোমার যেমন ইচ্ছা আমাকে সাজাও। চল তোমার সাথে যেখানে চাও সেখানেই যাবো।“ “ এইতো লক্ষ্মী মেয়ে। Continue reading

লাভ ইন ওমান -২৩

ওর মুখের উপরে আমার মুখতা নিয়ে খুব কাছে থেকে আমি ওকে দেখছিলাম। আমার গরম নিশ্বাসে ও চোখ খুলে দিল। শুকনো একটা হাসি দিয়ে জানতে চা ইল,” কি দেখছ অমন করে।?” আমি ছোট্ট করে উত্তর দিলাম,” আমার এঞ্জেল কে।“ “ কি দেখলে এঞ্জেলের মুখে?”দেখলাম আমার ভালোবাসা, আমার বর্তমান ।“
আমাকে ধরে বলল,” আমি জানি ভবিষ্যত দেখা যায়নি আমার মুখে । তোমার ভবিষ্যতে আমি কোথাও নেই। কি অদ্ভুত আমাদের জীবন। যাকে নিয়ে ভবিষ্যত গড়তে চাই সে কবে অন্যের হোয়ে গেছে । আর যে আমার ভবিষ্যত সে আমার কোনদিনই ছিলনা আর হবেও না। আর তোমাকে ক’দিনের জন্যে পেয়ে আমি চাইও না যে আর কেউ আমার হোক। আচ্ছা, তুমি কি কখনো আমার কথা চিন্তা করবে ? Continue reading

লাভ ইন ওমান -২২ হানিকম থিয়োরি অফ লাভ

কি হোত যদি আমরা আমাদের ইপ্সিত জনকে পেয়ে যেতাম? কারতো কোন ক্ষতি হতোনা যদি সারা দুনিয়ার সবাই নিজেদের ভালোবাসার জনকে পেত । ভালোবাসা সম্পর্কে আমার নিজস্ব কিছু মতামত আছে। জীবনে প্রেম, ভালোবাসানিয়ে কম ঘাঁটাঘাঁটি করিনি। প্রতিটা সম্পর্ক নিয়ে এসেছে এক নতুন শিক্ষা ।
কোন দু’টো ভালোবাসাই এক নয়। আমার মনে হয় মানুষ একই সাথে একজনের বেশি মানুষকে কে ভালো বাসতে পারে। মানুষের মনটাই এমন যে কেউ যদি ভালো বেসে থাকে একবার তার জন্যে ভালোবাসা একবারের বেশি আসতে পারে জীবনে। Continue reading

লাভ ইন ওমান -২১

আমার দিকে তাকিয়ে থাকা ওর চোখ কি যে বলছে তা আমি বুঝতে চাচ্ছিলাম কিন্তু বুঝে উঠতে পারছিলাম না। আমাকে কি ও ঘৃণা করবে ? আমাকে কি ভাববে লুচ্চা, লাফাঙ্গা ? কোনদিনও কি মনে হবে না ওর যে আমি ওকে ঠকিয়েছি ? করুণ ভাবে চেয়ে থাকা কাঁদতে কাঁদতে চোখের অস্রু শুকিয়ে যাওয়া একটা ইনোসেন্ট মেয়ে কাউকে ভালোবেসেছে, অসহায়ের মতো আত্মসমর্পণ করেছে।
সঁপে দিয়েছে এমন একজন কে যে কিনা তাকে কষ্ট ছাড়া আর কিছুই দিতে পারবেনা। আচ্ছা কেন এমন হয় ? খুব দেখতে ইচ্ছে করে নিয়তির সেই কিরামিন কাতিবিন দু’জনকে ( রাকিব আর আতিদ) যারা আমাদেরই কাঁধে বসে আমাদেরই নিয়তি লিখছে। Continue reading

লাভ ইন ওমান -২০

তখনি মনে হোল যে ফ্রন্ট ডেস্কে আমাদের ফ্লাইটের কোন নতুন ইনফর্মেশন আছে কিনা সেটা জানার জন্যে কল করি। কল করতেই আমাকে জানাল যে ইরাকি এয়ারওয়েজকে পুরোপুরিভাবে আপাতত গ্রাউন্ড করে রাখা হোয়েছে আর দুই একটা যাই আছে সেগুলোকে হ্যাঙ্গারে নিয়ে রাখা হোয়েছে। আমেরিকা আর ন্যাটোর অর্ডারের কারনে ওটা করা হোয়েছে। আমাকে একটা নাম্বার দিয়ে কল করতে বলল যদি কোন ইনফর্মেশন চাই তবে হয়তো ওদের সাথে কথা বললে সেটা পাওয়া যাবে। Continue reading

লাভ ইন ওমান -১৯

আমার ঘুম ভাংল যখন ও জানালার পর্দা ওপেন করে দিল রুমে সূর্যের আলো আসবে বলে। চোখ ডলতে ডলতে চোখ খুলেই দেখি আমার সকালের দেবী আমার সামনে দাঁড়ানো, মনে হোচ্ছিল যদি গ্রীক সৌন্দর্যের দেবী ভেনাস সত্যি সত্যি থাকতো তাহলে ওর চেয়ে বেশি সুন্দরি হোত না। অলরেডি গোসল করে এসেছে। ফ্রেশ।
আমি জেগে যাব বলে হয়ত হেয়ার ড্রায়ার ইউজ করেনি তাই চুল তখনো ভেজা। “ চুল ড্রাই করনি কেন? “ জানতে চাইলাম। “ এর দু’টো কারণ আছে। একটা হোল যে তোমার ঘুম ভেঙে যেত আর সেকেন্ড কারণ হোচ্ছে যে তুমি ড্রাই করে দিয়েছ গত তিন দিন সেজন্যে আমার অভ্যেশ হোয়ে গিয়েছে।“ হেসে বলল। Continue reading

লাভ ইন ওমান -১৮

আমি বললাম,” বোকা মেয়ে ছুঁয়ে দিলেই কেউ প্রেগন্যান্ট হয়না। তাছারা চিন্তা কোরনা। আমি তার ব্যবস্থা করেছি। যার নামের সুরু হোল ক দিয়ে আর শেষ হোল ম দিয়ে।“ স্মার্ট মেয়ে ঠিকি বুঝে নিল। অবাক হোয়ে বলল,” হোয়াট ? কখন ? কিভাবে ?” ও যেন নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছেনা।
আমি বললাম,” ওই যে যখন ড্রাগ স্টোরে গিয়েছিলাম। তখন। “ও তা’হলে তোমার ওই মাথা ব্যথা ছিল।।? আমি গর্বের সাথে বললাম,” ইয়াপ। আমাকে দুই হাত দিয়ে খামছি মারার জন্যে যখন দুই হাত ওঠাল তখন আমি ওর হাত দুটো খপ করে ধরে ফেললাম। আমার হাতের ভেতর থেকে হাত সরাতে চেষ্টা করল কিন্তু পারলনা। আমি হেসে বললাম,” মাফ চাইছ কেন ?” কই মাফ চাইলাম ? এইযে দুই হাত জোড়া করে আছ, মনে হচ্ছে যে মাফ চাইছ,” আমি ওর হাত ধরে বললাম। Continue reading

লাভ ইন ওমান -১৭

ডেজারট হিসেবে একটা সানডে আইসক্রিম নিলাম । দু’জনে শেয়ার করলাম। আমি দেখলাম যে ওর খাবারের দিকে তেমন নজর নেই । শুধু আইসক্রিমের গ্লাসটার মধ্যে চামচ ঢোকাচ্ছে আর বের করছে । আমি বুঝে গেলাম যে ও খুব দোটানায় আছে কোন ব্যাপার নিয়ে । আমিতো জানিই যে এভাবে আমার সাথে ভালোবাসার একটা সম্পর্ক হওয়া এটা যে কোন মেয়ের জন্যে সহজ কোন ব্যাপার না। আমি তাড়া দিলাম,” চল, দেরি হোয়ে যাচ্ছে ।“ ও মনে হোল বাস্তবে ফিরে এলো। Continue reading

লাভ ইন ওমান -১৬

ড্রাইভার আমাদের ওমানের সুলতানের বাড়ী দেখাতে নিয়ে গেল। দারুণ সুন্দর একটা রাজপ্রাসাদ। আমরা ঠিক একেবারে প্রাসাদের সামনে যেতে পারিনি সিকিউরিটির কারনে কিন্তু ড্রাইভার সাহেব ওদের সাথে বিশেষভাবে বলে কয়ে আমাদের জন্যে ৫ মিনিট সময় নিয়ে এসেছে শুধু কিছু ফটো তোলার কথা বলে। আমি বেশ কিছু ছবি তুললাম ।

ও আমার ছবি তুলে দিল কিন্তু যখন ওকে ওর ছবি তোলার কথা বললাম তখন ও বলল যে ছবি তুললে হয়তো আমাদের দুজনের জীবনেই প্রবলেম হোতে পারে। আমি ওর ম্যাচুওরিটি আর দূরদৃষ্টি দেখে বেশ অবাক হলাম। Continue reading

লাভ ইন ওমান পর্ব -১৫

আমি বললাম,” বেশি চিন্তা কোরনা। তুমি চিন্তা করলেই যে প্রবলেম সলভ হোয়ে যাবে এমন নয়। সেজন্যে চিন্তা করে লাভ নেই। মনে হয় প্রকৃতির এটাই ইচ্ছা ছিল যে আমরা এভাবেই এই বিদেশ বিভুঁয়ে এসেই মিলবো। এটাই মেনে নাও। নিজেকে ভাসিয়ে দাও ভালোবাসায়। কে জানে এর পর তোমার জীবনে ভালোবাসা আদৌ আসবে কিনা। মানুষের জীবনে ভালোবাসা খুব কম আসে। সবাই সেই ভালোবাসার সন্ধান পায়না। সারাটা জীবন একজনের সাথে সংসার করেও কেউ বলতে পারেনা যে সে সত্যি ভালোবাসা পেয়েছে কিনা বা কেউ তাকে ভালোবেসেছে কিনা।“ Continue reading

লাভ ইন ওমান পর্ব -১৪

জানিনা আমি কতক্ষন ওভাবে চোখ বন্ধ করে উষ্ণতা নিচ্ছিলাম। মনে হোচ্ছিলযে এর মাঝে জনম জনম সময় পার হোয়ে গেছে। চোখ বন্ধ করেই ভাবছিলাম যে চোখ খুলবোনা । আমি জানি চোখ খুললেই ও হারিয়ে যাবে কুয়াশার ভেতর দিয়ে। আমি হারিয়ে ফেলব ওকে হাজার বছরের জন্যে। শেষ পর্যন্ত যখন আমার ঠোঁটের কাছে, নাকের কাছে উষ্ণতা পেলাম আমি তখন আর চোখ বন্ধ করে থাকতে পারলাম না । ডিম লাইটের নীল আলোতে ওর চোখের তারা জ্বলে উঠলো । Continue reading

লাভ ইন ওমান পর্ব -১৩

ভেজা চুলগুলো মুছতে মুছতে ও রুমে এল। আমি বললাম,” এই মেয়ে দেখনি যে হেয়ার ড্রায়ার আছে। চুল শুকিয়ে আস নইলে এয়ার কন্ডিশনের ভেতরে ঠাণ্ডা লেগে যাবে। কাল মাথা ব্যাথায় মাথা আর তুলতে পারবে না।“ বুঝলাম ও খেয়ালই করেনি যে বেসিনের সাথেই ঝুলছে হেয়ার ড্রায়ারটা। তাছাড়া বাংলাদেশে তেমন কেউ ব্যা্বহার করে না । টেনে নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়া করিয়ে ওর হাত থেকে চিরুনি নিয়ে অন করে দিলাম। আর ওর পেছনের লম্বা চুলগুলো গরম বাতাস দিয়ে শুকোতে লাগলাম। ও আয়নার ভেতর দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল সেটা আমি বুঝতে পারিনি । Continue reading

লাভ ইন ওমান পর্ব -১২

আমার হাত আবার শক্ত করে ধরে বলল,” যদি কেউ না আসে তাহলে তো আমাদের দম বন্ধ হোয়ে মরতে হবে। “ আমি হেসে ফেললাম। বললাম,” বোকা মেয়ে এই দেখ কতগুলো ছোট্ট ছোট্ট ছিদ্র । এখান দিয়ে বাতাস আসছে। হাত দাও ফিল করতে পারবে। কেউ না কেউ আসবেই । তাছাড়া আমি নিশ্চিত যে সিকিউরিটি ক্যামেরা বা সুইচ বোর্ড, কোথাও না কোথাও জানতে পারবে যে আমরা এখানে আটকা পড়েছি। তাছাড়া আমরা এখনো মাটিতেই আছি। দুই ফ্লোরের মাঝে আটকা পড়িনি ।“ Continue reading

লাভ ইন ওমান পর্ব -১১

জীবনটা অনেকসময় এমনভাবে আমাদের সামনে চলতে থাকে মনে হয় যে আমরা ইচ্ছে করলেও এই ভাবে ঘটনাটা ঘটাতে পারতাম না । ভালোবাসার এই ফাঁদ পাতা ভুবনে, কখন কিভাবে যে কে কোথায় ধরা পরে যায় তা কেই বা জানে ? আচ্ছা, যদি এমন হত যে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ জানতে পারতাম আগে থেকেই । আগে থেকেই দরকার নেই যদি আমরা ১০ মিনিট আগে জানতে পারতাম যে আমাদের জীবনে কই হতে যাাচ্ছে তাহলে কি ভবিষ্যৎ, ভাগ্য, নিয়তি এ ধরনের কোন শব্দ থাকতো ? আমারতো মনে হয় মানুষের আগে থেকে জানার কোন প্রয়োজনীয়তা নেই । এভাবেই আমরা ভাল আছি। জীবনের এই সারপ্রারাইজগুল আছে বলেইতো জীবনটা এতো মধুর । Continue reading

লাভ ইন ওমান পর্ব -১০

লিফট এসে থামল আর অটোটোম্যাটিক দরোজাটা খুলে গেল। কেউ নেই ভেতরে। আমি লবির নাম লিখা বাটনটা প্রেস করতেই ছুটে চলল নীচের দিকে। লিফটের ভেতরে ও মুড অফ করে এক কোণায় দাঁড়ালো। আমার খুব খারাপ লাগলো ওর মুড খারাপ থাকাতে। অটোটোম্যাটিক দরোজাটা খুলে গেল আবার । আমরা লবিতে ঢুকে দাঁড়ালাম চারিদিকে কোথায় কি আছে সেটা দেখার জন্যে । যাকে বলে স্ক্যান করে নেয়া । লবিতে আসার সময়েই আমি খেয়াল করলাম সে নিজের অজান্তেই আমার হাত ধরে ফেললো । Continue reading

লাভ ইন ওমান পর্ব – ৯

আমাদের লাগেজ বেল বয় নিয়ে আমাদের তাকে ফলো করতে বলল। লিফট নিয়ে ১৭ তলায় এল সে আর আমরা তাকে ফলো করে রুমে এলাম। আমাদের সাহায্য করার জন্যে থ্যাংকস জানিয়ে ক’টা ডলার টিপস দিলাম। বেল বয় চলে যাবার পর দরজাটা বন্ধ করে দিলাম। রুমের ভেতরে ঢুকে চোখ জুড়িয়ে গেল । স্পারক্লি ক্লিন, হালকা আলোতে কেমন যেন একটা রোম্যান্টিক ভাইব সারা রুমটাকে ঘিরে রেখেছে। মনে হচ্ছিলো যে হানিমুন সুইট। আমি ভারী পর্দাটা একটু সরিয়ে দিতেই পুরো রুম সাইজ ডোর দিয়ে ঝকমকে আলো চলে এল। দেখলাম যে সারা মাস্কাট শহরটা দেখা যাচ্ছিলো । Continue reading

লাভ ইন ওমান পর্ব – ৮

একথা শুনে আমাকে একটা খামচি মেরে দিলো । আমি হাসতে হাসতে বললাম,” শোন মেয়ে, খামচি মারতে হয় নিজের জামাইকে মারো গিয়ে… পরের জামাইকে খামচি মারছ কেন ?’ আবারো কেমন যেন অসহায়ের মতো আমার দিকে চোখ তুলে তাকাল আর আমিত

ঘণ্টা খানেক পর আমরা মাস্কাট ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, সালতানাত অফ ওমানে নামলাম । ওর পাশের জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখলাম আর মনে হোল যে করাচীর চেয়ে অনেক ছোট সিটি এই মাস্কাট । গালফ অফ ওমানের সাথেই লাগানো এই সিটি । একদিকে নীল জল আর একদিকে ঘন ক্রিম কালারের মাটি। আমাদের দেশের মতো সবুজ না। তবে এরা চেষ্টা করছে সবুজ বিপ্লব করার জন্য। মাঝে মাঝেই বেশ সবুজের ছড়াছড়ি ।এদের জীবন আগে খুবই কথিন ছিল কিন্তু পেট্রো ডলারের কারণে ওদের জীবন এখন অনেক ঝামেলাহীন। উপর থেকে দেখে বেশ ছিমছাম মনে হোল কিন্তু সবকিছুই কেমন যেন ঘোলাটে । Continue reading

লাভ ইন ওমান পর্ব – ৭

কিছুটা সঙ্কোচের ছায়া দেখতে পারছিলাম ওর চোখে যে প্লেনের ভেতরে কেউ কি পা উঠিয়ে বসে এমন একটা। আমি হেসে বললাম, “ডোন্ট ওয়রি… অনেকেই লং জার্নিতে পা উঠিয়ে বসে। এই দেখ আমি পা উঠিয়ে বসি।” বলে আমি পা উঠিয়ে একটু বাঁকা হোয়ে বসলাম। দেখে ও হেসে ফেলল। আস্তে আস্তে দু’টো পা একটু এগিয়ে দিয়ে সুন্দর মুখটা ওর আরো সুন্দর লাগলো। ধব্ ধবে সাদা দুটো মানিকিয়র করা পা ওর। দারুণ গভীর নীল রঙের নেইল পলিশের উপরে সাদা দাগ দেয়া ফ্রেঞ্ছ ডিজাইন করা নখগুলো আমি এক সেকেন্ডেই খেয়াল করলাম। স্টাইল জানে মেয়েটা। Continue reading

লাভ ইন ওমান পর্ব – ৬

আমি বুঝতে পারছিলাম যে সে আমাকে ট্রাস্ট করেছে আর সেই ট্রাস্ট আমি কখনই ভাংবনা কিন্তু একই সাথে আমি একজন তরতাজা যুবক। আমি ওকে একটু ছুঁয়ে দিতে চাচ্ছিলাম। ওকে দেখতে এত নিস্পাপ আর নির্মল লাগছিলো যে শুধু একবার তাকে ছুঁয়ে দেখতে চাচ্ছিলাম যে সে কি বাস্তব নাকি কল্পনা? আহমদ সফা বলেছিল,”নারী, অর্ধেক বাস্তব তুমি অর্ধেক কল্পনা।” কিন্তু আমি নিজের কাছেই একটা প্রতিজ্ঞা করলাম ওর নিস্পাপ মুখের দিকে তাকিয়ে যে কোনমতেই আমার সম্পর্কে ওকে এতোটুকু খারাপ ভাবতে দেবনা। একটা কোন সুযোগ ওকে দেবইনা যাতে ও আমাকে নিচু চোখে দেখতে পারে । Continue reading

লাভ ইন ওমান পর্ব – ৫

আমি তাকে তাড়াতাড়ি কেউ দেখে ফেলার আগেই ট্যাক্সিতে বসতে বলার সময় আমার মনে হোল আমি বোধহয় ওর চোখে খানিকটা চিন্তার একটা ছায়া দেখতে পেলাম। আবারো তাড়া দেয়ায় সে ট্যাক্সিতে উঠে বসলো। আমিও পেছনের সিটে ওর সাথেই বসলাম। ট্যাক্সিটা ক্লিফটন বীচের দিকে ছুটে চলল। আমি এর আগে বেশ ক’বার বীচে ঘুরতে গিয়েছি আমার পাকিস্তানি বন্ধুদের সাথে বিশেষ করে যখনই আমি করাচীতে স্টপ ওভার করেছি। Continue reading

লাভ ইন ওমান পর্ব – ৪

আমি ওকে দেখছিলাম আর বারবারই মনে হোচ্ছিল যে সে একটা এমিউজমেনট পার্ক এ চলে এসেছে। দোকানের খুব উজ্জ্বল আলো যখন ওর উপরে পড়ছিল, আর যখন ও হাসছিল তখন মনে হোচ্ছিল যে ওর হাসি ১০০০ ভোল্টের। আমি তাকে বললাম যে অতো ক্রেজি নাহলেও চলবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম যে কিছু কিনবে কিনা। আর সে বেশ দৃঢ়তার সাথে উত্তর দিল,”অফ কোর্স।” আমি ওর বোল্ডনেস দেখে বেশ অবাক হোলাম কিন্তু একই সাথে ওর মধ্যে কি এক আশ্চর্য সুইটনেস আছে। “তাই নাকি? তাহলে কিছু একটা বা দু’টো কিনে ফেল।” Continue reading

লাভ ইন ওমান পর্ব – ৩

এই প্রথমবারের মতো সে যাচ্ছে। সে তার বরের ছবি দেখাল। আমি ভালো মন্দ কোন কমেন্ট করলাম না ইচ্ছে করেই। তবে আমি জানতে চাইলাম যে ওর বর ওকে নিয়ে যেতে কেন আসেনি কিন্তু সে কোন উত্তর দিতে পারলনা যে কেন ওর বর ওকে নিতে আসতে পারেনি। তবে এটাও বললাম যে হাজারো কারণ থাকতে পারে তাছাড়া ওটা তার নিতান্তই ব্যক্তিগত বিষয় । কাজেই আমি আর ওই ব্যাপারে আগ্রহ দেখালাম না। শুধু একটা টিস্যু দিলাম চোখের জল মুছে ফেলার জন্যে । Continue reading

লাভ ইন ওমান পর্ব – ২

সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমি আস্তে আস্তে এগুলাম কাস্টম আর ইমিগ্রেশনের দিকে আর তখনি দেখলাম যে ও আসছে পিছু পিছু। আমি একটু দাঁড়ালাম ওর জন্যে। আমাদের লাগেজ ততোক্ষণে চলে গিয়েছিল বলে শুধু একটা বড় ব্যাগ আর একটা ভানিটি ব্যাগ নিয়ে হাঁটছিল কিন্তু দুটো ব্যাগ একসাথে সামলাতে পারছিল না। আমি ও কিছু বোঝার আগেই ওর কাঁধ থেকে বড় ব্যাগটা নিয়ে নিলাম। আমাকে থ্যাংকস জানাল আর ওই প্রথম ওর আওয়াজ শুনলাম। ভারী মিষ্টি লাগলো ওর আওয়াজটা। আমি ওর কাছে ওর পাসপোর্ট চাইলাম আর সাথে আমার পাসপোর্টসহ ইমিগ্রেশন অফিসারকে দিলাম ডিপারচার সিল দেয়ার জন্যে । আমি আবারো ওর চাকা ছাড়া বড় ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে ওর সাথে চলতে লাগলাম। Continue reading

লাভ ইন ওমান পর্ব – ১

Zia International Airport-At Night-Dhaka

মানুষের জীবনটা সত্যি বিচিত্র। বিখ্যাত আমেরিকান লেখক মার্ক টোআইন বলেছিলেন,” Truth is stranger than fiction” যেমন করে বাস্তব কল্পনাকেও ছাড়িয়ে যায় তেমনি করে মানুষের জীবনে ঘটে যায় কিছু কিছু ঘটনা যা মাঝে মাঝে কল্পনাকেও হার মানায়। এক জীবনে কখন যে কে কোন দিক দিয়ে এসে কিভাবে নিজের জীবনের সাথে মিশে যায় সেটা কেউ বলতে পারে না। কোন রাস্তার মোড়ে কে যে কার জন্যে দাঁড়িয়ে আছে যেমন কেউ বলতে পারেনা তেমনি জীবনের চলার পথের কোন বাঁকে কার হাত যে ছুটে যায় আর কে যে আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে যায় সেটাও কারো পক্ষে আগে থেকে আঁচ করা সম্ভব না। Continue reading